শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর, ২০১৪ ১৪:৫১
প্রিন্ট করুন printer

নিত্য নৈমিত্তিক

নিত্য নৈমিত্তিক
Google News

শিক্ষা জীবনের কিছু স্মৃতি নিয়ে সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্টাটাস দিয়েছেন শামিমা দোলা। পাঠকদের জন্য স্টটাসটি তুলে ধরা হলো।

সদ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি, ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। স্কুলের তিন বান্ধবী একসাথে ইউনিভার্সটিতেও জোট বেধেঁ চলি!! আমাদের তিন জনের এই জোট নিয়ে কত জন যে কত মজা করতো! তিনজনের বাসাও শান্তিবাগে। রোজকার মত সেদিনও ইউনিভার্সিটি যাচ্ছি। হাটছি, রিক্সা খুঁজছি, আর গল্প করছি মশগুল হয়ে। যেসব গল্পের কোন আগা মাথা নেই। কখনও কোন কথায় হেসে গড়িয়ে পড়ছি। আশপাশে কোন কিছুতে আমাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। হঠাৎ আমার পাশ দিয়ে কেউ একজন কানের কাছে খুব বাজে কিছু বলে দ্রুত চলে গেল। তিনজনেই ফিরে তাকালাম। অবাক হলাম লোকটাকে দেখে। খুবই হ্যান্ডসাম একজন এই বাজে কাজটি করে চলে গেলেন। লোকটিকে দেখে শিক্ষিত, মার্জিত ও রুচি বোধ সম্পন্ন মনে হচ্ছিল। নিজেদের কানকেই বিশ্বাস হচ্ছিল না!! আসলে এই লোকটিই কি এরকম নোংরা, রুচিহীন কথাটি বলেছে!! আমরা ঠিক শুনেছি তো!!!! লোকটি ততক্ষণে হওয়া!!!!! এত্ত নোংরা কথা বলেছিল যে আমার মত শক্ত মেয়েটির চোখেও পানি চলে এসেছিল। সারাদিন ঘুরে ঘুরে এই আজে কথাটিই কানে বাজছিল।

কিছু দিন বাদে একে একে আমার বাকি দুই বান্ধবীও এই নোংরা বাক্যবানের শিকার হলো!!! আমাদের আর বুঝতে বাকি রইলো না এই লোকের বাসা মালিবাগ কিংবা শান্তিবাগের আশপাশেই হবে। কোন উঠতি, পড়তি কিংবা পাতি মাস্তান আমাদের কিছু বললে কাউকে বিনা প্রতিবাদে ছাড়িনা। তবে প্রতিবাদ চড়াবো, থাপড়াবো এই পর্যন্তই। কাউকে আক্ষরিক অর্থে তখনও চড়াইনি। এই শয়তানেরে শায়েস্তা করতে তিনজনেই প্রতিজ্ঞা করলাম, বেটা এরপর সামনে পড়লেই মাইর হবে।

একদিন পেয়ে গেলাম সেই সুযোগ!!! ভার্সিটি থেকে ফিরছি। তিনজনে রিক্সায় বসা। মালিবাড় মোড়ে সিগনালে আটকে আছি। হঠাৎ দেখলাম এই ভদ্রলোক হেঁটে যাচ্ছেন। রিক্সা ছেড়ে দৌড়ে তিনজনে পিছু নিলাম তার। আমার বান্ধবী আগে নাগালে পেয়ে গেল, দিল পিছন থেকে কষিয়ে এক থাপ্পড়। হঠাৎ থাপ্পড় খেয়ে বেটা ভ্যবাচ্যাকা পেছনে তাকালো, সাথে সাথে তার এক গালে ঠাস করে এক চড় বসিয়ে দিল আমার অন্য বান্ধবী, আর সবশেষ চড়টা দিলাম দিলাম আমি। তিনজনেরই হাত এমন শক্ত! লোকটার টসটসে ফর্সা গালে আঙ্গুলের ছাপ বসে গেল। সমস্বরে বললাম, এবার বল, বল, তুই মেয়েদের দেখলে যেসব কথা কানে কানে বলে চলে যাস, সেগুলো আবার বল। বল।। ততক্ষণে অনেক লোক জড়ো হয়ে গেছে। আমার বান্ধবীর পায়ে ছিল নেপাল থেকে আনা এক জোড়া কাঠের জুতা। সেই জুতা খুলে মারতে গেল আমার বান্ধবী। উপস্থিত জনতার একজন ঠেকিয়ে দিয়ে প্রাণপনে অনুরোধ করলেন, আপা, আপা এটা দিয়ে মারবেন না, প্লিজ। ওনার যথেষ্ট শিক্ষা হয়েছে।।।লোকটার তখন ছাইড়া দে মা !!! কাইন্দা বাঁচি অবস্থা!!

এরই মধ্যে জটলায় আটকে পড়া রিক্সারোহী এক ভদ্দরলোক হঠাৎ প্রতিবাদী হলেন। লোকটাকে উদ্ধার করতেউদ্যেগী হলে। ত্রাণকর্তার ভুমিকায় অবতীর্ণ এই তদাকথিত ভদ্রলোক তেড়ে আসলেন, মেয়েদের এমন দু:সাহস দেখে। প্রশ্ন তুললেন কেমন পরিবারের মেয়ে আমরা। পাল্টা জবাব দিয়ে আমরাও বুঝিয়ে দিলাম, এত্তক্ষণ নিজেরা মেরেছি, এখন পুলিশে দেবো। সাথে ত্রাণকর্তাকেও পাঠাবো শ্রীঘরে। পাশেই রাজারবাগ পুলিশ লাইন। আর আমরা বড় হয়েছি সেখানেই। তাই অনেক কিছুই আমাদের জানা। ত্রাণকর্তাকে তার স্ত্রী এবার ধমকে থামালেন। আমাদের হুমকি শুনে ভদদ্দরলোক একবারে চুপসে গেলেন। দ্রুত ভাগলেন সেখান থেকে।

উপস্থিত জনতার অনুরোধে আসামীকে থানায় না দিয়ে তাকেও ছেড়ে দিলাম। আসলে এর বেশি কিছু করার ক্ষমতাও তো আমাদের ছিল না। ছাড়া পেয়ে আসামী আর দুদন্ড অপেক্ষা করলো না সেখানে। আমরাও বীরদর্পে বাসায় ফিরলাম। বাসায় ফিরে কিন্তু কাউকে বললাম না এই বীরত্ব গাঁথা।।

এখনো ভেবে পাইনা লোকটা তার গালে চড়ের দাগ বিষয়ে কি ব্যাখ্যা দিয়েছিল তার স্ত্রীকে!!!!

বিডি-প্রতিদিন/ ১৯ নভেম্বর ১৪/ সালাহ উদ্দীন


 

এই বিভাগের আরও খবর