শিরোনাম
প্রকাশ : ২ এপ্রিল, ২০২০ ১২:৪৭
আপডেট : ২ এপ্রিল, ২০২০ ১৫:৪৫

অসীমের পানে আপনার এই যাত্রা শান্তিময় হোক, বিদায় ডিলু ভাই

আনোয়ার হোসেন মুকুল

অসীমের পানে আপনার এই যাত্রা শান্তিময় হোক, বিদায় ডিলু ভাই
সদ্য প্রয়াত সাবেক ভূমিমন্ত্রী, পাবনা-৪ আসনের (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) সংসদ সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষাসৈনিক শামসুর রহমান শরীফ ডিলু

সেই কালে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার লক্ষ্মী কুণ্ডা নামের এক দুর্গমচর এলাকা থেকে রাজনীতির মাঠে উঠে এসেছিলেন একজন ডিলু মিয়া । ঈশ্বরদী তথা পাবনা জেলার নাম করা সব রাজনীতিবিদের স্নেহ সমর্থন আর ভালোবাসার সাথে রাজনীতির প্রতি গভীর একাগ্রতাই এই ডিলু মিয়াকে ধীরে ধীরে নিজের লক্ষ্মী কুণ্ডা ইউনিয়নের মেম্বার তারপর চেয়ারম্যান বানিয়ে দেয়। রাজনীতি আর দলের নানা সংকুল পথ বেয়ে ধীরে ধীরে তিনি উপরে উঠতে থাকেন। আশেপাশের সবাইকে পেছনে ফেলে রাজনীতির জটিল পথে অনেকবারই তিনি ছিটকে পড়েছেন । কিন্তু হাল ছেড়ে দেন নাই । মানুষের কাছে রায় চেয়েছেন মানুষ ফিরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তিনি দমে যাননি। জমিজিরাত বিক্রি করে আত্মীয় পরিজনের সাহায্য সহযোগিতাকে অবলম্বন করে রাজনীতির সাথেই থেকেছেন। জেল খেটেছেন। নির্যাতন সহ্য করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।

তার রাজনীতির কঠিন দুঃসময় ১৯৯১ থেকে১৯৯৫ পর্যন্ত তার পাশে থেকে তাকে আমি একজন প্রথাগত পেশাদার কর্মী বান্ধব রাজনীতিবিদ হিসেবেই দেখেছি। তখন তিনি তাই ছিলেন। আমাকে তিনি খুব স্নেহ করতেন। আমার কথাকে গুরুত্ব দিতেন। কোনদিনই আমার সাথে রাগ করে কথা বলেন নাই। সেইসময় আভ্যন্তরীণ কোন্দলে দল তাকে বহিষ্কার করলেও কর্মীদের কাছে তিনিই ছিলেন সভাপতি, তিনিই ছিলেন নেতা। 

তারপর নানা কারণে ১৯৯৫ সালে আমি স্থায়ীভাবে দেশ ত্যাগ করি। দূরদেশে থেকেও প্রিয় ডিলু ভাই-এর খোঁজ নিতাম। তিনিও একে ওকে ডেকে আমার খোঁজ নিতেন। মাঝে মাঝে আব্বার সাথে দেখা হলে আমার কথা জিজ্ঞেস করতেন। কানাডা থেকে কেউ গেলে বা ফোন করলে আমার কথা জানতে চাইতেন। কিন্তু আমার সাথে তার আর কোনদিনই দেখা হয়নাই। অথচ আমাদের পরস্পরের বাড়ির দূরত্ব ছিল মাত্র কয়েক মিনিটের হাঁটা পথ।

রাজনীতি বদলে যেতে থাকে। এক কলঙ্কিত রাজনীতির ঘুট ঘুটে অন্ধকারে প্রবেশ করে প্রিয় বাংলাদেশ। এলাকাবাসীর চিরচেনা সেই ডিলু ভাই হারিয়ে যান শামসুর রহমান শরীফ নামের আড়ালে । এম  হয়ে ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। আমাদের এলাকার মানুষ কমরেড জসিম মণ্ডল, আলাউদ্দিন আহমেদ নামের খ্যাতনামা নেতাদের দেখেছেন। কিন্তু মন্ত্রী দেখেন নাই। শামসুর রহমান শরীফ আমাদের সেই আকাঙ্ক্ষাকে পূর্ণতা দিয়েছেন। কিন্তু মানুষ অবাক বিস্ময়ে তাদের সেই প্রিয় ডিলু মিয়াকে আর খুঁজে পান না, যাকে দেখেন তিনি শামসুর রহমান শরীফ। মানুষ আশাহত হয়। ভাবে এসবই তাদের কপাল ।

ডিলু মিয়া বা ডিলু ভাই-এর রাজনীতির এই দুই পর্বই হচ্ছে আমাদের রাজনীতিরই স্পষ্টত দুই কাল। আজ বার্ধক্য জনিত অসুস্থতায় থেকে আমাদের পাবনা জেলা তথা ঈশ্বরদীর রাজনীতির মাঠে একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন দাপিয়ে বেড়ানো সেই ডিলু ভাই পরলোক গমন করেছেন। অসীমের পানে আপনার এই যাত্রা শান্তিময় হোক এই কামনাই করছি। বিদায় ডিলু ভাই।

লেখক : সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি, নাগরিক ঐক্য।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য