শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল, ২০২১ ১২:১৬
প্রিন্ট করুন printer

ধিক্কার দেই এই জঘন্য মানসিকতার

অধ্যাপক ডা. মুনিরা ফেরদৌসী

ধিক্কার দেই এই জঘন্য মানসিকতার

আপনারা কি জানেন সারাদিন পিপিই পরে, এন৯৫ মাস্ক পড়ে রোগী দেখতে কতো কষ্ট হয়? আপনারা কি জানেন এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এইসব ড্রেস পরে চিকিৎসকরা কিন্তু এসি এর হাওয়া খায় না৷ মাথার উপরে কোনরকমে একটা ফ্যান যদি পাওয়া যায় সেটাই আশীর্বাদ ৷ কী ভীষণ একটা দুর্যোগময় জীবন কাটাচ্ছি আমরা৷ প্রতিনিয়ত আশঙ্কা আর আশঙ্কা৷ কী ভীষণ অক্সিজেনের অভাব৷ এতো অক্সিজেনের অভাব আমরা কীভাবে পূরণ করবো? এই একটা বছর প্রতিটা মুহূর্ত আমরা জানবাজি রেখে লড়ে যাচ্ছি৷ ঘরে বাচ্চা, বয়স্ক বাবা-মা রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি৷ হ্যাঁ, আপনারাও সবাই কাজ করছেন। কিন্তু আমাদের মতো এরকম সরাসরি কোভিড রোগী দেখছেন? আপনারা কি দেখছেন কোভিড পজিটিভ হয়ে তথ্য গোপন করে যেসব রোগী আসছে তাদেরকে? দেখছেন না৷ আমরা সেই সব রোগী দেখছি৷ তাহলে আমাদের সাথে কেনো আপনাদের লড়াই হবে? সম্মান করতে শিখুন৷ একজন মহিলা চিকিৎসককে একা পেয়ে তাঁর সাথে তো আরও নমনীয় ব্যবহার করাই যেতে পারতো৷ যেতো না? সাঈদা শওকত যখন বলছেন যে উনি ভুলে গেছেন আইডি কার্ড আনতে কিন্তু উনার কাছে বিএসএমএমইউ র প্রত্যয়নপত্র , গাড়িতে লোগো, এপ্রোনে লোগো আছে তারপরেও কেনো তার সাথে এই আচরণ হবে? কেনো তাকে উত্তেজিত করা হলো? কে এই প্রশ্নের উত্তর দিবে? আমি ধিক্কার দেই এই জঘন্য মানসিকতার৷ 

এক ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবের ব্যবহারের কথা আমি বলতে চাই যাঁকে কিনা আমি চিনতামই না৷ কি সম্মান নিয়ে তিনি আমার সাথে কথা বলেছেন! কীভাবে আমাকে অগলে রেখেছিলেন! মানুষের পরিচয় তার ব্যবহারে৷ সবাই একরকম হয় না৷ এই কঠিন বিপদে আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে৷ সবাইকে বুঝতে হবে আমরা ভীষণ ভীষণ মানসিক চাপে আছি৷ আপনারা সবাই আমাদেরকে সাহায্য করুন৷ হয়রানি না করে আসুন আমরা সবাই সবার পাশে এসে দাঁড়িয়ে এই মহামারীর হাত থেকে আমাদের দেশের মানুষকে রক্ষা করি৷

 

লেখক: প্রসূতি, স্ত্রীরোগ, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ ও সার্জন

 

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা