শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:২৪

করোনা মোকাবিলায় সঠিক নেতৃত্বে বিশ্বে প্রশংসিত প্রধানমন্ত্রী

রফিকুল ইসলাম রনি

করোনা মোকাবিলায় সঠিক নেতৃত্বে বিশ্বে প্রশংসিত প্রধানমন্ত্রী
ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল। করোনার কারণে পৃথিবীতে ১ কোটি ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। উন্নয়নশীল দেশসহ অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান করোনার সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা করোনাভাইরাস সঠিকভাবে সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছি। এতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের অনেক দেশ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রশংসা পেয়েছেন। জীবন ও জীবিকা চলমান রয়েছে।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেই কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মনুষ্য সৃষ্টি দুর্যোগও মোকাবিলা সঠিকভাবে করতে সক্ষম। অন্য যারাই সরকারে এসেছে, তারাই দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ফলে সে সময় নানা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এখন আমরা দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছি। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সঠিক নেতৃত্ব। বর্তমানে করোনা মহামারীতে বিশ্ব যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর সঠিক নেতৃত্বে আমরা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। তিনি বলেন, করোনার মধ্যেই ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, বন্যা হানা দেয়। এতে একজন মানুষও না খেয়ে মারা যায়নি। বর্তমান সরকার দুর্গতদের পাশে আছে। 

ক্যাপ্টেন তাজ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার মানুষের ভাগ্যের উন্নতির জন্য সারা জীবন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, আন্দোলন করেছেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট অত্যন্ত নির্মমভাবে তাঁকে সপরিবারে হত্যা করার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের আকাক্সক্ষাকে স্তব্ধ করা হয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে এসে বাঙালিকে আবার সংগঠিত করার জন্য ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছেন সাধারণ মানুষ, তারা  ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। মেজর জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদের দুঃশাসন, লাঞ্ছনা-গঞ্জনা মোকাবিলা করে সেদিন শেখ হাসিনা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন এবং সকল মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। সেই দীর্ঘ সময় লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে মানুষের অধিকার আদায়ের মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালে প্রথম বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরে দীর্ঘদিনের খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। খাদ্যের সংকটের মাঝেও শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছে। 

এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হচ্ছে, তখন একটি গোষ্ঠী ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আমরা এগিয়ে যাবই। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না। তিনি বলেন, পাকিস্তানি প্রেতাত্মা গোষ্ঠীর আস্ফালন মেনে নেওয়া হবে না। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে পাকিস্তানি ভাবধারার গোষ্ঠীর ঠাঁই হবে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের এমপি ক্যাপ্টেন তাজুল ইসলাম বলেন, একটা সময় বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যার নির্দেশে উপজেলাকে এখন আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত করেছি। গ্রামে গ্রামে ঘুরে আমরা দলকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করেছি। এখানে আওয়ামী লীগ এতই শক্তিশালী যে, বিগত উপজেলা-পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীই খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কারণে তাদের জামানত হারানোর ভীতি কাজ করে।


আপনার মন্তব্য