শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৩ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মে, ২০২১ ২৩:৪৬

কালো টাকা বৈধর সুযোগ বাতিল চাই

নিজস্ব প্রতিবেদক

কালো টাকা বৈধর সুযোগ বাতিল চাই
Google News

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, কালো টাকা সাদা করার যে অনৈতিক সুযোগ, তা বন্ধ করা উচিত। চলতি বাজেটে সরকার ঢালাওভাবে যে সুযোগ দিয়েছে তা অনির্দিষ্ট মেয়াদে বাড়ানো দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে। কালো টাকা যত দিন আছে তত দিন সুযোগ থাকবে অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্য বিস্ময়কর। আগামী বাজেটে এ অবৈধ সুযোগ বন্ধ করতে হবে। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে কালো টাকা সাদা করার এমন সুবিধা সৎ ও বৈধ আয়ের ব্যক্তি করদাতাকে নিরুৎসাহিত করবে। করব্যবস্থায় খেলাপির সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ঝুঁকি তৈরি করবে। আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ না রাখায় দেশে দুর্নীতিসহায়ক একটি উদার পরিস্থিতি তৈরি হবে, যা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে দুর্বল করার মাধ্যমে আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার যে কোনো চেষ্টাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতার’ নীতির প্রতি সামঞ্জস্য রেখে ২০২১-২২ অর্থবছরের নতুন বাজেটে কালো টাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ বাতিল করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি। এ-জাতীয় সুযোগ দুর্নীতিবাজদের জন্য করোনাকালে নতুন প্রণোদনা হিসেবে বিবেচিত হবে। এমন অপরিণামদর্শী ও আত্মঘাতী পরিকল্পনা থেকে সরকার সরে আসবে সেটিই প্রত্যাশা সবার। মাত্র ১০ ভাগ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকলে সৎ করদাতারা কেন সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ৩০ ভাগ কর দেবেন? সাময়িকভাবে এমন সুযোগ থেকে সরকার কিছুটা রাজস্ব পেলেও ধীরে ধীরে তা বড়সংখ্যক করদাতাকে খেলাপি হতে উৎসাহিত করবে, যা দীর্ঘ মেয়াদে রাজস্ব ক্ষতির মাত্রাকে বাড়িয়ে দেবে এবং কর খেলাপির নতুন এক সংস্কৃতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করবে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রেকর্ড ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ বৈধ করা হয়েছে। এটা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের প্রতি এক রকম উপহাস বলা চলে। কেননা মহামারীর মধ্যেও বিপুল অর্থ সাদা করার প্রবণতাই বলে দেয়, দেশে একটি দুর্নীতিসহায়ক ব্যবস্থা বিদ্যমান। সেটি যে কোনো পরিস্থিতিকেই নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য কাজে লাগাতে প্রস্তুত দুর্নীতিগ্রস্তরা। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বৈধ পথে অর্থ উপার্জনকারী করদাতা থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠন বিভিন্ন সময় ঢালাও এ সুযোগের বিরোধিতা করলেও সরকার এতে কর্ণপাত করেনি। সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। এ ক্ষেত্রে দূরদৃষ্টি, সংবিধান ও আইনের শাসনের প্রতি সরকার আনুগত্য দেখিয়ে আসন্ন বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল করবে- এমনটাই আশা। কালো টাকার মালিকদের সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের মাধ্যমে কার্যকর জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্‌বান জানাচ্ছি, যাতে দুর্নীতির মহোৎসবের হ্রাস টেনে ধরা যায়।

এই বিভাগের আরও খবর