রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

রাজস্বের ৯ হাজার মামলা উচ্চ আদালতে

আরাফাত মুন্না

রাজস্বের ৯ হাজার মামলা উচ্চ আদালতে

উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে রাজস্ব-সংক্রান্ত প্রায় ৯ হাজার মামলা। সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাই কোর্ট বিভাগে বিচারাধীন এসব মামলায় আটকে আছে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়। তাই এবার এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। রাজস্ব মামলার শুনানিতে আদালতকে সহায়তা করতে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ও গঠন করেছে বিশেষ আইনজীবী প্যানেল। পাঁচ সদস্যের এই প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন নিজেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, সুপ্রিম কোর্টের দুই বিভাগে (আপিল ও হাই কোর্ট) বিচারাধীন প্রায় ৯ হাজার মামলার মধ্যে হাই কোর্টে রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে ৬০৫টি আপিল বিচারাধীন। এসব মামলায় জড়িত আছে ৪ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা রাজস্ব। হাই কোর্টে ৫ হাজার ৩৪৭টি রিট আবেদনের বিপরীতে রাজস্ব আটকে আছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া ট্যাক্স ও ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে ২ হাজার ৭৮৮টি আপিল আবেদন বিচারাধীন। এখানে ৩ হাজার ২৩২ টাকা রাজস্ব আটকে আছে।

সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানায়, রাজস্ব-সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে হাই কোটের্র চারটি দ্বৈত বেঞ্চকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বর্তমানে করোনার কারণে হাই কোর্টের নিয়মিত বেঞ্চ বন্ধ থাকায় রাজস্ব মামলার শুনানিও আটকে আছে। তবে সশরীরে বা ভার্চুয়াল পদ্ধতি, যে কোনোভাবে হাই কোর্টের স্বাভাবিক বিচার কাজ শুরু হলেই রাজস্ব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্র আরও জানায়, হাই কোর্টের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চে নিয়মিতভাবে নিষ্পত্তি হচ্ছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় সূত্র জানায়, রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তিতে আদালতকে সহায়তা করতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠন করা পাঁচ সদস্যের আইনজীবী প্যানেলে রয়েছেন দুজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও দুজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।

দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা রাজস্ব-সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকেও আমরা আদালতকে সহযোগিতা করছি। যাতে দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়। তিনি বলেন, এসব মামলার কারণে সরকারের রাজস্ব আদায় বন্ধ রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি হলে সরকার রাজস্ব আদায় করতে পারবে। ফলে বহুগুণে রাজস্ব আদায় বাড়বে।

জানা গেছে, উচ্চ ও নিম্ন আদালতে দায়েরকৃত মামলার কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওনা হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারছে না। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পদক্ষেপ নিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয় এনবিআর। পরে রাষ্ট্রপক্ষে এসব মামলা পরিচালনা করতে বিশেষ আইনজীবী প্যানেল গঠন করে।

এনবিআর-সূত্র জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ভ্যাট বা ট্যাক্স নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সুযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। এ ক্ষেত্রে এনবিআরের অ্যাপিলেড ট্রাইব্যুনালে আবেদন বা উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করা যায়। রিট দায়েরের পর উচ্চ আদালত আবেদন খারিজ করে এনবিআরে পাঠাতে পারে। সে ক্ষেত্রে এনবিআরের অ্যাপিলেড ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হয়। এজন্য দাবিকৃত অর্থের ১০ শতাংশ পরিশোধ করতে হয়। অ্যাপিলেড ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনীয় শুনানি শেষে রায় দেয়। এরপর বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান ফের উচ্চ আদালতে আপিল করে। এভাবে গড়িয়ে যায় বছরের পর বছর। এনবিআরের অ্যাপিলেড ট্রাইব্যুনালের আওতায় আয়কর খাতের জন্য সাতটি বেঞ্চ এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ও শুল্ক খাতের জন্য তিনটি বেঞ্চ রয়েছে। এসব বেঞ্চে অ্যাপিলেড ট্রাইব্যুনালের দুটি শাখায় মামলা-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম শুনানি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

 

এই বিভাগের আরও খবর