Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মে, ২০১৯ ২৩:২৮

ঈদ ভ্রমণে স্বাস্থ্য সতর্কতা

ঈদ ভ্রমণে স্বাস্থ্য সতর্কতা
ছবি : রোহেত রাজীব

ঈদুল ফিতর সমাগত। মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব এটি। সবাই চায় এই সময়টাতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে। ঈদ ভ্রমণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং সতর্কতা নিয়ে অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ’র সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত লিখেছেন -শামছুল হক রাসেল

 

ঈদুল ফিতর সমাগত। এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ হলো আনন্দের দিন। আর এই আনন্দের অন্যতম আকর্ষণ হলো নাড়ির টানে পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে গ্রামের বাড়ির পথে ছুটে চলা। এই সময়টাতে অনেককেই ভ্রমণ করতে হয় বাস, ট্রেন, লঞ্চ অথবা বিমানে। প্রচন্ড  ভিড় আর ঠেলাঠেলি করে ক্লান্তিকর ও দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে বাড়ি পৌঁছাতে হয়, আবার ছুটি শেষে কাজে যোগদান করতে হয়। সবাই চায় নির্বিঘ্নে আর নিরাপদে ঘরে ফিরতে। তবে যাওয়া-আসার ঝক্কিতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিশু ও বয়স্কদের পক্ষে লম্বা যাত্রাপথের ধকল সহ্য করা খুব কঠিন হয় বৈকি। যাত্রাপথে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। অন্যথায় পুরো ঈদের আনন্দ আগেভাগেই মাটি হয়ে যেতে পারে। তাই ঈদ ভ্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়াটা কোনোক্রমেই কাম্য নয়, তাই এ বিষয়ে সবার সচেতন থাকা উচিত। যাত্রা শুরুর কয়েকদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। ব্যাগের মধ্যে কম জিনিসপত্র নেওয়া ভালো, যা সহজে বহন করা সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিতে যেন ভুল না হয়। কিছু প্রয়োজনীয় টিপস দেওয়া হলো:

পরিধেয় পোশাক : ভ্রমণের সময় হালকা, আরামদায়ক ও সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাক পরা উচিত। টাইট কাপড়-চোপড় পরিহার করাই ভালো। এতে ভ্রমণ হয়ে উঠবে আরামদায়ক। নরম জুতা বা স্যান্ডেল পরা উচিত। আবার একেবারে নতুন জুতা পরে কোথাও রওনা হবেন না, এতে পায়ে ফোসকা পড়তে পারে। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য হাই হিল পরিহার করে ফ্লেট স্যান্ডেল পরা উচিত।

খাবার ও পানির ব্যাপারে সতর্কতা : বাইরের খাবার গ্রহণ করা ঠিক হবে না। ঘরের তৈরি খাবার ও পানি সঙ্গে নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করুন এবং বাচ্চাদেরও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করাবেন।

প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ফার্স্ট এইড বক্স : ঈদের সময় জরুরি ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রসহ ফার্স্ট-এইড বক্স নেওয়া উচিত। কারণ এ সময় গ্রাম এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ নাও পেতে পারেন। মেট্রোনিডাজল, পেটে গ্যাস, পেটফাঁপা, বুক জ্বলার জন্য অ্যান্টাসিড, রেনিটিডিন বা ওমেপ্রাজল, সাধারণ সর্দি কাশির জন্য অ্যান্টি-হিস্টামিন, ডায়রিয়ার জন্য ওরাল স্যালাইন ইত্যাদি সঙ্গে রাখুন। এছাড়াও তুলা, গজ, ব্যান্ডেজ, স্যাভলন ইত্যাদি সংগ্রহে রাখুন। হাত কেটে গেলে কিংবা শিশুরা খেলতে গিয়ে শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে এগুলো সহায়ক হবে। নোটবুকে  পরিচিত চিকিৎসক ও হাসপাতালের জরুরি ফোন নম্বর ও ঠিকানা লিখে রাখলে ভালো।

মোশন সিকনেস : কারও কারও বাসে বা যানবাহনে উঠলে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব এমনকি বমি হয়, যাকে বলে ভ্রমণজনিত মোশন সিকনেস। এ সমস্যা প্রতিরোধে স্টিমেটিল বা ভার্গন ট্যাবলেট ভ্রমণের আধা ঘণ্টা আগে খেয়ে নেবেন। এছাড়াও বাস বা ট্রেন চলাকালে বাইরের দিকে তাকিয়ে না থেকে চোখ বন্ধ রাখুন, ঘুমিয়েও নিতে পারেন।  শিশুদের ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা : ট্রেনে, বাসে কিংবা লঞ্চে ভ্রমণের সময়ে শিশুরা সব সময়েই জানালার ধারের সিটটি পছন্দ করে। এ কারণে হঠাৎ করে অতিরিক্ত বাতাসের মুখোমুখি হয়। ফলে শিশুরা অনেকে ঠিক ভ্রমণের পর পরই আক্রান্ত হয় সর্দি-জ্বর কিংবা সাধারণ কাশিতে। এছাড়াও বাইরের পানীয় এবং খাবার খেয়ে বমি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। তাই তারা যাতে যাত্রাপথে বাইরের খাবার না খায়, সে ব্যাপারে সজাগ থাকুন।

অজ্ঞান পার্টি থেকে সাবধান : যাত্রাপথে যানবাহনে অপরিচিত কেউ খাদ্য বা পানীয় দিলে খাবেন না। কারণ প্রায়ই শোনা যায়, এ ধরনের খাবার খেয়ে অনেকেই বড় দুর্ঘটনায় পড়েছেন। এই বিপদ এড়াতে সচেতন থাকবেন। রাস্তাঘাটের দোকান থেকে খাবার এবং পানীয় পরিহার করুন।

গর্ভাবস্থায় ভ্রমণে করণীয় : অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা অতিরিক্ত ঝুঁকি হয়, এমন পথে ভ্রমণ যথাসম্ভব পরিহার করুন। প্রথম তিন মাস ও সম্ভাব্য ডেলিভারির ২ থেকে ৩ মাস আগে ভ্রমণ এড়িয়ে চলাই ভালো। গর্ভাবস্থায় কোনোক্রমেই একা ভ্রমণ না করা উচিত। নিরাপদ মাতৃত্বের স্বার্থে কোনো ধরনের বিপদের ঝুঁঁকি নেবেন না। 

রোজা অবস্থায় ভ্রমণ : সতর্কতা হিসেবে খাবার এবং পানীয় সঙ্গে রাখুন, যেন ইফতারের

সময় বাইরের খাবার খেতে না হয়।


আপনার মন্তব্য