শিরোনাম
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১২:১৫

যুক্তরাষ্ট্রে সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়িয়েছে করোনা!

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

যুক্তরাষ্ট্রে সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়িয়েছে করোনা!
সংগৃহীত ছবি

করোনা ভাইরাসের ৬ মাসে যুক্তরাষ্ট্র সেনবাহিনীতে আত্মহত্যার হার ৩০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যসব সেক্টরে অপরাধ প্রবণতা ও হতাশা বৃদ্ধির সাথে সঙ্গতি রেখে সেনাবাহিনীতেও একই পরিস্থিতির অবতারণা হয়েছে। 

পেন্টাগণ সূত্রে বলা হয়েছে, এ বছরের প্রথম তিনমাস অর্থাৎ করোনার প্রকোপ শুরুর আগ পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে আত্মহত্যার প্রবণতাসহ খুন এবং অপরাপর অপরাধের ঘটনা গত বছরের তুলনায় কম হলেও এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে তা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সশস্ত্র বাহিনীতে সবচেয়ে বড় হচ্ছে সেনাবাহিনী। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১৪ অফিসার আত্মহত্যা করেছে। করোনায় সৃষ্ট হতাশা থেকে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে বলে চিকিৎসকদের ধারণা। এমন অবস্থায় সেনাবাহিনী তথা পেন্টাগণের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উদ্বেগ জানিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন।

মানসিক চিকিৎসকদের পরামর্শ চেয়েছেন। সকলকে সদা প্রফুল্ল থাকার কথা বলেছেন। জানা গেছে, যুদ্ধ ফেরৎ সৈনিকের মধ্যেই করোনাকালে সবচেয়ে বেশী বিষন্নতা তৈরী হয়। করোনায় আইসোলেশনে থাকায় যুদ্ধের সময়ে আহতরা যথাযথ চিকিৎসা পাননি বলেই মানসিক অস্থিরতা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী সদ্য যোগদানকারি অফিসারের মধ্যেই আত্মহত্যার প্রবণতা অধিক পরিলক্ষিত হয়। ঐ বছরের খুন-খারাবির মধ্যে ৬০ শতাংশ এর জন্যই দায়ী তরুণ অফিসাররা। রবিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের ব্যাপারে পেন্টাগণ সরাসরি কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি গণমাধ্যমের কাছে। তবে সশস্ত্রবাহিনীর উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন আত্মহত্যার প্রবণতা আকস্মিকভাবে বৃদ্ধিও ব্যাপারটি। কর্মরত অফিসারদের মধ্যে কেন এমন পরিস্থিতির অবতারণা হয়েছে, আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে-তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ  করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। 

সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি রায়ান ম্যাককার্থি বলেছেন, বিজ্ঞানভিত্তিক পর্যালোচনা না থাকলেও স্বাস্থ্য সম্পর্কিত জটিলতা বেড়েছে –এটি বলা যায় অনায়াসে। করোনার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে-এটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে কিছুটা প্রভাব রয়েছে। কারণ, করোনার প্রকোপ শুরুর পরই আত্মহত্যার পাশাপাশি খুন-জখমের হার বেড়েছে সেনা ছাউনিতে। 

সেনাবাহিনীর চীফ অব স্টায় জেনারেল জেমস ম্যাককনভিলে এবং সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট মেজর মাইকেল গ্রীন্সটন বলেন, সেনা ছাউনিতে গভীর পর্যবেক্ষণ রাখা হয়েছে। অফিসারদের মধ্যেকার প্রাণচাঞ্চল্য উজ্জীবিত রাখার প্রয়াস নেয়া হয়েছে। 

আইসোলেশনে থাকা অফিসাররাও যাতে একাকীবোধ না করেন সে ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। ফেসবুক, টুইটার, ফেসটাইমে যাতে পরিবারের সাথে সবসময় সংযুক্ত থাকতে পারেন সে পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। 

১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসে বিমানবাহিনীতে ৯৮ জন আত্মহত্যা করেছেন। আগের বছরেও একই সংখ্যা ছিল। আগের ৩০ বছরের মধ্যে গত বছর বিমানবাহিনীতে সবচেয়ে বেশী অফিসার আত্মহত্যা করেন বলেও পেন্টাগণের সূত্র উল্লেখ করেছে। ২০১৭ সালে সশস্ত্র বাহিনীতে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৫১১টি। ২০১৮ সালে সে সংখ্যা বেড়ে ৫৪১ হয়। 


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর