Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জুন, ২০১৮ ২৩:৩৯

এবার পুনর্মিলনী দুই কোরিয়ার বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর

এবার পুনর্মিলনী দুই কোরিয়ার বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর

ছয় দশকেরও বেশি সময় আগে কোরীয় যুদ্ধে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর সদস্যদের পুনর্মিলনী আয়োজনে আলোচনায় বসেছেন উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরা। উত্তর কোরিয়ার পর্যটন কেন্দ্র মাউন্ট কুমগাংগে গতকাল এ আলোচনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন ও উত্তরের শীর্ষ নেতা কিম জং উনের মধ্যে হওয়া দুই দফা বৈঠকের ধারাবাহিকতায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের একত্রিত করতে এ আলোচনার পরিকল্পনা হয়। ২০১৫ সালে সর্বশেষ দুই কোরিয়ার বিচ্ছিন্ন কিছু পরিবারের সদস্যদের একে অপরের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। পিয়ংইয়ংয়ের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও পারমাণবিক পরীক্ষার সূত্র ধরে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছালে পুনর্মিলনীর আয়োজনগুলো বন্ধ হয়ে যায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে শীতকালীন অলিম্পিককে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। ওই ধারাবাহিকতায় এপ্রিলের মুন-কিম শীর্ষ সম্মেলনে পুনর্মিলনীর জন্য আগস্টের একদিন দুই কোরিয়াতেই সাধারণ ছুটিরও পরিকল্পনা হয়। গতকালের সম্মেলনের আগে উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধি দলের প্রধান পাক ইয়ং ইল কলেন, ‘বিশ্বাস এবং একে অপরের প্রতি বিবেচনাশীল হয়ে আজকের আলোচনায় ভালো ফল আনতে সক্রিয় প্রচেষ্টা থাকা উচিত আমাদের।

অতীতেও আমরা অংশীদার ছিলাম এবং এখনো আমাদের উচিত হবে নেতারা যে পথে পরিচালনা করছেন, সে পথে অগ্রসর হওয়া।’

যুদ্ধের সময় বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোর অনেক সদস্যের বয়স ৮০ পেরিয়ে যাওয়ায় তাদের পুনর্মিলনীকে ‘মানবিক কাজ ও মানব অধিকার’ হিসেবে দেখে আসছে দক্ষিণ কোরিয়া।

বিচ্ছিন্ন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স ও ডাক যোগাযোগ পুনরায় শুরুরও প্রস্তাব দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

হুন্দাই রিসার্চ ইনস্টিটিউট থিঙ্কট্যাঙ্ক বলছে, পুনর্মিলনী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০০০ সালের পর থেকে দুই কোরিয়ার ২৩ হাজার ৬৭৬ বিচ্ছিন্ন সদস্য ভিডিওলিংক যোগাযোগের সুযোগ নিয়েছেন। এ বছরের মার্চ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে আবেদন জানানো এক লাখ ৩১ হাজার ৫৩১ দক্ষিণ কোরীয়র ৫৬ শতাংশই মারা গেছেন বলেও জানিয়েছে তারা।

পুনর্মিলনী নিয়ে দুই কোরিয়ার আলোচনায় দক্ষিণের হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির রেডক্রসের প্রেসিডেন্ট পার্ক কিউং-সিও। তিনি বলেন, ‘মানবিক এই বিষয় এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ৫৭ হাজার পরিবারের সদস্যদের কষ্ট দূর করতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চমৎকার আলোচনা হবে।’


আপনার মন্তব্য