শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:৫৯

জটিল রাজনৈতিক সমীকরণে শ্রীলঙ্কা

রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট

জটিল রাজনৈতিক সমীকরণে শ্রীলঙ্কা

আদালতের আদেশে পুনর্বহাল হওয়া শ্রীলঙ্কা পার্লামেন্টে মাহিন্দা রাজাপক্ষে আস্থা ভোটে হেরে গেছেন। গতকাল পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপিদের ভোটে রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে এ অনাস্থা প্রস্তাব পাস হয়।

গত মাসের শেষদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহকে বরখাস্ত করে বিরোধী দলের নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

‘বিতর্কিত’ ওই নিয়োগ নিয়েই মূলত গতকাল পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হয়, সেখানেই রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস হয়। ভোটের পর পার্লামেন্টের স্পিকার কারু জয়সুরিয়া রুল জারি করে বলেন, ২২৫ সদস্যের পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য রাজাপক্ষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সমর্থন দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ফলাফলের মানে এই নয় যে, রনিল বিক্রমাসিংহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী পদে পুনর্বহাল হয়েছেন। এর মাধ্যমে সাংবিধানিক শক্তি প্রদর্শনে তিনি জয়ী হয়েছেন। তার দল পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও রাজাপক্ষকে সমর্থন দেওয়া প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার হাতেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষমতা রয়েছে।

গত শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা দেশটির পার্লামেন্ট ভেঙে দেন এবং ৫ জানুয়ারি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দেশটির বিরোধী ১০টি রাজনৈতিক দল আদালতে আপিল করে। মঙ্গলবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের ডিক্রিতে স্থগিতাদেশ দেয়। এরপরই বুধবার পার্লামেন্ট বসে। সেখানে রাজাপক্ষের বিতর্কিত নিয়োগের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য সম্মতি দিলে স্পিকার কারু জয়সুরিয়া এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দিল্লির সঙ্গে বিক্রমাসিংহের ইউএনপির ঘনিষ্ঠতা এবং সিরিসেনাকে হত্যা চেষ্টায় ‘ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থার জড়িত থাকার অভিযোগ’ নিয়ে দুই দলের ঘনিষ্ঠতায় ছেদ পড়ে। তারপরই এক সময়ের মিত্র রাজাপক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়েন সিরিসেনা।

শ্রীলঙ্কার সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী অনুসারে, পার্লামেন্টে ভোটাভুটি ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে প্রেসিডেন্ট বরখাস্ত করতে পারবেন না। আর পার্লামেন্টে ভোট হলে বিক্রমাসিংহকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানো আপাতদৃষ্টিতে কঠিন। কারণ, সিরিসেনার দল ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স (ইউপিএফএ) ও রাজাপক্ষের দল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির মিলিত আসনের সংখ্যা ৯৫ এবং বিক্রমাসিংহের দল ইউএনপির আসনসংখ্যা ১০৬।


আপনার মন্তব্য