শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুন, ২০২১ ০০:১০

মুসলিমদের মুছে ফেলতে চাইছে চীন : অ্যামনেস্টি

মুসলিমদের মুছে ফেলতে চাইছে চীন : অ্যামনেস্টি
Google News

চীনের উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে নতুন ১৬০ পৃষ্ঠার রিপোর্ট প্রকাশ করল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। রিপোর্টের শিরোনাম ‘আমরা যেন যুদ্ধে শত্রুপক্ষ’। রিপোর্টে বলা হয়েছে, জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিমদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে চীন। সেখানে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশ করে সেখানকার পরিস্থিতি জাতিসংঘকে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটি বলেছে, উইঘুর, কাজাখ ও অন্যান্য মুসলিমদের গণহারে আটক করা হচ্ছে, তাদের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং নির্যাতন করা হচ্ছে। অ্যামনেস্টির সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড ডিডব্লিউকে বলেছেন, ‘চীন মানবতার বিরুদ্ধে যে অপরাধ করেছে তা তথ্যসহ রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে।’ তিনি বলেছেন, ‘অন্য দেশগুলো যেন সাহসী হয়ে উপায় ঠিক করে এবং চীনকে এ কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করে।’ অ্যাগনেস বলেছেন, ‘আমরা যে তথ্যপ্রমাণ দিয়েছি, তারপর দেশগুলোর পক্ষে চুপ করে থাকা মুশকিল।’ আমেরিকা ইতিমধ্যে উইঘুরদের প্রতি চীনের নীতিকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছে। চীন অবশ্য উইঘুরদের বিরুদ্ধে কোনোরকম অত্যাচারের কথা অস্বীকার করে। তাদের অভিযোগ, চীনের ঘরোয়া বিষয়ে বাইরের দেশগুলো হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে।

রিপোর্টে কী বলা হয়েছে : অ্যামনেস্টি ২০১৯-এর অক্টোবর থেকে ২০২১-এর মে পর্যন্ত গবেষণা করেছে। তারা ১২৮ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তার মধ্যে ৫৫ জন চীনের উইঘুর শিবিরে ছিলেন। আর ৬৮ জন সেসব পরিবারের সদস্য, যে পরিবার থেকে কেউ হারিয়ে গেছেন বা তাদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রিপোর্ট বলছে, শিনজিয়াংয়ে ১০ লাখের বেশি মানুষকে শিবিরে পাঠানো হয়েছে। মুসলিমদের ভয় দেখানোর জন্য চীন তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সাইটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। প্রচুর সাক্ষী অ্যামনেস্টিকে বলেছেন, চীন মুসলিমদের মুছে ফেলতে চায়। অনেকে বলেছেন, মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এমনকি মসজিদে ও মুসলিমদের বাড়িতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের ছবি লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে তার অনেকেই বলেছেন, তারা চীনে নিজেদের ধর্মাচরণ করতে ভয় পাচ্ছেন। তারা জানেন যে রাষ্ট্র তাদের ওপর নজর রাখছে।

উইঘুর শিবিরের কথা : যাদের শিবিরে আটকে রাখা হয়েছিল তাদের কয়েকজন অ্যামনেস্টিকে বলেছেন, শিবিরের অবস্থা চীনের কারাগারের থেকেও খারাপ। তাদের সংশোধন ক্লাসে যেতে হয়। তার আগে সারা দিন তাদের বসিয়ে রাখা হয়। শিবিরের ক্লাসে তাদের ইসলামের ‘খারাপ’ দিকগুলো বাধ্যতামূলকভাবে শিখতে হয়।

অ্যামনেস্টির সুপারিশ : এই মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, শিবির থেকে চীনকে সব উইঘুরকে মুক্তি দিতে হবে। যদি না তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অকাট্য প্রমাণ থাকে। চীনকে এ শিবির বন্ধ করতে হবে। উইঘুরদের বিরুদ্ধে যাবতীয় অত্যাচার ও তাদের হেনস্তা বন্ধ করতে হবে।