শিরোনাম
প্রকাশ : ৭ মার্চ, ২০২১ ২২:১১
আপডেট : ৭ মার্চ, ২০২১ ২২:৪৪
প্রিন্ট করুন printer

আমি কখনও বলিনি পানি দেবো না: তিস্তা ইস্যুতে মমতা

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

আমি কখনও বলিনি পানি দেবো না: তিস্তা ইস্যুতে মমতা
মমতা ব্যানার্জি

পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস’এর মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এক মিছিলে অংশ নিয়ে হঠাৎ করেই তিস্তার পানি বন্টন ইস্যুতে মুখ খুললেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বললেন, ‘আমি কখনওই বলিনি যে পানি দেবো না। কিন্তু আগে আমি খাবো, তারপর তো দেবো।’ 

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে ভারত সরকারের তরফে বাংলাদেশকে পানি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া নিয়েও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেছেন মমতা। 

তিনি বলেন ‘তিস্তা উত্তরবঙ্গের অংশ, বাংলার অংশ। অথচ আমাকে না জানিয়ে বাংলাদেশকে কথা দিয়ে আসছো?’ 

রবিবার বিকালে শিলিগুড়িতে একটি পদযাত্রায় অংশ নেন মমতা। মমতার সাথে ওই মিছিলে হাঁটেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ কাকলি ঘোস দস্তিাদার, সাংসদ মিমি চক্রবর্তী, সাংসদ নুসরত জাহানসহ দলের কর্মী-সমর্থক ও অসংখ্য সাধারণ মানুষ। 

মিছিল শেষে ভেনাস মোড়ে একটি সভায় অংশ নেন মমতা। সেখান থেকে পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সহ একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করতে থাকেন। 

সভায় উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্য করে মমতা বলতে শুরু করেন ‘আপনারাই বলুন ‘ভোরের আলো কে করেছে? উত্তর কন্যা, আফ্রিকান সাফারি, জলপাইগুলিড়ে বিশ্ববাংলা কেন্দ্র কে করেছে, মদন মোহন মন্দির কে করেছে? কিন্তু হঠাৎ করেই বলে দিল তিস্তার পানি দিয়ে দাও। আরে ভাই, রাজ্যকে জিজ্ঞাস করলো না। আমার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবচেয়ে ভাল। আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানাই, সেলাম জানাই, তাকে খুব ভালবাসি। কিন্তু একটা রাজ্য সরকার আছে...আর তুমি (নরেন্দ্র মোদি) হঠাৎ করে বলে আসছো... আমার রাজ্যটাকে বিক্রি করে দেবে। বাহ বাহ! অত সস্তা নয় ভাই। তিস্তা উত্তরবঙ্গের অংশ, বাংলার অংশ। আপনার (নরেন্দ্র মোদি) সেটা মনে রাখা উচিত।’

মমতা আরও বলেন ‘আমি তো বলিনি যে পানি দেবো না, কিন্তু আমি খাবো, তার পর তো দেবো। আমার ঘরে থাকবে, তারপর তো পানি দেবো।’

উল্লেখ্য, রাজ্যের স্বার্থের প্রশ্ন তুলেই ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং’এর সফরসঙ্গী হননি মমতা। ফলে তিস্তা পানি বন্টন চুক্তিও বাস্তবে রূপ পায়নি। এরপর দুই দেশের তরফে একাধিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাতে সফলতা আসেনি। এরপর ২০১৭ এপ্রিল মাসে শেখ হাসিনার ভারতে সফরে নরেন্দ্র মোদি তিস্তা চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তিস্তার বিকল্প হিসাবে বাংলাদেশকে তোর্সাসহ অন্য কয়েকটি নদীর পানি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। যদিও সেই প্রস্তাবকে দিল্লি বা ঢাকা কেউই গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেনি।  

বিডি প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন/ আরাফাত


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর