Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ মার্চ, ২০১৯ ২৩:৩৮

চীন সার্কুলার ওয়াটারওয়ে করতে চায় ঢাকার চারপাশে

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

চীন সার্কুলার ওয়াটারওয়ে করতে চায় ঢাকার চারপাশে

ঢাকার চারপাশে সার্কুলার ওয়াটারওয়ে করতে আগ্রহ দেখিয়েছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত একটি কোম্পানি। চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড (সিএমসি) নামে ওই কোম্পানিটি গত ১৫ মার্চ এ বিষয়ে সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। চীনের সেই আগ্রহ খতিয়ে দেখতে গতকাল সভা করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

সভা সূত্র জানায়, ঢাকার চারপাশের নৌপথটি কীভাবে কার্যকর করা যায় সে বিষয়ে সিএমসিকে তাদের পরিকল্পনা উপস্থাপনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। সিএমসির পরিকল্পনা সন্তোষজনক হলে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার।  চীনের রাষ্ট্র মালিকানাধীন কোম্পানি সিএমসির জিএম মি. ইউয়ান ইপিং চিঠিতে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকারের ‘ঢাকা সার্কুলার ওয়েটার ওয়েজ অ্যান্ড কমপ্রিহেনসিভ রিভার ট্রিটমেন্ট প্রকল্প’টি সম্পর্কে সম্প্রতি তারা জানতে পেরেছেন এবং এটি বাস্তবায়নে তারা নিজেদের অত্যন্ত সক্ষম বলে মনে করছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বড় বড় উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিল সিএমসি, ফলে এ দেশের সরকার এবং জনগণ কী চায়-তারা সেটি বুঝতে সক্ষম বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন কোম্পানিটির জিএম। এ ছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যে অর্থ দরকার পড়বে, বাংলাদেশ সম্মত হলে চীন সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সেই অর্থায়নের  ব্যবস্থাও করে দেবে বলে চিঠিতে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, যানজট কমাতে ঢাকার চারপাশে ২০০০ সালে যে বৃত্তাকার নৌপথ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সেটির সুফল মেলেনি। উপরন্তু নদীগুলো দখলমুক্ত করে এর তীর সংরক্ষণ করতে না পারা, সমন্বিতভাবে নদী সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ না করা এবং চার নদীর ওপর নিচু সেতুর কারণে ওই উদ্যোগটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০১০ সালের আগস্টে ‘এমভি বুড়িগঙ্গা’ ও ‘এমভি তুরাগ’ বৃত্তাকার  নৌপথে দুটি ‘ওয়াটার বাস’ নামায় বিআইডব্লিউটিএ। তবে কিছুদিন চলাচল করে যাত্রীর অভাবে ও পানি স্বল্পতার কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৩ সালে আরও চারটি ওয়াটার বাস উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর এগুলো আর চলাচল করতে দেখা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃত্তাকার নৌপথ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে নগরবাসী প্রত্যাশিত সুফল পায়নি। প্রথমত, বসিলা ব্রিজ, গাবতলী ব্রিজ, বিরুলিয়া ব্রিজ, আশুলিয়ার ধউর ব্রিজ এবং টঙ্গীর সড়ক ও রেলব্রিজগুলো নৌপথের শ্রেণি অনুযায়ী নির্ধারিত আনুভূমিক ও উল্লম্ব উচ্চতা অনুসরণ না করায় নৌযান চলাচল করতে পারে না। দ্বিতীয়ত, গাবতলী থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত নদীর প্রশস্ততা কম এবং নদীর উভয় পাড়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থাকায় খনন কার্যক্রম পরিচালনা করে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী নদীর প্রশস্ততা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ল্যান্ডিং স্টেশন ও ল্যান্ডিং পয়েন্টগুলোর সঙ্গে মূল সড়কগুলো কিছুটা দূরে এবং পূর্ব থেকেই নির্মিত বিপুলসংখ্যক বসতবাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনের কারণে সংযোগ সড়কগুলো সরু হওয়ায় যাত্রী ও মালবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জানা গেছে, আগের অভিজ্ঞতা থেকে সরকার এখন নতুন করে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দখলমুক্ত করে বৃত্তাকার নৌপথ চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে চীন। সূত্র জানায়, ঢাকার চারপাশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদে ১১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বৃত্তাকার নৌপথ রয়েছে। ওই  নৌপথের দুই তীরে মোট ২২০ কিলোমিটার তীরভূমি রয়েছে। তবে এই তীর অবৈধ দখলে চলে গেছে। সম্প্রতি নদী তীরবর্তী জায়গা দখলমুক্ত করে ওয়াকওয়ে নির্মাণে রাজধানী সংলগ্ন ৪টি নদী সংরক্ষণে ৮৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এ প্রকল্পের আওতায়, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদের তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং উচ্ছেদকৃত জায়গা পুনরায় যাতে দখল না হয় সেই লক্ষ্যে কার্যক্রম চালাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ।


আপনার মন্তব্য