শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ মে, ২০২০ ০০:১৫

হাসপাতালে ঈদ কাটবে ডাক্তারদের পুলিশের রাস্তায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

কোনো ঈদেই হাসপাতাল বন্ধ থাকে না। প্রতি বছর ঈদ এলেই হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিউটি রোস্টার থাকে। সে অনুযায়ী তারা কাজও করেন। তবে ঈদে রোগী কম থাকায় কাজটা সীমিত হয়ে যায়। এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। করোনাভাইরাসে দেশে প্রতিদিন সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। তাই দেশের হাসপাতালগুলোতে এবার থাকবে অন্য পরিবেশ। চিকিৎসকরাও ঈদের দিনকে আলাদা করে অনুভব করছেন না। এবার হাসপাতালেই কাটবে চিকিৎসকদের ঈদ। সংক্রমণ রোধে রাস্তায় সময় কাটবে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

দেশবাসীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লক্ষাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন নিজেদের ঈদ বিসর্জন দিয়ে। স্বজনদের সময় না দিয়ে তারা জনস্বাস্থ্য ঠিক রাখতে বিরামহীন দায়িত্ব পালন করছেন সারা দেশে। পাশাপাশি বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, ব্যাংক ও বুথের নিরাপত্তায়ও দায়িত্ব পালন করবেন ঈদের ছুটিতে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীদেরও একটি বড় অংশ সর্বশেষ পরিস্থিতির তাৎক্ষণিক তথ্য জানাতে ঈদের দিনেও দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশের প্রায় সব পর্যায়ের কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। করোনায় দায়িত্ব পালনের জন্য অনেকে ঘরে ফেরেননি এখনো। থাকছেন বাসার বাইরে কিংবা আবাসিক হোটেলে। করোনা মোকাবিলায় এ পর্যন্ত পুলিশের ৩ হাজার ২৩৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। জীবন দিয়েছেন অন্তত ১১ জন। গেল বছরগুলোতে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত, রাস্তাঘাটে, ঈদগাহে, ঘরবাড়ি, ব্যাংক-বীমা আর বিনোদন কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতেই ব্যস্ত থাকতে হতো পুলিশকে। এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এবার তাদের ঈদ রাস্তায় কাটবে অদৃশ্য শক্তি করোনা মোকাবিলায়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, প্রতিবার ঈদ উদযাপনে যখন সবাই ব্যস্ত তখন ব্যতিক্রম ছিল পুলিশ। দিন-রাত রাস্তায়, রেল, নৌপথ ও বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন তারা। এবারও নির্ঘুম ব্যস্ততায় কাটবে তাদের। এ ব্যস্ততা আরেক ধরনের। সচেতনতা সৃষ্টি, জনসমাগম রোধ আর বাড়ির বাইরে বের হওয়া ঠেকাতে রাস্তায় থাকতে হবে পুলিশকে।

করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক জানান, তারা এই সময়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন। ঈদের ছুটির কথা চিন্তা না করে বরং মহামারীর এই সময়ে কী করে মানুষের পাশে থাকা যায় সেটাই তাদের কাছে মুখ্য। নিজেদের ডেডিকেশন প্রমাণ করার সময় এটাই। স্বাস্থ্য অধিদফতর ইতিমধ্যে ঢাকা  মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবন এবং পুরাতন বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটকে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্ধারণ করেছে। সন্দেহজনক ও শনাক্ত রোগীদের জন্য ২৪০ করে বেড থাকার পাশাপাশি এইচডিইউ, সিসিইউ এবং আইসিইউ মিলিয়ে মোট শয্যার সংখ্যা ৫৫০টির মতো। সেখানে প্রতি সপ্তাহে কাজ করছেন ৮০ জন মেডিকেল অফিসার, আটজন সহযোগী এবং সহকারী অধ্যাপক এবং এর সঙ্গে রয়েছেন অধ্যাপকরা।

ঈদের রোস্টার শুরু হবে আজ শনিবার থেকে। প্রায় প্রতিটি হাসপাতালে চিকিৎসকরা টানা ১০ দিন ডিউটি করার পর ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকেন। এই সময়টাতে ভিডিও কল ছাড়া পরিবারের সদস্যদের দেখার আর কোনো সুযোগ নেই। রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, নিয়ম অনুযায়ী অন্য বছরগুলোতে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি চিকিৎসক ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা ঈদের ছুটি  নেন। পরে তারা সেটা নিজেদের মতো করে ব্যালান্স করেন। কিন্তু এবার সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। রাজধানীতে শুধুমাত্র করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে সরকার ১৩টি হাসপাতাল নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ৬টি বেসরকারি হাসপাতাল। এ ছাড়া ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবন ও পুরনো বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটও করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্ধারিত।

সরকারি হাসপাতালগুলো হচ্ছে, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মহানগর হাসপাতাল, মিরপুরের লালকুঠিতে অবস্থিত মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য হাসপাতাল, রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল ও শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল। বেসরকারি পর্যায়ে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখা, নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলের সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল ও ইমপালস হাসপাতাল। এর মধ্যে ইমপালস হাসপাতালে শুধু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের চিকিৎসা হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর