শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ জুন, ২০২০ ০০:১৩

হঠাৎ বাড়ল খুনোখুনি

ঝিনাইদহে আওয়ামী লীগ, বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা, রংপুরে আইনজীবী পাবনায় স্বামী-স্ত্রী মেয়ে, শ্রীমঙ্গলে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

প্রতিদিন ডেস্ক

হঠাৎ বাড়ল খুনোখুনি

সাধারণ ছুটি শিথিল হতেই হঠাৎ করে দেশব্যাপী বেড়ে গেছে খুনোখুনি। এর মধ্যে কুপিয়ে খুনের ঘটনায়ই বেশি। গতকাল পাওয়া খবর অনুযায়ী ঝিনাইদহে এক আওয়ামী লীগ নেতা, বগুড়ায় এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা, রংপুরে এক আইনজীবী, পাবনায় স্বামী-স্ত্রী-মেয়ে, এবং শ্রীমঙ্গলে মা-মেয়ে খুন হয়েছেন। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

বগুড়া : পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হানিফ প্রামাণিক মিস্টার খুন হয়েছেন। গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে শহরের শাকপালা মোড়ে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকা-ের খবর পেয়ে বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিহত মিস্টার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, তিনি বিগত পৌর নির্বাচনে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন, আগামী নির্বাচনেও অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, বগুড়া শহরের শাকপালা মোড়ে মসজিদের সামনে প্রতিপক্ষ আবু হানিফ প্রামাণিক মিস্টারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিস্টার মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে একটি কুড়াল উদ্ধার করেছে পুলিশ। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ভিপি সাজেদুর রহমান সাহীন ও সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রহমান  শান্তসহ দলীয় নেতারা এ হত্যাকা-ের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ঝিনাইদহ : গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশংকরপুর ইউনিয়নের হরিশংকরপুর গ্রামে আলাপ শেখ (৫৫) নামে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। হত্যার ঘটনার জের ধরে সংঘর্ষে আহত হন আরও ১০ জন। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর। নিহত আলাপ শেখ হরিশংকরপুর গ্রামের মৃত ভোলা শেখের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করেছে। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান ও স্থানীয়রা জানান, হরিশংকরপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মাসুম ও সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার ফারুকুজ্জামান ফরিদের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বেশ কয়েকদিন ধরে উভয় পক্ষের লোকজনের মাঝে উত্তেজনাও চলছিল। বৃহস্পতিবার বিকালে খন্দকার ফারুকুজ্জামান ফরিদের সমর্থক আলাপ শেখ, নুর ইসলামসহ আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী একটি বিয়ের দাওয়াত শেষে হরিশংকরপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিধ্যে মিয়াবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে ওতপেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে ও আলাপ শেখ এবং নুর ইসলামকে কুপিয়ে জখম করে। পরে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এরপর স্থানীয় গ্রামবাসী ঘটনাস্থল থেকে আহত আলাপ শেখ ও নুর ইসলামকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলাপ শেখকে মৃত ঘোষণা করেন। রংপুর : রংপুরে নামাজের জন্য অজু করার সময় চোরের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন এক সিনিয়র আইনজীবী। ঘাতক তাকে পেটে ও গলায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল দুপুর সোয়া ১টার দিকে নগরীর ধর্মদাশ বার আউলিয়া এলাকায়। এলাকাবাসী ঘাতককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় আইনজীবী সমিতি তীব্র নিন্দা জানিয়ে রবিবার জরুরি সভা ডেকেছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আসাদুল হক (৬০) স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে ধর্মদাস এলাকায় নিজ বাড়িতে থাকতেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে একই এলাকার মৃত জাফর ড্রাইভারের পুত্র মাদকসেবী ও চোর রতন মিয়া (২৬) প্রাচীর টপকে আইনজীবীর বাসায় চুরি করতে ঢোকে। এ সময় ওই আইনজীবী জুমার নামাজের জন্য অজু করছিলেন। দেখে ফেলায় চুরি করতে আসা রতন উপর্যুপরি তার পেটে ও গলায় ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই আইনজীবী আসাদুল হক মারা যান। ঘটনার সময় স্ত্রী সাবেরা রহমান ও কন্যা অংকন গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলায় ছিলেন। অপর কন্যা প্রবাসী। পরে স্থানীয়রা রতনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

পাবনা : পাবনা শহরে অবসরপ্রাপ্ত এক ব্যাংক কর্মকর্তা, তার স্ত্রী ও  মেয়েকে কুপিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বাড়িতে লুটপাট চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বিকাল ৩টার দিকে পুলিশ প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে শহরের দিলালপুরের একটি বাড়ির মূল ফটক ভেঙে এই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুুল জব্বার (৬৫), তার স্ত্রী ছুম্মা খাতুন (৬০) এবং মেয়ে সানজিদা খাতুন জয়া (১৪)। ডিবি পুলিশ এই ঘটনায় সন্দেহভাজন রাব্বি নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, আমেরিকা প্রবাসী মালিকানাধীন বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে নিহত আবদুল জব্বার ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। মেয়ে সানজিদা খাতুন জয়া পাবনা শহরের কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিশ্চিত হতে পেরেছে এটি কোনো ডাকাতির ঘটনা নয়। সহায়-সম্পত্তি নিয়েই এই হত্যাকান্ডটি হয়েছে। নিহত আবদুল জব্বারের পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর ইউনিয়নের পাইকরহাটি গ্রামের মৃত আবদুল মতিন শেখের ছেলে। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ধারণা করা হচ্ছে ৩/৪ দিন আগে দুর্বৃত্তরা তিনজনকে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। মরদেহে কিছুটা পচন ধরেছে এবং গন্ধ বেরিয়েছে। শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) : শ্রীমঙ্গলে মা ও মেয়ে খুন হয়েছেন। এ ঘটনা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের জামসী গ্রামে। হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন মা জাহেদা বেগম (৬০) ও মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার (৩০)। গতকাল সকালে ঘরের ভিতর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার, ডিবি, সিআইডি টিম ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (অপারেশন) নয়ন কারকুন বলেন, লাশ দুটির শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘরের পেছনের দিকে বেড়া কাটা রয়েছে। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, গ্রামের একটি টিনের ঘরে বসবাস করতেন জাহেদা বেগম। ১০/১২ বছর আগে তার ছোট মেয়ে ইয়াসমিনকে বিয়ে দেন সিন্দুরখান ইউনিয়নের বেলতলী গ্রামে মসলিস মিয়ার ছেলে আজগর আলীর সঙ্গে। তাদের সংসারে রয়েছে ৪ ও ৮ বছরের দুটি পুত্রসন্তান। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হতো ইয়াসমিন। এদিনে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে ইয়াসমিন। পারিবারিক কলহের কারণে দেড় বছর ধরে ইয়াসমিন স্বামীর সংসার ছেড়ে মায়ের বাড়িতে এসে আশ্রয় নেয়। গ্রামের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করে চলে মা ও মেয়েয় সংসার। গতকাল সকালে তাদের ঘরের দরজা বন্ধ দেখে প্রতিবেশীরা অনেক ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভিতর থেকে কেউ সাড়া না দেওয়ায় পরে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান এসে ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে দেখেন ঘরের বিছানায় মায়ের লাশ আর মশারির নিচে মেয়ের লাশ পড়ে আছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর