শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৩৪

কর কর্মকর্তাদের দরবার থেকে মুক্তি চাই

মোহাম্মদ হাতেম

কর কর্মকর্তাদের দরবার থেকে মুক্তি চাই

নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, কর কর্মকর্তাদের দরবার থেকে মুক্তি চাই। অগ্রিম আয়কর বা এআইটি আদায়ের নামে কর কর্মকর্তাদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। আমাদের দাবি, যেটুকু এআইটি নেওয়া হয়, তা চূড়ান্ত দায় হিসেবে নিতে হবে। পাশাপাশি বাজেটে নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহার করা হোক। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিকেএমইএ প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি সংগঠনটির বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন, বন্ডের আওতায় আমদানি করা পণ্যের এইএস কোড সংক্রান্ত জটিলতায় ভুল ঘোষণায় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে জরিমানা থেকে অব্যাহতি চাই। শতভাগ রপ্তানি খাত হিসেবে পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে ক্রেতাদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নন-বন্ডেড কারখানা থেকে পণ্য সংগ্রহের অনুমতি শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার প্রস্তাব করছি।

তিনি বলেন, মোট রপ্তানি আয়ের ৪১ দশমিক ৯১ শতাংশ আসে নিট খাত থেকে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে নিট পোশাক থেকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে পোশাক খাতের অবদান ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এর মধ্যে ৪ দশমিক ২১ শতাংশ নিট পোশাক খাতের। এই খাতে মূল্য সংযোজনের মাত্রা প্রায় ৭২ শতাংশ। কর্মসংস্থান হয়েছে- প্রায় ১৯ লাখ লোকের। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মধ্যমেয়াদে ও দীর্ঘমেয়াদে নিট পোশাক খাতের অবদানকে বিবেচনায় নিয়ে আসছে বাজেটে করহার যৌক্তিককরণের দাবি করছি। বিকেএমইএর এই নেতা ভ্যাটসংক্রান্ত প্রস্তাবে বলেন, শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে শূন্য ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্য-বাধকতা থেকে অব্যাহতি চাই। রপ্তানি ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে শতভাগ ভ্যাট অব্যাহতি চাই। এই শিল্পে উৎসে আয়কর প্রদানকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এই করহার দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করে চূড়ান্ত উৎস আয়কর দায় হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারণ করা হোক। রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তার ওপর আয়কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হোক। মোহাম্মদ হাতেম বলেন, পোশাকশিল্প বিকাশের স্বার্থে রপ্তানির বিপরীতে প্রণোদনা ও নগদ সহায়তাসমূহ আগামী পাঁচ বছরের জন্য বহাল রাখা প্রয়োজন। রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে বিকল্প নগদ সহায়তা পরিশোধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও হয়রানি নিরসনে বস্ত্রমূল্যের পরিবর্তে সরাসরি প্রত্যাবাসিত এফওবি (ফ্রি অন বোর্ড) মূল্যের ওপর নগদ সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা সংবলিত নতুন সার্কুলার জারি করা প্রয়োজন।

এই বিভাগের আরও খবর