শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৯:৩১
আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২০:৪৪

২০২১ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: পর্যটন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২১ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: পর্যটন প্রতিমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে ২০২১ সালকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি প্রাপ্তির পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। 

শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁ হোটেলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং ভ্রমণ ম্যাগাজিনের আয়োজনে ‘বাংলাদেশের পর্যটন: সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক।

মাহবুব আলী বলেন, পর্যটন প্রতিযোগিতার বাজার, যে যত  বেশি সেবা দেবে, তার দিকেই পর্যটক ঝুঁকবে। সেবার মান নিশ্চিত করতে পারলে পর্যটন বিকশিত হবে। আগে হয়নি বলে বর্তমানে হবে না এটি কোনো কথা নয়। ইচ্ছা, উদ্যম ও পরিশ্রম থাকলে সব কিছু অর্জন করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছা এবং কর্মে এ দেশ আজ সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং, আমরা যদি পরিশ্রম করি, উদ্যমী হই পর্যটনে অবশ্যই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, এতদিন নানা কারণে দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন পর্যটন শিল্পের বিকাশ নিশ্চিত করা হবে। সকল  স্টেকহোল্ডারদের সুপারিশ শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা আহসান মঞ্জিল, লালবাগ কেল্লা, ছোট কাটরা, জাতীয় সংসদ ভবনসহ সকল ঐতিহাসিক ও পুরাতাত্ত্বিক স্থাপনা ব্র্যান্ডিং করবো। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতির প্রভূত উন্নতি হয়েছে। দেশের প্রতিটি জায়গায় প্রতিটি কোণে এখন পর্যটকরা নিরাপদে বিচরণ করতে পারছেন। ট্যুরিস্ট পুলিশ গঠন করায় দেশের প্রতিটি পর্যটন আকর্ষণে পর্যটকদের বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। পর্যটক আসলে বের হতে পারবে না, এমন পরিস্থিতি আর নেই। 

মাহবুব আলী বলেন, পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের সম্ভাবনা ও ঘাটতির জায়গাগুলো তারা চিহ্নিত করবে। তারা আমাদের সাজেস্ট করবে পর্যটন উন্নয়নের জন্য, সেটা আমরা দ্রুত বাস্তবায়ন করবো। আমাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা ছাড়া পর্যটনের বিকাশ সম্ভব নয়। পর্যটন বিকাশের জন্য আমাদের জাতি হিসেবে পর্যটনবান্ধব হতে হবে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মূল্যবোধ কাজে লাগাতে পারলেই দেশ এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পর্যটন এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব অর্জিত মূল্যবোধ প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া পর্যটন কর্পোরেশনকে অবশ্যই পর্যটনের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে ও উদ্যমী হতে হবে। গতানুগতিক কাজের মাধ্যমে পর্যটনের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। আমরা পর্যটনের দৃশ্যমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি।

সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক বলেন, আগামী এপ্রিল  থেকে সরাসরি সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট চালু করা হবে।  সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ৯১২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ডিজাইনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ বছরের মধ্যে একটা ডিজাইন দেবে। অতি দ্রুত কক্সবাজার থেকে ২৪ ঘন্টা ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে।

ট্রাভেল ম্যাগাজিন ভ্রমণের সম্পাদক আবু সুফিয়ানের উপস্থাপনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র দাস, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.  মোকাব্বির হোসেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের ডিআইজি মল্লিক ফখরুল ইসলাম, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান  মো. সবুর খান ও গ্লোবাল টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নওয়াজিশ আলী খান প্রমুখ।

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর