শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২০ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ মার্চ, ২০২১ ২৩:৩৩

নোয়াখালীতে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, আটক ১

হবিগঞ্জের ঘটনায় স্বীকারোক্তি

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালী সদর উপজেলার চরমটুয়ায় হাছিনা আক্তার (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরিবার জানিয়েছে, গতকাল সকালে তুলে নেওয়ার পর দুপুরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় অভিযুক্ত রায়হানকে আটক করেছে। হাছিনা আক্তার চরমটুয়ার বেলাল হোসেনের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী। পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, সকাল ৯টার দিকে হাছিনা ঘর বের হয়ে মাদরাসার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। পথ থেকে তাকে নোয়াখালী জেলা শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুরের রায়হান নামের একটি ছেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। মাইজদীর কোনো এক বাসায় হাছিনাকে আটক রেখে ধর্ষণ করে। পরে হাছিনা তার বড় বোনকে ফোনে বিষয়টি বলে দেওয়ায় সে তাকে হত্যা করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্ত রায়হানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেদ উদ্দিন জানান, আটকৃকত রায়হান দাবি করেছে তাদের দুজনের মধ্যে প্রেম ছিল। সকালে রায়হানের সঙ্গে মাইজদীর একটি বাসায় হাছিনা ছিল। সেখানে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হাছিনা আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে হাসপাতালে আনলে মারা যায়।

হবিগঞ্জের ঘটনায় স্বীকারোক্তি : হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঢাকায় কাজ করা বাগেরহাটের এক গার্মেন্টকর্মী হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে বান্ধবীর বিয়েতে এসে গণধর্ষণের শিকার হন। পরে ধর্ষণকারীরা ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে ঘরের শিলিংয়ে ঝুলিয়ে রাখে বলে আটকদের দুজন স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ মার্চ ছিল ধর্ষিতার বান্ধবী কোহিনুরের বিয়ে। ভিকটিম এতে অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে তার বাড়িতে আসেন। সেখানে প্রেমিক শিপন মিয়া ও তার আরও তিন সহযোগী মিলে তাকে ধর্ষণ করে। শেষে তাকে সবাই মিলে ঘরের শিলিংয়ে ঝুলিয়ে রাখে, যাতে সবাই মনে করে যে সে আত্মহত্যা করেছে। ধর্ষণকারীরা পরে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে ওই বাড়ির লোকজন ঘরের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে ভিকটিমকে ঝুলে থাকতে দেখে তাকে নামিয়ে আনেন এবং চিকিৎসা করিয়ে প্রাণ বাঁচান।

তিন দিন পর গত ১৫ মার্চ তারা তাকে তার বড় বোনের কাছে হস্তান্তর করেন। ওইদিন রাতেই ভিকটিম ও তার বোন লাখাই থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ নোয়াগাঁও গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে আশরাফ উদ্দিনের স্ত্রী আফিয়া বেগম, মকবুল হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন দিলু ও দেলোয়ার হোসেন দিলুর স্ত্রী রাবেয়া খাতুনকে গ্রেফতার করে।

এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে আফিয়া বেগম ও রাবেয়া খাতুনকে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা বেগমের আদালতে হাজির করলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তাতে ঘটনার বিবরণ দিয়ে তারা জানান, ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই ধর্ষকরা ভিকটিমকে ঘরের শিলিংয়ে ঝুলিয়ে রেখেছিল। আদালত ২২ ধারায় এ জবানবন্দি রেকর্ড করে।

লাখাই থানার ওসি (তদন্ত) মহিউদ্দিন জানান, গার্মেন্টকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে শিপন মিয়া ও তার তিন সহযোগী মিলে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে ঘরের শিলিংয়ে ঝুলিয়ে রাখে। তবে ভিকটিমের মৃত্যু না হওয়ায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।


আপনার মন্তব্য