শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৩:১২
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৫:১৪

প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি

পীর হাবিবুর রহমান

প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি
পীর হাবিবুর রহমান

এই বাংলাদেশ মেনে নিতে না পারার গভীর ক্রন্দনে একাকিত্বের অন্তহীন দহনে দগ্ধ হতেই বেঁচে আছি?

রাজনৈতিক পরিচয়ে বাঈজী সর্দারনীর বেশ্যা ও তার দালাল, দুর্নীতিবাজ, দলকানা সুবিধাবাদি, বিশ্বাসঘাতকদের দাপুটে নষ্ট সমাজ আমরা চাইনি। একটি সমাজ আমরা চেয়েছিলাম, মূল্যবোধ থাকবে, রক্ষণশীলতাও থাকবে, কিন্তু আধুনিক হলেও শালীনতার পর্দা, চোখের পর্দা, মানবিকতা শেষ হবে না। কুসংস্কার উগ্রতা নির্বাসনে যাবে। একটা আদর্শিক সৎ নির্মল সহজ সরল জীবন আমরা চেয়েছিলাম। যেখানে মেধা যোগ্যতা সৃজনশীলতার মাধ্যমে মানুষ তার প্রাপ্য সম্মানী ও মর্যাদা লাভ করবে! সততা থাকবে, আত্মমর্যাদা ব্যক্তিত্ব থাকবে, কেবল লোভ লালসা দুর্নীতি কে 'না' বলবে সমস্বরে!

আমরা ধর্ম যার যার অবাধ স্বাধীনতায় পালনের উত্তরাধিকারিত্বের সাথে তার ও সামাজিক অনুশাসন মেনে জীবনযাপন চেয়েছি! কিন্তু ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি হিংসা বিদ্বেষ চাই না।

আমাদের পূর্বপুরুষরা একটি স্বাধীন গনতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত রাষ্ট্রের জন্য লড়েছেন, যুদ্ধ করেছেন। রক্ত কী পরিমাণ দিয়েছে মানুষ! ভাবলে গা শিউরে ওঠে! আমরাও গণতন্ত্রের জন্য আদর্শিক রাজনীতি ও সমাজের জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করেছি। জেল নির্যাতন সয়েছি, কত মিছিলের মুখ জীবন দিয়েছেন! কত রক্ত!

আমাদের পূর্বপুরুষরা প্রতারিত হয়েছেন,আমরা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছি। গনতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক সমাজ পাইনি, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বিনির্মাণও নয়! আমরা লুটেরা, ব্যাংক-শেয়ারবাজার ডাকাত, বিদেশে অর্থ পাচারকারী ও দুর্নীতিবাজদের কাছে আজ কি নিদারুণ অসহায়! জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনের মহোৎসব দেখি!

আদর্শবান সৎ মর্যাদাবান মানুষ আজ সমাজে উপহাসের পাত্র। জীবন তার বিষাদগ্রস্ত। একটা অস্থির অশান্ত সময়ের মুখোমুখি প্রিয় স্বদেশে আজ কোথাও মানুষের মূল্য নাই! মধ্যস্বত্বভোগী দালাল, তদবিরবাজ, চাঁদাবাজ, দালালের দৌরাত্ম্য চরমে।

প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি! গণবিরোধী আমলাতন্ত্রের কতৃত্ববাদী আচরণ, প্রকৌশলী চিকিৎসক সিভিল সোসাইটি গণমাধ্যম দলীয়করণ ও সুবিধাবাদিতার অন্ধকার গলির যাত্রী। রাজনীতিবিদদের হাতে রাজনীতি নেই, মাফিয়া ঠিকাদার, ব্যবসায়ী, অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের হাতে পচতে পচতে এখন বেশ্যা ও তার দালালদের হাতে রাজদুর্নীতি স্বর্ণযুগে! বেশ্যা, বাইজির সর্দারনীরা আজ দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে রাজনীতি সমাজ কলুষিত করেছে।

আদর্শিক রাজনীতির বাতি নিভু নিভু করছে, তবু হুশ নেই কারো। সমাজ পরিবার সবখানে মুখোশের লোভের লাভের বিষের ফনা। হৃদয় নির্বাসনে, সরলতা মরে যাচ্ছে, চতুরতা প্রতারণার রমরমা বাণিজ্য চলছে। বিশ্বাস উঠে বিশ্বাসঘাতকতার প্রসার ঘঠেছে। কী ভয়াবহ কুৎসিত পাপাচার বেইমানি যৌনবিকৃতির আগ্রাসনে সমাজ। যেখানে ক্ষমতা, যেখানে অর্থ স্বার্থ লাভ-লোভের চেহারায় সেখানেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছে নষ্ট সমাজের প্রতাপশালী দাসরা, দলকানা বেহায়া নির্লজ্জরা!

এমন দেশের জন্য কী বঙ্গবন্ধু জীবনটা উৎসর্গ করে দেশটা স্বাধীন করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন দিয়েছিলেন? এমন দেশের জন্য কি এতো সংগ্রাম, এতো রক্তগঙ্গা এমন ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা! মাঝে মাঝে অস্থির অশান্ত লাগে, সবাই ঘুমায় শান্তিতে, আমি সাধারন মানুষ, আমার মূল্যহীন আবেগ অনুভূতি, অন্তহীন বেদনায় কারও কিছু এসে যাক বা না যাক, অন্ধকার শয্যায় এপাশ ওপাশ করি! আমার দমবন্ধ লাগে।

ঘুমের ওষুধেও ঘুম আসে না! বিষাক্ত রাজনীতির দেউলিয়া অভিশপ্ত সমাজ আমার ঘুম কেড়ে নেয়! আমি কি তবে ভোরের প্রত্যাশায় নাকি হিমশীতল মৃত্যুর অপেক্ষাই করি! দেশের এতো ভালো মানুষেরা বোধহীন উপেক্ষিত আর বেশ্যা ও তাদের দালাল এবং দুর্নীতিবাজ আদর্শহীন বিশ্বাসঘাতকরা, নির্লজ্জ সুবিধাবাদি চরিত্রহীনরা সমাজে প্রতাপের সাথে দাপিয়ে বেড়ায়! এই বাংলাদেশ দেখে দেখে কি গভীর ক্রন্দনে একাকিত্বের দংশনে জীবন কাটাতে, মেনে নিতে না পারার অন্তহীন দহনে দগ্ধ হতেই বেঁচে আছি?

লেখক: বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য