শিরোনাম
প্রকাশ : ১৪ জুলাই, ২০২০ ০৯:১৭

শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের আদেশ; ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একজোট ২৩ সিটি

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের আদেশ; ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একজোট ২৩ সিটি

১৭ স্টেটের সাথে ২৩ সিটি যুক্ত হলো ট্রাম্প প্রশাসনের একটি গণবিরোধী বিধির বিপক্ষে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের পর গ্রেফতার করে নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়ার যে বিধি সপ্তাহখানেক আগে জারি করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে প্রথমেই এমআইটি ও হার্ভার্ড মামলা করে বস্টনের ফেডারেল কোর্টে।

অবিলম্বে সেই নির্দেশ বাতিল দাবিতে করা মামলায় বাদিপক্ষে যুক্ত হওয়ার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

উল্লেখ্য, যেসব কলেজ/ভার্সিটির সকল ক্লাস অনলাইনে গেছে বা যাবে, সেগুলোর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের প্রয়োজন নেই; তারা নিজ নিজ দেশ থেকেই ক্লাস নিতে পারবেন- এমন যুক্তি দেখিয়ে অবিলম্বে সকল শিক্ষার্থীকে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ জারি করেছে ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট। যারা এ নির্দেশ মান্য করবে না তাদেরকে গ্রেফতার করে ‘গুরুতর অপরাধী’র ন্যায় নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেবে আইস (ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টস এনফোর্সমেন্ট)-এমন হুমকিও রয়েছে ঐ বিধিতে।

শুধু তাই নয়, সেপ্টেম্বরের নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্যে যারা ভিসা পেয়েছেন সেগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে। কেউ যদি ওই ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসতে চায় তবে এয়ারপোর্ট ও সীমান্ত রক্ষীরা তাতে বাধা দেবে।

এমন একটি বিধি জারির পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কারণ, ৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে এসে তারা পূর্ণ টিউশন ফি প্রদান করেন। থাকা, খাওয়া ছাড়াও অনেক অর্থ (বার্ষিক গড়ে ১৪ বিলিয়ন ডলার) ব্যয় করেন তারা, যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অপরিসীম ভূমিকা রাখে। শুধু তাই নয়, সারাবিশ্বের মেধাবি ছেলে-মেয়েরা উচ্চ শিক্ষা লাভের পর অনেকেই অবস্থান করেন এদেশে, যার সুফল পাচ্ছে আমেরিকা।

বস্টন ফেডারেল কোর্টে দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, করোনার কারণে ক্লাসের আকার ছোট করা হচ্ছে। একইসাথে ক্লাসের বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। ডর্মে অবস্থান করেই যাতে অনেকে অনলাইনে ক্লাস ফলো করতে পারেন, সে চিন্তা-ভাবনার মধ্যেই সম্পূর্ণ রাজনৈতিক মতলবে ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি বিধি জারি করেছে। যার ফলে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ক্লাসের কোন সুযোগই থাকবে না। তাহলে কলেজ/ভার্সিটির খরচ উঠবে কীভাবে? ছাত্র-ছাত্রীরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং মাস্ক পরে কিছুটা কাছাকাছি আসতে পারলেও তাদের মতবিনিময় সহজ হবে। কেটে যাবে বিষন্নতা। একইসাথে ভার্সিটি পরিচালনার খরচও উঠবে।

মামলায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অনলাইনেও কোর্স দেয়া হবে। তবে সেজন্যে সকলকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থানের প্রয়োজন নেই।

একদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে, অপরদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতি বিরূপ আচরণ করে সবিরোধী আচরণে লিপ্ত হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন-এমন অভিযোগ করা হচ্ছে শীর্ষস্থানীয় ইউনিভার্সিটিসমূহের পক্ষ থেকে। এই মামলার পর ক্যালিফোর্নিয়া আরেকটি মামলা করেছে নিজস্ব উদ্যোগে। উভয় মামলার শুনানি হবার কথা আজ মঙ্গলবার।

উদ্ভূত পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো সোমবার বলেছেন, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি জঘন্য এবং নির্দয় বিধি। কারণ, আমরা সকল বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীকে স্বাগত জানাতেই অভ্যস্ত। সেই ধারা আমরা করোনার অজুহাতে রহিত করতে চাই না।

মেয়র বলেন, কমপক্ষে ৭০ হাজার বিদেশী শিক্ষার্থী নিউইয়র্ক সিটিতে অবস্থান করেন। তারা এই সিটির জীবন-মানে বৈচিত্র্য আনতে অপরিসীম অবদানের পাশাপাশি অর্থনীতিতেও অবদান রেখে চলেছেন। এর পরিমাণ বার্ষিক ৩.২৬ বিলিয়ন ডলার। তারা কমপক্ষে ৩৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানে সহযোগিতা দিচ্ছেন। এই সিটির ১২০টি কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে তারা লেখাপড়া করতে আসেন।

ইউনিভার্সিটিসমূহের মামলায় সম্পৃক্ত হওয়া সিটিগুলো হচ্ছে বস্টন, লসএঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক, আলবেনী, আলবুকোয়ের্ক, আলেক্সান্দ্রিয়া, অস্টিন, বারকেলী, ক্যাম্ব্রিজ, ক্যামেরুন, কলম্বাস, কুক কাউন্টি, ডেটোন, ডুরহাম, হার্টফোর্ড, আইওয়া, লাস ক্রুসেস, ওকল্যান্ড, পিটসবার্গ, সাক্রামেন্টো, সেন্ট পোল, সিয়াটল, সান্তাক্লারা, এ্যামহার্স্ট, সোমারভিলে প্রভৃতি।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর