শিরোনাম
প্রকাশ : ১ আগস্ট, ২০২০ ০৮:০৫

ভিয়েনায় ঈদুল আজহা উদযাপিত

আনিসুল হক, ভিয়েনা (অস্ট্রিয়া) থেকে

ভিয়েনায় ঈদুল আজহা উদযাপিত

মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আজহা অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ৩১ জুলাই (শুক্রবার) উদযাপিত হয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিধি-নিষেধ মেনে ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্য অনুসরণ করে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। 

নামাজ শেষে ছিল না কুশল বিনিময়ের উষ্ণ করমর্দন এবং কোলাকুলি। এই ঈদ আনন্দ ও বিষাদে মোড়ানো অন্য রকম ঈদ। প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিম সম্প্রদায় কর্তৃক পরিচালিত পাঁচটি মসজিদ রয়েছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায়। এই মসজিদগুলোতে প্রতিবারের মতো এবারও তিনটি করে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল আটটা, সাড়ে নয়টা ও এগারোটায় পরপর অনুষ্ঠিত জামাতে ভিড় ছিল না। 

ভিয়েনার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশিদের অর্থে ক্রয় করা বাড়িতে ‘বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার বাইতুল মোকাররম' এ স্থানীয় সময় সকাল আটটায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি করেন ড. ফারুক আল মাদানী। 

প্রধান জামাতে সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি, অস্ট্রিয়া প্রবাসী লেখক, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক এম. নজরুল ইসলাম, অস্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার হাফিজুর রহমান নাসিম, সহ-সভাপতি এমরান হোসেন, মিজানুর রহমান শ্যামল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহ কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন হোসেন, লুৎফর রহমান সুজন, অস্ট্রিয়া আওয়ামী লীগ নেতা গাজী মোহাম্মদ, সাজ্জাদ হোসেন হিমু, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার বাইতুল মোকাররম ভিয়েনার সভাপতি আবিদ হোসেন খান তপন, বাংলাদেশ অস্ট্রিয়া সমিতির সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অবদুর রব খান, অস্ট্রিয়া বিএনপি নেতা দেলওয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। 

তিনটি জামাতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করে মসজিদ পরিচালনা কমিটি। অস্ট্রিয়ায় সবগুলো ঈদের জামাতে করোনামুক্ত এবং মানবকল্যাণ ও বিশ্বময় শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। বাংলাদেশিদের মসজিদগুলোতে প্রতিটি জামাতে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের এবং মুসলিম উম্মাহর মঙ্গল কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। 

অন্যান্য বছরের মতো এবার ভিয়েনায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের অনেকেই কোরবানি দিচ্ছেন না। এর কারণ করোনাভাইরাস। ভিয়েনা শহরের মধ্যে পশু জবাই করা নিষিদ্ধ থাকায় শহরের বাইরে কসাইখানায় কোরবানি দিতে হয়। আর এইসব কসাইখানাগুলো ভিয়েনা থেকে বেশ দূরে। অনেকে ১০০ কিলোমিটার, কেউ ১৫০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে তাদের পছন্দের পশু কোরবানি করেছেন। 

কোরবানির ১/২ মাস আগে কসাইখানায় গিয়ে পশু নির্দিষ্ট করে বুকিং দিতে হয়। কোরবানির মাংস কেটে তা গুছিয়ে দেওয়ার জন্য ওই সময়টায় কসাইখানা কর্তৃপক্ষ মুসলমান কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। যার কারণে ইসলামিক নিয়ম মতো কোরবানি করতে কোনও রকম সমস্যা হয় না। 

উল্লেখ্য, অস্ট্রিয়া প্রবাসী সিংহভাগ বাংলাদেশি ভিয়েনায় বাস করেন। রাজধানীর বাইরে অন্যান্য শহরেও ঈদ উদযাপন করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর