শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৪১

মোহনবাগানের হোঁচট

রাশেদুর রহমান, চট্টগ্রাম থেকে

মোহনবাগানের হোঁচট
উয়েফা কিশোর ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপের বিপক্ষে গোল করার পর বাংলাদেশের কিশোরদের উল্লাস

কলকাতার ফুটবলে তিন প্রধান হিসেবে বেশ পরিচিত ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান ও কলকাতা মোহামেডান। তিন দলের বহু বছরের আধিপত্য শেষ হয়েছে গত মৌসুমে।

কলকাতা লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পিয়ারলেস। তবে তিন দলের দাপট কমেনি। বিখ্যাত তিনটি দলের দুটিই শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের প্রথম আসরে খেলেছে। সেই আসরের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। আর কলকাতা মোহামেডান কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি সেবার। গ্রুপের তলানিতে থেকে বিদায় নিয়েছিল দলটা। কলকাতা ফুটবলের তিন সেরা দলের মধ্যে মোহনবাগানই কেবল বাকি ছিল। এবার তাদেরকেও দেখে নিল চট্টগ্রামের দর্শকরা। গতকাল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে লাওসের দল ইয়াঙ এলিফেন্টের মুখোমুখি হয়েছিল ২০১৫ সালের আই লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান। কিন্তু সুখকর হয়নি অভিজ্ঞতা লাওসের অখ্যাত এক তরুণ ক্লাবের কাছে ২-১ গোলের লজ্জাজনক পরাজয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মেরুন রঙা জার্সিধারীরা।

ইয়াঙ এলিফেন্ট সত্যিই ইয়াঙ। মোহনবাগানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবও তাদেরকে বশে আনতে পারেনি। বুনো ষাঁঢ়ের মতো তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে গেছে ইয়াঙ এলিফেন্ট ম্যাচজুড়ে। মোহনবাগানের আঁটোসাঁটো ডিফেন্স লাইনকে পাত্তাই দেয়নি। দলে আছেন পাঁচ জন স্প্যানিশ ফুটবলার। যাদের কয়েকজন খুব ভালো স্প্যানিশ ক্লাবে খেলে এসেছেন। এদেরই একজন হুলেন কলিনাস। তিনি কালচারাল লিওনেসাতে খেলেছেন দুই মৌসুম। সে সময় কোপা দেল রেতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। দুই ম্যাচেই তার দল বড় ব্যবধানে হেরেছিল। তবে রিয়াল মাদ্রিদের মতো বিশ্বসেরা ক্লাবের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা অনেক বড় ব্যাপার। সেই হুলেন কলিনাসই গতকাল মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন। ম্যাচের ১৮ মিনিটে তিন স্প্যানিশের দারুণ বুঝাপড়ায় গোল করে মোহনবাগান। যোসেবা বেইতিয়ার কর্নার কিকে বল পেয়ে হেডে পাস দেন ফ্র্যান গঞ্জালেস। এবার বল পেয়ে হেডে গোল করেন হুলেন কলিনাস। এর ঠিক এক মিনিট আগে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল ইয়াঙ এলিফেন্ট। প্রথমার্ধটা মোহনবাগানই দারুণ খেলেছে। তবে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মিনিট আগে সমতায় ফেরে লাওসের ক্লাব ইয়াঙ এলিফেন্ট। ৪৩ মিনিটে চ্যানথাচোনের কৌশলী পাসে বল পেয়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে ছাড়িয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্লেসিং শটে গোল করেন সোমশেই কিউহ্যানাম। দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমে শুরুতে অনেকটা নিস্তরঙ্গ ম্যাচ উপহার দেয় দুই দল। তবে ৭৩ মিনিটে সোমসেই দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন। গোলটা হয়নি। তবে নিশ্চয়ই এর জন্য আফসোস নেই সোমশেইর। বিশেষ করে ম্যাচের ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি পাওয়ার পরও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারল না তারা। ডি বক্সে পেছন থেকে হুলেনকে ফাউল করলে ইয়াঙ এফিন্টের অধিনায়ক ভাননা বনলভঙসাকে লাল কার্ড দেখিয়ে বের করে দেন রেফারি। কিন্তু যোসেবা বেইতার পেনাল্টি শট রুখে দেন গোলরক্ষক শায়াসাবাত। এখান থেকে কাউন্টার অ্যাটাকে যায় ইয়াঙ এলিফেন্ট। ডি বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে বাতাসে ভাসিয়ে পাস দেন চ্যানথাচোন থিনোলাথ। দারুণ ভলিতে গোল করেন সোমশেই কিউহ্যানাম। আই লিগের সাবেক চ্যাম্পিয়ন দল লাওসের অখ্যাত এক ক্লাবের কাছে লজ্জাজনকভাবেই হারল।


আপনার মন্তব্য