ভক্তরা অনেক সময় বলেন একটা মানুষের জীবনে অপ্রাপ্তি বলে হয়তো কিছুই নেই। জীবনে সবই পেয়েছেন তিনি। ফুটবলে জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে সব পুরস্কারই জিতেছেন। লা লিগা, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, উয়েফা সুপার কাপ, ক্লাব বিশ্বকাপ, আটবার ব্যালন ডি‘অর ছাড়াও ব্যক্তিগত অসংখ্য অর্জন আছে ঝুলিতে। অথচ সেই মানুষটার শুধু ছিল না একটা বিশ্বকাপ। পুরো ফুটবল বিশ্ব চাইত তার একটা বিশ্বকাপ ট্রফি হোক। অবশেষে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয় করেই জবাব দেন লিওনেল মেসি। এখন সময় যতই গড়াচ্ছে অবসরের দিন ততই ঘনিয়ে আসছে। এখনো অবসরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেননি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ প্রান্তে চলে এসেছেন সুপার স্টার লিওনেল মেসি। এ সময়টা রাঙিয়ে রাখতে এবং শেষটা স্বজনদের নিয়ে উপভোগ করতে উন্মুখ হয়ে আছেন আটবারের ব্যালন ডি‘অর জয়ী। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, জাতীয় দলের জার্সিতে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তিনি দেশের মাটিতে বৃহস্পতিবার শেষ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছেন। এ দিন দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ভেনেজুয়েলাকে আতিথ্য দেবেন মেসিরা। আর ৯ সেপ্টেম্বর শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর। প্রতিপক্ষের মাঠে যা হবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে মেসির শেষ ম্যাচ। ফলে আলবিসেলেস্তাদের হয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ঘরের মাঠে হতে পারে নীল-সাদার জার্সিতে ১২৮ গোল করা জাদুকরের শেষ ম্যাচ। বুধবার রাতে অরল্যান্ডো সিটিকে হারিয়ে ইন্টার মায়ামিকে লিগস কাপের ফাইনালে তোলার পর সাংবাদিকদের মেসি বলেন, ‘এটা আমার জন্য খুব বিশেষ এক ম্যাচ হতে যাচ্ছে। আমি জানি না, এরপর কোনো প্রীতি ম্যাচ হবে কি না। তাই আমার পরিবার- স্ত্রী, সন্তান, ভাই, বাবা-মা ও স্ত্রীর পুরো পরিবার উপস্থিত থাকবে।’ এটা হয়তো অবসরের আগাম বার্তা বলে মনে করছেন সমর্থকরা। কেননা তারকারা তার ঘরের মাঠে প্রিয়জনদের উপস্থিতিতেই অবসরের ঘোষণা দেন। যদিও মেসি আগেই জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ হবে জাতীয় দলের জার্সিতে তার শেষ টুর্নামেন্ট।
২০৩০ সালে পরবর্তী বিশ্বকাপ। এ আসরের বাছাই পর্ব শুরু হবে ২০২৭ সালে। তখন মেসির বয়স হবে ৪০। ভেনেজুয়েলার ম্যাচ নিয়ে মেসির এমন মন্ত্যেবের পর দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের গভর্নিং বডি কনমেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির আর্জেন্টাইন জার্সি দিয়ে লিখেছেন, দ্য লাস্ট ড্যান্স ইজ কামিং। আগামী বছরের বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে জায়গা নিশ্চিত করে রেখেছে আর্জেন্টিনা। এদিকে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন মেসির শেষ হোম ম্যাচের টিকিটের দাম বাড়িয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম ১০০ ডলার এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুলটির দাম প্রায় ৫০০ ডলার।