Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:৩৮
ধর্মতত্ত্ব
আল্লাহর রহমত বয়ে আনুক নতুন বছর
মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী
আল্লাহর রহমত বয়ে আনুক নতুন বছর

জীবনের ঝাঁপি থেকে আরেকটি বছর ঝরে যাচ্ছে। ২০১৭-এর সূর্য বিদায় নিয়ে ২০১৮-এর সোনালি সূর্য মন আকাশে উঁকি দিচ্ছে। সকালের সূর্য যেমন বেলা ফুরালে ডুবে যায়, জীবনপ্রদীপও তেমনি হায়াত ফুরালে নিভে যায়। প্রদীপ জ্বলে তেলে। জীবন চলে হায়াতে। হায়াত নামক তেলেই চলছে আমাদের জীবনের গাড়ি। চলছে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। নির্দিষ্ট মনজিলের উদ্দেশে। মহাজ্ঞানী আল্লাহ তাঁর বিজ্ঞানময় গ্রন্থ কোরআনে বলেছেন, ‘ইজাজাআ আজালুহুম লা ইয়াস তা’খিরুনা সাওয়াতাও ওয়ালা ইয়াসতাকদিমুন’। ‘হে মানুষ! তোমাদের জীবন গাড়িতে আমি হায়াতের তেল ভরে ছেড়ে দিয়েছি। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্তই চলবে এ গাড়ি। যখন তেল ফুরিয়ে যাবে তখন আর একমুহূর্তও দেরি হবে না। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থেমে যাবে। তখন আমার দেওয়া হায়াত তেলের ঠিক ঠিক হিসাব দিতে হবে তোমাকে।’

এই হায়াত পেয়ে আমরা কোথায় কোথায় ভ্রমণ করেছি, নিষিদ্ধ কোনো এলাকায় ঢুকে পড়েছি কিনা— এসবের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিতে হবে মাবুদ রব্বানাকে। হায়! সেদিন কী হবে, যেদিন আল্লাহ আমাদের কাছে হায়াতের হিসাব চাইবেন। জীবনের ব্যাপারে প্রশ্ন করবেন। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো আদমসন্তানই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে কিয়ামতের দিন এক পা-ও সামনে এগোতে পারবে না। তাকে প্রশ্ন করা হবে— তার জীবন গাড়িতে লোড করে দেওয়া হায়াত তেল সে কোন কাজে ব্যয় করেছে? তার যৌবন কোন মৌবনে উড়ে উড়ে শেষ করেছে?...’ এভাবে যখন আল্লাহতায়ালা আমাদের প্রশ্নের জালে আটকে ফেলবেন তখন আমাদের কী উপায় হবে ভেবে দেখেছেন কি?

একটি বছর পাড়ি দিয়ে আরেকটি বছরে প্রবেশ করছি আমরা। জীবন প্রদীপের হায়াত তেল যেন আরেকটু শেষ হয়ে এলো। এভাবেই একদিন আমরা সেই নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে যাব। যখন আর সামনে এগোতে পারব না। তখন আমাদের কোনো সুযোগ থাকবে না। থাকবে শুধু প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির আনন্দ-বেদনা। আমরা যদি আমাদের এই হায়াতকে আল্লাহর মর্জিমতো ব্যয় করি, তবেই আমাদের আগামী হবে সুন্দর-স্বপ্নিল। আর আমরা যদি মিথ্যা মরীচিকার পেছনে ছুটে জীবনকে শেষ করে ফেলি তবে আমাদের জন্য রয়েছে অনন্ত দুঃখ-কষ্ট আর যন্ত্রণাময় আবাস।

হায়! জীবন থেকে একটি বছর ঝরে যাচ্ছে, অথচ আমাদের মাঝে নেই কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। উল্টো তরুণদের নিউইয়ার উদ্যাপনের দৃশ্য দেখলে মনে হয়, তারা যেন নবজন্ম লাভ করেছে। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির জোয়ারে আমাদের তরুণ প্রজন্ম এমনই ডুবে যায়, তাদের টেনে তুলতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এ সংস্কৃতির জোয়ারে তারা যেন ঝাঁপিয়ে না পড়ে তা রুখতে হয় আইন প্রয়োগ করে। তরুণদেরই বা দোষ দিয়ে কী লাভ! তারা তো তারুণ্যের জোয়ারে এখানে সেখানে হারিয়ে যেতেই পারে। কিন্তু তাদের ইসলাম সাগরে ডুব দেওয়ানোর কোনো পদক্ষেপ-উদ্যোগ আলেমদের পক্ষ থকে নেওয়া হয় না। তাদের জানানো হয় না— বন্ধু! পরদেশি সংস্কৃতিতে এভাবে ভেসে যাওয়ার দরকার কি? আমাদেরও তো একটি হিজরি সন আছে। এসো উৎসবের রং মেখে আমরা হিজরি সন উদ্যাপন করি। আনন্দের জোয়ারে ভেসে ভেসে ধর্মের নাওয়ের বৈঠা বাই। না, এ ধরনের কোনো আজান তরুণদের কানে দেওয়া হয় না। ফলে তরুণরা জানেও না হিজরি সন কী? কেন? কোত্থেকে এলো?

হে দরদি পাঠক! সময় বয়ে চলেছে। সেই নির্দিষ্ট সময় এগিয়ে আসছে। এখনো সময় আছে নিজেকে প্রস্তুত করুন। হায়াত তেল ফুরানোর আগেই জীবন গাড়িকে আল্লাহর দেখানো কোরআনের রাজপথে চালিয়ে নিন। নতুন বছর আমাদের জন্য আল্লাহর রহমতের বর্ষণ নিয়ে আসুক। নতুন সূর্য আমাদের জন্য আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দিক। মহান রবের দরবারে এই আমাদের প্রার্থনা।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। www.selimazadi.com

এই পাতার আরো খবর
up-arrow