গ্রিসের উত্তরাঞ্চলের পেট্রালোনা গুহায় পাওয়া এক প্রাচীন খুলি নিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন। প্রায় ৬০ বছর আগে, ১৯৬০ সালে গুহার দেয়ালে লেগে থাকা খুলিটি আবিষ্কৃত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটির উৎস নির্ধারণ করা যাচ্ছিল না।
তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, খুলিটি প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার বছর আগের এবং এটি আধুনিক মানুষ (হোমো সেপিয়েন্স) বা নিয়ান্ডারথালের নয়। বরং বিলুপ্ত এক প্রজাতি হোমো হাইডেলবারগেনসিসের (Homo heidelbergensis) অন্তর্গত। নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ইউরেনিয়াম-থোরিয়াম ডেটিং (এক ধরনের নিখুঁত বয়স নির্ধারণ প্রযুক্তি) ব্যবহার করেন।
আগে ধারণা করা হয়েছিল খুলিটির বয়স ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৭ লাখ বছরের মধ্যে হতে পারে। কিন্তু সর্বশেষ বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে, এটি অন্তত ২ লাখ ৮৬ হাজার বছরের পুরোনো। হোমো হাইডেলবারগেনসিস প্রজাতি প্রায় ৩ লাখ থেকে ৬ লাখ বছর আগে আফ্রিকায় বিকশিত হয়েছিল। পরে তাদের কিছু অংশ প্রায় ৫ লাখ বছর আগে ইউরোপে চলে আসে।
ইউরোপের জনগোষ্ঠী থেকে ধীরে ধীরে নিয়ান্ডারথাল তৈরি হয়, আর আফ্রিকার জনগোষ্ঠী থেকে আধুনিক মানুষ (হোমো সেপিয়েন্স) বিকশিত হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আকৃতিগত দিক থেকে পেট্রালোনা খুলিটি হোমো সেপিয়েন্স ও নিয়ান্ডারথাল উভয়ের চেয়ে বেশি প্রাচীন বৈশিষ্ট্য বহন করে। এর মাধ্যমে প্রমাণ মেলে যে, ইউরোপে সেই সময় নিয়ান্ডারথালের পাশাপাশি আরও একটি প্রাচীন মানুষজাতির অস্তিত্ব ছিল। গবেষকরা আরও জানান, খুলিটির আকার ও মজবুত গঠনের ভিত্তিতে এটি একজন পুরুষের বলে ধারণা করা হয়।
এজন্যই একে অনেক সময় ‘পেট্রালোনা ম্যান’ নামে উল্লেখ করা হয়। এ খুলিটি আফ্রিকার জাম্বিয়ায় পাওয়া কাবওয়ে খুলির সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে। কাবওয়ে খুলির বয়সও প্রায় ৩ লাখ বছর এবং সেটিও হোমো হাইডেলবারগেনসিস হিসেবে স্বীকৃত। গ্রিসের থেসালোনিকি শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে চকিডিকির পেট্রালোনা গুহা থেকে পাওয়া এ খুলিকে মানবজাতির বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল