Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ জুন, ২০১৬ ২২:৫৩
উত্তরা থেকে মতিঝিল ৩৮ মিনিটে
প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা
বিশেষ প্রতিনিধি
উত্তরা থেকে মতিঝিল ৩৮ মিনিটে

রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার পথ ৩৮ মিনিটে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশের প্রথম মেট্রোরেল রুটের বিশাল কর্মযজ্ঞের উদ্বোধন হলো গতকাল। এর মধ্য দিয়ে যোগাযোগ স্বপ্নযাত্রার নতুন মহাসড়কে পা রাখল বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে গাজীপুর থেকে শাহজালাল বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণ কাজেরও উদ্বোধন করেন তিনি।

এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে রাজধানীর পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামোতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। রাজধানীর যানজট নিরসনে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) অংশ হিসেবে নগরীতে পাঁচটি রুটে নির্মাণ করা হচ্ছে মেট্রোরেল। এর মধ্যে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট-এমআরটি-৬ রুটের নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মেট্রোরেল নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। রাজধানীতে মেট্রোরেলের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ চলছে অনেকদিন থেকে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই কাজে দুরন্ত গতি ফিরে আসছে। পাশাপাশি অন্য চারটি রুটের প্রাথমিক কাজও শুরু হচ্ছে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) সহায়তা দিচ্ছে ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বাকি প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। প্রতি ঘণ্টায় উভয়দিকে ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে এ রুটে। প্রায় ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৬-এর পুরোটাই হবে এলিভেটেড। রাজউকের উত্তরা তৃতীয় প্রকল্পে মেট্রো রেলের ডিপো নির্মাণের কাজ চলছে। ২০ কিলোমিটার মেট্রোরুটে ১৬টি স্টেশনের মধ্যে উত্তরাতেই থাকছে তিনটি স্টেশন। সেগুলো হচ্ছে উত্তরা নর্থ, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা সাউথ। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পেছন দিয়ে উত্তরার তিনটি স্টেশনের পর পল্লবী, মিরপুর ১১, মিরপুর ১০, কাজী পাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও পর্যন্ত নয়টি স্টেশনের একাংশে মেট্রো রেলের বাণিজ্যিক চলাচল শুরু হবে ২০১৯ সালের মধ্যে। বাকি সাতটি স্টেশন বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত অংশটি চালু হবে ২০২০ সালের মধ্যে। জানা গেছে, রাজধানীতে পর্যায়ক্রমে মেট্রোরেলের আরও চারটি রুট নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে দুটি রুট নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। এর একটি হচ্ছে এমআরটি রুট-১। গাজীপুর থেকে ঝিলমিল প্রকল্প পর্যন্ত এটির দৈর্ঘ্য হবে ৪২ কিলোমিটার। প্রথম পর্যায়ে এ রুটের কাজ হবে এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর এবং খিলক্ষেত থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১০ কিলোমিটার হবে মাটির নিচে (আন্ডারগ্রাউন্ড)। এমআরটি-১ এর পাশাপাশি মহানগরীর পূর্ব-পশ্চিমে সংযোগ বাড়াতে চূড়ান্ত করা হয়েছে এমআরটি-৫ এর রুটও। এটি নারায়ণগঞ্জের ভুলতা থেকে গাবতলী পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে ভাটারা থেকে গাবতলী-হেমায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ৬ কিলোমিটার হবে মাটির নিচে। ইতিমধ্যে জাইকা এমআরটি রুট-১ ও রুট-৫ নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে। এদিকে এমআরটি-৬-এর মেট্রোরেলের ডিপো নির্মাণের জন্য ২৭ মার্চ একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজধানীর উত্তরা তৃতীয় পর্বে মেট্রোরেলের ডিপো নির্মাণের কাজ দেওয়া হয়েছে জাপানের টোকিও কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে। ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় হবে ৫৬৭ কোটি টাকা। অর্থায়নকারী সংস্থা জাইকার সম্মতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নকাল এগিয়ে আনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, ২০১৯ সালে মেট্রোরেল রুট-৬-এর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের বাণিজ্যিক পরিচালনা সম্ভব হবে। বাকি অংশ চালু হবে পরের বছর, ২০২০ সালে। এমআরটি-৬ চালু পুরো রুট হলে রাজধানীর দুর্বিষহ যানজটের অনেকটা লাঘব হবে বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ভবন, টিএসসি, জাতীয় জাদুঘরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশ দিয়ে রুট নির্মাণে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির শব্দ নিরোধক যন্ত্র স্থাপন করা হবে।

বাস র‌্যাপিট ট্রানজিট : গাজীপুর থেকে শাহজালাল বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) রুটের নির্মাণ কাজেরও উদ্বোধন হলো গতকাল। এটি চালু হলে টঙ্গী ও উত্তরার সঙ্গে ঢাকা মহানগরীর যাতায়াত সহজতর হবে। এর মধ্য দিয়ে দ্রুত ও সাশ্রয়ী যাত্রী পারাপারের পাশাপাশি আরামদায়ক সেবা নিশ্চিত করা যাবে এবং রাজধানী ঢাকাকে যানজটমুক্ত করাও অনেকাংশে সহজ হবে বলেও সরকারের প্রত্যাশা। সাড়ে ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিআরটি রুটে থাকবে ২৫টি স্টেশন। নির্মাণ করা হবে ছয়টি ফ্লাইওভার। এর মধ্যে উত্তরা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার এলিভেটেড বিআরটি লেন থাকবে। বাকি ১৬ কিলোমিটার থাকবে সমতলে। ১৮ মিটার দৈর্ঘ্যের ১০০টি আর্টিকুলেটেড বাস চলাচল করবে এ পথে। বাস ভাড়া আদায় হবে ইলেকট্রনিক স্মার্ট কার্ডে। তিন মিনিট পরপর স্টেশন থেকে বাস ছাড়বে। বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রতি ঘণ্টায় ২৫ হাজার যাত্রী পারাপার সম্ভব হবে। বিআরটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৪০ কোটি টাকা। সরকারের পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা ও গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাসিলিটি ফান্ড এতে অর্থায়ন করছে। বিআরটি প্রকল্পটি দ্বিতীয় পর্যায়ে বিমানবন্দর থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

up-arrow