শিরোনাম
প্রকাশ : ২ এপ্রিল, ২০২০ ১৮:১৩
আপডেট : ২ এপ্রিল, ২০২০ ১৮:১৪

দেশের সংকটকালে গবেষণায় নেই গবেষণার 'শীর্ষ' প্রতিষ্ঠান!

রাবি প্রতিনিধি

দেশের সংকটকালে গবেষণায় নেই গবেষণার 'শীর্ষ' প্রতিষ্ঠান!

করোনা মোকাবেলায় সারাবিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নানা গবেষণাকর্ম পরিচালনা করলেও স্কোপাসের জরিপে দেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে গবেষণায় শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) দেশে সবচেয়ে সংকটে রয়েছে অনেকটা নিষ্ক্রিয় ভূমিকায়। 

ফার্মেসী বিভাগের উদ্যোগে স্যানিটাইজার তৈরি ছাড়া করোনা প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়টির আর কোনো উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম চোখে পড়েনি। দেশের এই সংকটে বিশ্ববিদ্যালয়টির ফার্মেসী বিভাগ, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগগুলোর ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ থাকলেও এ সকল বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অন্যান্য বিভাগের মতো আছেন ছুটিতে!

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনাভাইরাস রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় উপাচার্য ভবনে অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে ঢাবি করোনাভাইরাস রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির একটি জরুরি সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে, ২৪ ঘণ্টায় ২০০টি করোনা পরীক্ষার সক্ষমতার কথা জানায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) কর্তৃপক্ষ। যবিপ্রবির জিনোম সেন্টার গবেষণাগারটি করোনা পরীক্ষার মানসম্পন্ন দাবি করে কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ লোকবল তাদের রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে পরীক্ষার কিট ও নমুনা সরবরাহ করলেই একদিনেই শনাক্তের ফলাফল জানা যাবে। এ ধরনের কোনো কার্যক্রমও চোখে পড়েনি রাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

দেশের এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিস্ক্রিয়তায় হতাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। তারা বলছেন, দেশের এমন সংকটময় মুহূর্তে গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জায়গা আছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু গবেষণায় অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান তাই এই সংকটে অনেক কিছু করার সুযোগ আছে।

এই সংকটের মুহূর্তে শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু করার সুযোগ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আশিক মোসাদ্দিক বলেন, এই বিষয়ে কাজ করা সুযোগ অবশ্যই আছে। আমাদের বিভাগেরই অনেক শিক্ষক আছেন যারা মলিকুলার বায়োলজি ও জেনেটিক্স বিষয়ে অভিজ্ঞ। তাদেরকে নিয়ে আমরা চিন্তা করছি কিছু করা যায় কিনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর কর্তৃপক্ষ যদি চায় তাহলে আমরা চেষ্টা করবো কিছু কাজ করার।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইরাস ডিটেকশন করার মতো সুযোগ এখন পর্যন্ত নেই, সরকার যদি এখানে ল্যাব করে দেয় তাহলে আমাদের সেই সক্ষমতা আছে। আমরা জিনোম সিকোয়েন্স থেকে শুরু করে ভাইরাস ডিটেকশন করা বা এ নিয়ে আরও গবেষণা করতে সক্ষম।

বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরণের কোনো গবেষণা কার্যক্রম চলছে কিনা জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা বলেন, আমার জানা মতে আমাদের এখানে এ ধরনের কোনো কাজ হচ্ছে না এখনো পর্যন্ত। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় এ ধরণের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ কম।


আপনার মন্তব্য