শিরোনাম
প্রকাশ : ৩ জুলাই, ২০২১ ১৮:৪১
আপডেট : ৩ জুলাই, ২০২১ ১৮:৪৭
প্রিন্ট করুন printer

অফিস পাড়ায় দাপট দেখাচ্ছে বানরের দল!

সাইফুল ইসলাম বেগ, বিশ্বনাথ (সিলেট)

অফিস পাড়ায় দাপট দেখাচ্ছে বানরের দল!
Google News

ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে বন-জঙ্গল। প্রকট হচ্ছে খাদ্য সংকট। এ অবস্থায় লোকালয়ে ছুটে আসছে স্তন্যপায়ী প্রাণী বানর। টিকে থাকার লড়াইয়ে মানুষের সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিচ্ছে তারা। ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন বাসা-বাড়ির ছাদ ও অফিস পাড়ার কার্নিসে খুঁজে নিচ্ছে আশ্রয়। তেমনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি সিলেটের উপপরিচালকের কার্যালয় ভবনে বসতি গড়েছে একদল বানর। আশপাশের গাছ-গাছালি থেকে ফলমূল ও অফিস ষ্টাফদের দেয়া খাবারে স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটাচ্ছে বানরেরা। এ অফিস পাড়া যেন হয়ে উঠেছে তাদের নিরাপদ আবাসন। 

সরেজমিন সিলেট শহরের ধোপাদিঘিরপাড়স্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ভবনের তৃতীয় তলার কার্নিসে কিছু দূর পরপর বসে আসে বানর। কোথাও একত্রে বসেছে দু’টি। কারও পাশে আছে বাচ্চাও। আগন্তুকের উপস্থিতিতে বিচলিত নয় কেউ। স্বাভাবিক ভাবেই খুনসুটিতে ব্যস্ত ওরা। এটি যেন তাদের অভয়াশ্রম। 

অফিস সূত্র জানায়, বহু আগ থেকে উপ-পরিচালকের কার্যালয় ভবনে নিরাপদ আবাসন গড়ে ৮০-৯০ সদস্যের একদল বানর। দিনের বেলা দল বেঁধে চষে বেড়ায় নতুন-পুরাতন ভবনসহ পুরো এলাকা। কখনও প্রতি কার্নিসে সারিবদ্ধ ভাবে বসে নেয় বিশ্রাম। মাঝে মধ্যে বিভিন্ন অফিস রুমে ঢুকে দখলে নেয় কর্তার চেয়ারও। এলোমেলো করে রাখে টেবিলের কাগজাদি। রাত্রি যাপনে তাদের পছন্দ পুুরনো অফিস ভবন। সন্ধ্যার সাথে সাথে ওই ভবনে জড়ো হয় সবাই। যার যার মতো ঘুমিয়ে পড়ে নি:শব্দে। পরদিন ভোর থেকেই শুরু লাফালাফি। এগাছ থেকে ওগাছে, এভবন থেকে ওভবনে। মধ্যখানে একটু জিরিয়ে দিনভর ফের ছুটাছুটি। কখনও হেটে বেড়ায় আপন মনে।  

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক দিলীপ কুমার অধিকারী ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’কে বলেন, আমি এসে ওদের দেখেছি। শুনেছি বানরেরা বহু আগ থেকে এখানে আছে। মাঝে মধ্যে আমাদের বিরক্ত করে। ভেতরে প্রবেশ করে নিয়ে যায় খাবার। কেটে দেয় টেলিফোনের তারও। এতে তেমন সমস্যা হয় না। খাদ্যের অভাবে তারা এসেছে। এ প্রাণী পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই আমরা তাদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করেছি।  


বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর