Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ২০:৪২

চট্টগ্রামে মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণে সহযোগী গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামে মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণে সহযোগী গ্রেফতার

চট্টগ্রামে প্রায় তিন মাস আগে জোর করে গাড়িতে তুলে মাদরাসাছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ‍দুই ধর্ষকের সহযোগী মো. শাহাবুদ্দিনকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার জলদি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে নগরীর কোতোয়ালী থানা পুলিশ। একই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ধর্ষকের একজন শাহাবুদ্দিন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছিল এবং অপরজন শ্যামল দে-কে গ্রেফতারের কারাগারে আছেন।  

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত শাহাবুদ্দিন ধর্ষক নয়। তবে ধর্ষিতা মেয়েটিকে ফাঁদে ফেলে ‍পুনরায় ধর্ষণের চেষ্টায় সে যুক্ত ছিল। আগে থেকে অবহিত হওয়ায় তাদের চেষ্টা ভেস্তে যায়। এ সময় শাহাবুদ্দিন পালিয়ে যায়। তিনমাসের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করা হয়।’  

কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘তদন্তে জানা যায়, ধর্ষণের সময় ব্যবহৃত গাড়িটি ছিল একজন চিকিৎসকের, যেটি চালাত শাহাবুদ্দিন (মৃত)। দ্বিতীয়দিন মেয়েটিকে তুলে নেওয়ার সময় ব্যবহৃত প্রাইভেট  কারটি ছিল একজন ব্যাংক কর্মকর্তার। এই প্রাইভেট কারটি চালাত গ্রেফতার হওয়ার শাহাবুদ্দিন।’  

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরের জামালখান পিডিবি আবাসিক কোয়ার্টারের সামনে থেকে নবম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীকে জোর করে প্রাইভেট কারে তুলে নেয় চালকসহ দুই যুবক। এরপর গাড়িটি নির্জন সার্সন রোডে নিয়ে গিয়ে উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে দু’জন পালাক্রমে গাড়ির ভেতরে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণের অভিনয় করে তারা। পরে আবার সেই ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে। পরদিন ২৮ জানুয়ারি তারা আবারও মেয়েটিকে দেখা করার কথা বলে। এরপর মেয়েটি ও তার ভাই বিষয়টি কোতোয়ালি থানায় জানান। পুলিশ ধর্ষকদের ধরার জন্য ফাঁদ পাতে। ওইদিন সন্ধ্যায় ফের মেয়েটিকে নগরীর দিদার মার্কেট এলাকায় আরেকটি প্রাইভেট কারে তুলে নেওয়া হয়। গাড়িটি লালদিঘীর পাড় এলাকায় যাবার পর পুলিশ সেটির গতিরোধ করলে গাড়ি ফেলে তারা পালিয়ে যায়। পরে দুই ধর্ষকের একজন শ্যামল দে-কে (৩০) নগরীর দেওয়ান বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আরেক ধর্ষক মো. শাহাবুদ্দিনকে (২৩) রাতে নগরীর ফিরিঙ্গিবাজারের মেরিনার্স রোড থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় শাহাবুদ্দিন।

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার


আপনার মন্তব্য