শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২১:০৯

ব্যতিক্রমধর্মী রাজনীতির জন্য বেঁচে থাকবেন মহিউদ্দিন : আমু

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

ব্যতিক্রমধর্মী রাজনীতির জন্য বেঁচে থাকবেন মহিউদ্দিন : আমু

সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণকালে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর রাজনীতি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী, সৃষ্টিশীল ও সেবাধর্মী। সিটি মেয়র থাকার সময় এ শহরে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছেন, অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেছেন। জনগণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করেছেন। তিনি শ্রমিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করেছেন। তাই তিনি বেঁচে থাকবেন দীর্ঘকাল।

রবিবার চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রবীণ এই নেতা বলেন, আমি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ক্ষেপাতাম এই বলে যে, সুযোগ পেলে তিনি চট্টগ্রামের স্বাধীনতাই চাইতেন। চট্টগ্রামের স্বার্থে বন্দর ও এয়ারপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের বিরোধিতা করতেও দ্বিধা করেননি মহিউদ্দিন চৌধুরী। মেয়র থাকাকালীন চট্টগ্রামের কোনো প্রকল্প নিয়ে একনেকে তদবির করতে যাননি। তিনি নিজের উদ্যোগে উন্নয়ন কাজ করতেন।

এদিকে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চিন্তা চেতনায় শুধু চট্টগ্রামই ছিল বলে জানিয়েছেন তার সন্তান আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

নওফেল বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে রাজনীতি করেছেন তিনি। দলের জন্য কাজ করে তিনি জননেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। দলের তৃণমূলের একজন কর্মী থেকে জাতীয় নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। কিন্তু জাতীয় নেতৃত্বে তিনি কখনও আগ্রহ দেখাননি। কারণ তার চিন্তা ও চেতনায় ছিল শুধু চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের উন্নয়ন।

নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, মহিউদ্দিন ভাই ছিলেন আপোষহীন রাজনীতিবিদ। তিনি জনগণের জন্য রাজনীতি করতেন। জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য রাজনীতি করতেন। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে হাতেখড়ি হয়েছিলো তার। পরবর্তীতে শ্রমিক রাজনীতি করার দায়িত্ব পান। এরপর হাল ধরেন আওয়ামী রাজনীতির। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যখন কেউ প্রতিবাদ করতে পারেনি, ঘর থেকে বের হতে পারেনি তখন মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম থেকে প্রথম প্রতিবাদ করেছেন।

তিনি বলেন, মহিউদ্দিন ভাইয়ের আদর্শকে ধারণ করতে হবে। তার দেখানো পথে চলতে হবে। ন্যায় নীতি সংগ্রামী জীবনের আদর্শ ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালাম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম। 

সভায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, অ্যাডভোকেট সুনীল সরকার, সহ-সভাপতি ও সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমীন ও এমএ লতিফ, মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য