শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ মার্চ, ২০২০ ২২:২৭
আপডেট : ২৯ মার্চ, ২০২০ ০৮:১৩

করোনা সচেতনতার ছবি তুলতে গিয়ে লাঠিপেটার শিকার দুই সাংবাদিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

করোনা সচেতনতার ছবি তুলতে গিয়ে লাঠিপেটার শিকার দুই সাংবাদিক

করোনা সংক্রমণ এড়াতে সরকারি প্রচার-প্রচারণার ছবি তুলতে গিয়ে পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটার শিকার হয়েছেন বরিশালের দুই ফটো সাংবাদিক। 

শুক্রবার সন্ধ্যার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কোনো কারণ ছাড়াই ওই দুই ফটো সাংবাদিককে পেটানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। 

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনার কথা বলেছেন বরিশালের পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান। 

লাঠিপেটার শিকার দুই ফটো সাংবাদিক হলেন আঞ্চলিক দৈনিক দেশ জনপদ পত্রিকার শাফিন আহমেদ রাতুল ও দৈনিক দক্ষিণের মুখ পত্রিকার নাসির উদ্দিন। 

রাতুল জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেন শুক্রবার সন্ধ্যায় জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যান। এ সময় তার বহরে পুলিশের দুটি পিকআপ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছানোর পর মাস্ক পরিহিত একজন পুলিশ সদস্য তাদের পরিচয় জানতে চান। তারা নিজেদের আঞ্চলিক দুটি দৈনিকের ফটো সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। এরপরও ওই পুলিশ সদস্য তাদের বেদম লাঠিপেটা করেন। এতে তারা হতভম্ব হয়ে যান। প্রথমে লোকলজ্জার কারণে তারা বিষয়টি চেপে যান। তবে আজ রাগে ক্ষোভে সহকর্মীদের জানান।

বরিশাল প্রেসক্লাব সভাপতি অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল কর্মরত অবস্থায় দুই সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান এবং একই সাথে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান। 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেন জানান, তার সাথে পুলিশ ছিল। তিনি কাউকে পেটাতে নির্দেশ দেননি। কোনো পুলিশ সদস্য সাংবাদিক পিটিয়েছে তা তিনি দেখেননি। যদি সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, তাহলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। 

মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের সাথে ভাল ব্যবহার করে তাদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে নিজ নিজ ঘরে রাখতে সকল পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শুধু সাংবািদক নয়, সাধারণ জনগণের সাথে দুর্ব্যবহার করলেও সেটা কাম্য নয়। দুই সাংবাদিককে লাঠিপেটার খবর তিনি শুনেছেন। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানান মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার।


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য