শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ জুন, ২০২১ ১৯:২৯
প্রিন্ট করুন printer

হাইকোর্টের রায়ে বাকেরগঞ্জের ৪ শিশুর পরিবারে সন্তুষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

হাইকোর্টের রায়ে বাকেরগঞ্জের ৪ শিশুর পরিবারে সন্তুষ্টি
হাইকোর্টের রায়ে বাকেরগঞ্জের ৪ শিশুর পরিবারে সন্তুষ্টি।
Google News

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় ৪ শিশুকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে সেফ হোমে প্রেরণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এতে খুশি ভুক্তভোগী ৪ শিশু ও তাদের স্বজনরা। তারা এই রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

উচ্চ আদালতের এই রায় সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে প্রত্যাশা সুশীল সমাজের। শিশু আইনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অজ্ঞতার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন বরিশালের পাবলিক প্রসিকিউটর। অপরদিকে, উচ্চাদালতের রায়ের কপি হাতে পেলে অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন বরিশালের পুলিশ সুপার।

বাকেরগঞ্জের রূনসী গ্রামে ৬ বছর বয়সী এক প্রতিবেশী মেয়ে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গত বছরের ৬ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই না করে পুলিশ ওই দিনই সাইদুল ইসলাম (১১), সোলায়মান ইসলাম তামিম (১০), হাফিজুল ইসলাম লাবিব (১০) ও শাওন হাওলাদারকে (১০) গ্রেফতার করে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাকেরগঞ্জ আমলী আদালতে প্রেরণ করে।

বিচারক মো. এনায়েতউল্লাহ শিশু আইন অনুসরণ না করে তাদের জামিন না মঞ্জুর করে যশোরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
 
এ ঘটনায় গত রবিবার উচ্চ আদালতের দেওয়া রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন শিশুদের স্বজনরা। উচ্চ আদালতের এই রায় থেকে সংশ্লিষ্টরা শিক্ষা নেবেন বলে প্রত্যাশা করেন বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা। 

বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর বলেন, ধর্ষণ মামলা জামিন অযোগ্য অপরাধ। এই মামলায় জামিন দেওয়ার এখতিয়ার নিম্ন আদালতের বিচারকের নেই। তার উচিত ছিল শুনানির জন্য শিশু আদালতে প্রেরণ করা। শিশু আইনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অজ্ঞতার কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, উচ্চাদালতের রায়ের কপি পেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন বরিশালের পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন। 

গত রবিবার উচ্চ আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে ওই ধর্ষণ মামলাটি বাতিল করেন। এছাড়া শিশু আইন অনুসরণ না করায় সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের ফৌজদারী এখতিয়ার প্রত্যাহার এবং দায়িত্ব অবহেলার দায়ে বাকেরগঞ্জের তৎকালীন ওসি আবুল কালাম, উপ-পরিদর্শক বশির উদ্দিন ও উপজেলা প্রবেশন কর্মকর্তা আবু তাহেরকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদেশে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর