১০ আগস্ট, ২০২১ ১৩:২৯

আকাইদ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক

আকাইদ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বাসা থেকে খেলতে বের হয়েছিল পাঁচ বছরের শিশু জিসানুল ইসলাম আকাইদ। এরপর আর বাসায় না ফেরায় স্বজনেরা খোঁজখবর শুরু করেন। একপর্যায়ে রাস্তার পাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়, ছোট্ট শিশুটিকে এক ব্যক্তি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। তিন দিনের মাথায় সোমবার পুলিশ আকাইদের গলিত লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের খবর দেয়।

পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নন্দীপাড়ার ২ নম্বর সড়কে নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয়তলা থেকে শিশুটির গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বাবাসহ স্বজনদের ডেকে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।  

এ ঘটনায় জিসানুল ইসলাম আকাইদের বাবা মোঃ আব্দুল মালেক খিলগাঁও থানায় হাজির হয়ে এজাহার দায়ের করেন। 

এদিকে, সোমবার বেলা সাড়ে টার দিক থেকে ডিসি (মতিঝিল বিভাগ), এডিসি (খিলগাঁও জোন), অফিসার ইনচার্জ, পুলিশ পরিদশক (তদন্ত), মামলার তদন্তকারী অফিসার ও অন্যান্য অফিসারসহ খিলগাঁও থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এই মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আসামি মোঃ সেলিমকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসামি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। 

আসামি প্রাথমিক ভাবে স্বীকার করে, সে পেশায় একজন রিকশা চালক। তার স্ত্রী নুপুর আক্তার দীর্ঘদিন যাবত কিডনী রোগে আক্রান্ত। এ ছাড়াও তার পেটের ভিতরে টিউমারের অস্তিত্ব রয়েছে। উক্ত রোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা করার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন হবে। তাই সে ঘটনাস্থলে বাড়ির মালিক বাবুলের স্ত্রীর কাছে গত ৩ আগস্ট টাকা চাইলেও মোটা অংকের টাকা প্রাপ্তিতে ব্যর্থ হয়ে সে মনে মনে পরিকল্পনা করে যে, সে কোন অবৈধ জিনিস বাবুলের বাড়িতে রেখে পরবর্তীতে তা অপসারণ করার জন্য তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করবে। সে চিন্তা বাস্তবায়ন করতেই একটি ক্ষুর কিনে নিজের কাছে রেখে দেয়। ৬ আগস্ট বিকাল ৩.৫০ মিনিটের দিকে সে রিকশা নিয়ে মধ্য নন্দীপাড়ায় যায় এবং সেখানে বাদীর বর্তমান ঠিকানার বাসার সামনে ৫/৬ জন বাচ্চাদের একসাথে খেলতে দেখে বাদীর ছেলে জিসানুল ইসলাম আকাইদ(০৫) কে তার রিকশাতে করে নুর মসজিদের দিকে নিয়ে যায় এবং পরে তাকে বাবুলের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে সেখানে থাকা রশি দিয়ে তার দুই হাত বেধেঁ ধারালো ক্ষুর দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তার পরিকল্পনা ছিল, যেহেতু বাড়ির মালিক তাকে ৪ আগস্ট বলে যে, ৭ আগস্ট বাসা পরিস্কার করতে হবে। তার বাড়ি পরিস্কার করার সময় এই লাশ দেখতে পেলে পুলিশী ঝামেলা এড়াতে লাশটি বাড়ি থেকে সরানোর চিন্তা করবে। এক্ষেত্রে বাড়ির মালিক তাকে দিয়ে লাশটি সরানোর উদ্যোগ নিলে সে বাড়ি থেকে লাশ সরানোর কাজের জন্য মোটা অংকের টাকা দাবি করবে। কিন্তু ৩ দিন যাবত বাড়ির মালিক তাকে বাড়ি পরিস্কার করার কাজের জন্য না ডাকায় এবং লাশের কোন প্রকার খোঁজ না পাওয়ায় তার এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।  

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর