২ জানুয়ারি, ২০২২ ১৭:২২

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো লাশ দেখতে চাই না: ইসি রফিকুল

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো লাশ দেখতে চাই না: ইসি রফিকুল

নির্বাচন কমিশনার মো: রফিকুল ইসলাম

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এমনটা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার মো: রফিকুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো লাশ দেখতে চাই না। তিনি বলেন, আমার জীবনে বহু লাশ দেখেছি কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আর কোনো লাশ দেখতে চাই না। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।

নাসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মাহফুজা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ, জেলা পুলিশ সুপার মো: জায়েদুল আলম, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মতিয়ূর রহমান। সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার আফরোজা আক্তার।

ভোট কেন্দ্র ভোটাররা যেতে পারবে কিনা? অনেক প্রার্থীর শঙ্কার জবাবে ইসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনে পর্যাপ্ত পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি রাখা হয়েছে প্রয়োজনে আরো বেশি রাখা হবে। আপনারা ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বলবেন। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, ইভিএমে একজনের ভোট অন্যজন দিতে পারে না। এটা নিয়ে সন্দেহ করার কোনো সুযোগ নেই। এটা পরীক্ষিত। ইভিএমে একটি মাত্র উপায় আছে হাতের আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে ব্যালট ওপেনের পর একজনের ভোট আরেকজনের দেয়ার। সেটা হল আরেকজন যদি আপনার ব্যালটে টিপ দিয়ে দেয়। এটা হলে সাথে সাথে বাধা দিবেন। এরপরেও বন্ধ না হলে ডকুমেন্টারি অভিযোগ দিবেন। দরকার হলে আমরা ভোট বন্ধ করে দিয়ে পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা নেব। ইভিএমে একজনের ভোট আরেকজনের কাছে চলে যাওয়া কখনও সম্ভব না। আমার অনুরোধ আপনারা এক্সপার্ট নিয়ে আসেন এবং আমাকে দেখান। কারচুপির প্রমাণ করতে পারলে আমি ইভিএমে ভোট করব না। এ আশংকার কোন কারণ নেই।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বলেন, সব প্রার্থী সমান সুযোগ পাবে। কেউ যাতে ব্যত্যয় না ঘটায় সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন। আপনারা যদি এ্যাকশন না নেন তাহলে আপনাদেরও আমরা ছাড় দিবো না। তিনি আরো বলেন, আমি নিজে নির্বাচন মনিটরিং করব। ভোটারদের মাঝে যেন ক্ষোভের সৃষ্টি না হয়। আপনাদের সহযোগিতা আমার দরকার। আপনারা মনে করবেন না আমরা উদাসীন। আপনারা আমাদের সহযোগীতা করবেন।

প্রতিটি ওয়ার্ডে ম্যাজিস্ট্রেট, থাকবে বিজিবি র‌্যাব-ডিসি : অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, আজকে মতবিনিময়কালে প্রার্থীরা অনেকগুলো প্রশ্ন করেছেন। গত এক বছরে কিন্তু আমরা নির্বাচন করেছি যা অত্যন্ত ফ্রি ফেয়ার ক্রেডিবল ছিল। জনগণ যাদেরকে ভোট দিয়েছে তারাই কিন্তু পাশ করেছে। ৯জন ম্যাজিস্ট্রেট ইতিমধ্যে কাজ করছে। আরো ৩০ জন ম্যাজিস্ট্রেট আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে রিক্যুজিশন দিয়েছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে। বিজিবি ইতিমধ্যে রিক্যুজিশন দিয়েছি। র‌্যাব থাকবে। অবৈধ পথে হাটার চিন্তা ছেড়ে দেন। ইভিএম নিয়ে কোন শংকা নেই। আমরাও দেখাতে চাই আমরা নিরপেক্ষ ভোট করতে পারি। যদি এজন্য আমাদের নারায়ণগঞ্জ থেকে চলেও যেতে হয় সেটাতেও আমরা রেডি আছি। তারপরেও আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাই। নারায়ণগঞ্জ অনেক ঐতিহাসিক জায়গা সম্মানের জায়গা। বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এখানে ছিলেন। তাই নারায়ণগঞ্জের সম্মান রক্ষায় আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।  

উপরে নিচে কাউকে চিনতে চাই না-এসপি : জেলা পুলিশ সুপার মো: জায়েদুল আলম বলেন, আমি গত দুই বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে রয়েছি। আমরা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করিনি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার আশঙ্কা ছিল। আমরা কিন্তু সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলো করতে পেরেছি আপনাদের সহযোগিতার কারণে। এই সিটির ভোটার ৫ লাখ হলেও কমপক্ষে ২০ লাখ বাসিন্দা বসবাস করে। ১৬ জানুয়ারী নির্বাচন উপলক্ষ্যে এই ২০ লাখ বাসিন্দার শান্তি শৃঙ্খলা নির্ভর করে আপনাদের ১৯৮ জন প্রার্থীর উপরে। আমরা আপনাদের সহযোগিতায় শুধু এই নারায়ণগঞ্জের ২০ লাখ কিংবা ১ কোটি লোককেই নয় গোটা বাংলাদেশকে আমরা দেখিয়ে দিতে চাই আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করতে পারি। এটা করতে পারলে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস ঐতিহ্য সভ্যতার জনপদ আমরা আবারো প্রমাণ করতে পারবো। আমরা ইতিবাচক নারায়ণগঞ্জ চাই। আমরা কোন ধরনের হানাহানি চাই না। অতীতের মতো নির্বাচনকে ঘিরে আশঙ্কার কথা শুনতে চাই না। আমি বলতে চাই আমরা শতভাগ নিরপেক্ষ। আমরা কিন্তু এ পর্যন্ত একটি অভিযোগও পাইনি যে প্রার্থীকে প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। আশা করি আগামী ১৪ দিনেও এ ধরনের অভিযোগ আসবে না। যদি কেউ প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা দেয়, ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয় তাহলে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় তাই করে দেখাবো। আমরা শতভাগ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই। আমরা উপরে নিচে কাউকে চিনতে চাই না। আপনাকে অমুককে চিনতে চাই না। ১৯৮ জনের জন্য ২০ লাখ লোকের মনে অশান্তি সৃষ্টি হোক চাই না। আপনি নিজেকে যতই পাওয়ারফুল মনে করেন না কেন জনগণের চেয়ে বেশী পাওয়ার ফুল কেউ নাই। জনগণের চেয়ে শক্তিশালী কেউ নাই। তাই আপনাদেরকে জনগণের কাছে যেতে হবে। আপনাদের রাজনীতি আপনাদের কাছে। আপনাদের রাজনীতির মধ্যে আমাদের প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের জড়াবেন না। নির্বাচন কমিশন আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছে আমরা সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। একটু পিছপা হবো না। অতীতের মতো কোন চিন্তা থাকলে ভুলে যান। ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন। এটি একটি মডেল নির্বাচন হবে। যা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের শেষ নির্বাচন। তাই শেষ ভাল যার সব ভাল তার এই নারায়ণগঞ্জ থেকে সেটা আমরা উপহার দিতে চাই।  

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর