শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ এপ্রিল, ২০২১ ২২:৪৫

চেনা ক্যাম্পাসে অচেনা রূপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

 চেনা ক্যাম্পাসে অচেনা রূপ
Google News

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ। করোনায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ঘাস, লতা-পাতায় ছেয়ে গেছে মতিহার ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের প্রিয় আড্ডাস্থলগুলো। নির্জন ক্যাম্পাসের পুরোটাতেই এখন সবুজের সমারোহ। গাছে গাছে সবুজ পাতা। সেই সবুজের আড়ালে বাসা বেঁধেছে দোয়েল, ঘুঘু, শালিক, ডাহুকসহ হাজারো পাখি। কান পাতলে কেবল পাখিদের কিচিরমিচিরই শোনা যায়। গাছের ডালগুলোতে খেলা করছে কাঠবিড়ালি। গোলাপ, জবাসহ নানা ফুল ছড়াচ্ছে মন মাতানো সৌরভ। এ যেন চিরচেনা ক্যাম্পাসের অচেনা এক মনোহর রূপ। করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দীর্ঘদিনের ছুটিতে ক্যাম্পাসের চিরচেনা রূপ-ই যেন পরিবর্তন হয়ে গেছে। চলতি বছরের শুরু থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর ছিল মতিহারের সবুজ চত্বর। তবে এপ্রিলের শুরুর দিকে ফের দেশব্যাপী লকডাউনের ফলে ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। ফাঁকা ক্যাম্পাসে মানুষের অনুপস্থিতিতে প্রকৃতি যেন সেজেছে স্বাধীনভাবে নিজের মতো। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, ফাঁকা প্যারিস রোডের শিরীষ গাছগুলো যেন আরও সজীব হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের প্রিয় নীল-সাদা বাসগুলো সারিবদ্ধ হয়ে পরিবহন চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও মমতাজউদ্দিন কলা ভবনের কাছ ঘেঁষে রাস্তায় সুবাস ছড়াচ্ছে নানা প্রজাতির ফুল। শিক্ষার্থীদের প্রাণের আড্ডাস্থল টুকিটাকি চত্বর এখন পাখিদের দখলে। সেখানে আর কেউ চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে হারিয়ে যাচ্ছে না অতীত স্মৃতিচারণে। গিটারে সুরও তুলছে না কেউ। আমগাছগুলোর গায়ে খেলা করছে কাঠবিড়ালি।

হবিবুর রহমান হল থেকে একটু পশ্চিমে যেতেই শোনা গেল কিচিরমিচির শব্দ। সেই শব্দ ফাঁকা ক্যাম্পাসকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। পাশেই বোটানিক্যাল গার্ডেনের গাছগুলোতে বসে আছে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। নিচেই ফিশারিজ বিভাগের গবেষণা পুকুরের স্বচ্ছ পানিতে হাজারো পাখির ঝাঁপাঝাঁপি।

পড়ন্ত বিকালে বোটানিক্যাল গার্ডেনের কাছ ঘেঁষে চারুকলার রাস্তা ধরে এগোতেই দেখা গেল দুটো শিয়াল পাশের ঝোপে প্রবেশ করে নিজেদের আড়াল করে নিল। চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের কাছে ‘নিউজিল্যান্ড’ নামে পরিচিত এই ঝোপের ওপরে তাকাতেই দেখা গেল উঁচু মেহগনি গাছগুলোতে ঝুলে আছে বাদুরের দল। নির্ভয়ে তারা ডানা ঝাঁপটাচ্ছে। গাছপালা আর পশু-পাখিতে তৈরি হয়েছে মধুর মেলবন্ধন।

বন্ধ ক্যাম্পাসে অবাধ বিচরণ করতে পারায় পশুপাখি সহজেই বংশবৃদ্ধি করতে পারছে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের পশুপাখিদের অবাধ বিচরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত তিন বছরে প্রায় ৪ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। যা ক্যাম্পাসকে আরও সজীব করে তুলেছে। এসব উদ্ভিদের ফল খেয়ে পশুপাখিগুলো সহজে জীবন-ধারণ করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে জনসমাগম বেশি সেখানে স্বাভাবিকভাবেই বন্য প্রাণীদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান না করায় ক্যাম্পাসের পশুপাখিগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করতে পারছে। প্রজননেও তেমন কোনো বাধার সম্মুখীন হচ্ছে না। ক্যাম্পাসের ঘুঘু ও বকগুলো তুলনামূলকভাবে ভীতু প্রাণী হওয়ায় আগে তেমন জনসমক্ষে আসত না। এখন অবাধ বিচরণের ফলে এরা সহজেই বংশবিস্তার করতে পারছে।

এই বিভাগের আরও খবর