শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ জুন, ২০২১ ২৩:৩৮

উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই
Google News

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা  করেন। কর্মসূচিতে মশক নিধন, বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম, আলোকায়ন, আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণসহ নানা উদ্যোগের কথা বলা হয়। গত ২৫ মে ১০০ দিন পূর্ণ হয়। কিন্তু সেবামূলক কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি বা পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং খাল, নালা-নর্দমা পরিষ্কার না করায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। তবে সড়ক সংস্কার ও আলোকায়নে কাজ হয়েছে। চসিক মেয়র বলছেন, ১০০ দিনের মূল লক্ষ্য ও বিষয়গুলোর সফলতা এবং সুফল সন্তোষজনক।  গত ৬ জুন মাত্র ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই নগরের অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে যায়। অথচ বর্তমানে জলাবদ্ধতা নিরসনে তিন সংস্থা ১০ হাজার ৮০৩ কোটি ৩৮ লাখ ৯০ হাজার টাকার চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পে ইতিমধ্যে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। তবুও কেন জলাবদ্ধতা? প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আগামী বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হবে।

চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ১০০ দিনের কর্মসূচির ৭০-৮০ শতাংশ সফল। তবে চলমান কার্যক্রম পরিচালনায় বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে শতভাগ সাফল্য অর্জিত হয়নি। কারণগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই অভিজ্ঞতার আলোকে কারণ       চিহ্নিতকরণ ও প্রতিবন্ধকতা নিরসন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প চলছে। বর্ষাকে কেন্দ্র করে খালের বাঁধগুলো অপসারণ করলে পানি দ্রুত নেমে যাবে। চসিকের অধীন ছোট ছোট খাল, নালা-নর্দমা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্ন কাজ চলমান। বড় খালগুলো মেগা প্রকল্পের অধীনে সংস্কার করা হচ্ছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় অগ্রগতি এখন দৃশ্যমান। মেয়র বলেন, আমাদের বড় সংকট অর্থ। ঠিকাদারদের কোটি কোটি টাকার বিল বকেয়া। ফলে তারা কাজে আগ্রহ হারাচ্ছেন। আয় বাড়াতে আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ, গৃহকর ও অন্যান্য রাজস্ব আদায় গতিশীল করতে হবে।      

জানা যায়, নানা উদ্যোগ নিয়েও শৃঙ্খলায় আসেনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। পরিচ্ছন্ন কর্মীদের অবহেলা ও তদারকির অভাবে এখনো যত্রতত্র পড়ে থাকে আবর্জনা। নগরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিলেও উচ্ছেদ অভিযান চলছে গতানুগতিক ধারায়। প্রায় প্রতিদিনই চলে উচ্ছেদ অভিযান। আবার কোথাও না কোথাও দখল হয়ে যাচ্ছে চসিকের সড়ক-ফুটপাথ। মশক নিধনে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাত-দিন নগরবাসী অতিষ্ঠ মশার অত্যাচারে। মশক নিধনের ওষুধ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা ও নানা সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে চসিক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে এ নিয়ে পরামর্শের প্রস্তাব করে। চবি এখনো সুপারিশ দেয়নি। অর্থ সংকট চসিকের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলেও নেই আয়বর্ধক কোনো প্রকল্পের পরিকল্পনা। আছে চসিকের অভ্যন্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পদোন্নতি নিয়ে অসন্তোষ। তবে ১০০ দিনের কর্মসূচিতে নগরের ৩০টি সড়কের ৭৬ কিলোমিটার অংশে পোল বসিয়ে এলইডি লাইট স্থাপন এবং প্যাচওয়ার্কের মাধ্যমে নগরের ক্ষতবিক্ষত অনেক সড়কের সংস্কার করা হয়েছে বলে জানা যায়।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জানুয়ারি চসিকের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৩ লাখ ৬৯  হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি শপথ নেন। আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১৫ ফেব্রুয়ারি। দায়িত্ব গ্রহণের পর ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। গত ২৫ মে ছিল দায়িত্ব গ্রহণের ১০০তম দিন।

এই বিভাগের আরও খবর