গত দুই দশকে ৫ কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ায় বছরে ৯৪ হাজার শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন। তারা জানায়, ৫ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুহার ৮১.৫ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। যা বাংলাদেশ, নেপাল, রুয়ান্ডা, ভিয়েতনাম, ইথিওপিয়া ও মালাউইসহ ছয়টি দেশে শিশু মৃত্যুহার কমিয়ে আনায় রেকর্ড করেছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে টিকা কার্যক্রমের সাফল্য, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ফাউন্ডেশনের পরিচালক প্রফেসর মো. রাফিকুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. নিজামুদ্দিন আহমেদ, ইউনিসেফের প্রতিনিধি ফারহানা রহমান ও রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন সুলতানা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে টিকাদানের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। ফলে মা ও শিশুস্বাস্থ্যের ব্যাপক উন্নয়ন সাধন হয়েছে এবং মা ও শিশু মৃত্যুহার কমেছে।
বাংলাদেশ পোলিও নির্মূল, মাতৃ ও নবজাতক ধনুষ্টংকার (এমএনটি) নির্মূল এবং হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে তারা জানায়, কিশোরী মেয়েদের মধ্যে ৯৩ শতাংশ এইচপিভি টিকা কভারেজ অর্জিত হয়েছে, যা নারীদের সার্ভিকাল ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সরকার আগামী অক্টোবর থেকে টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে নতুন টিকা টিসিভি ক্যাম্পেইন চালু করতে যাচ্ছে এবং ২০২৬ সালে আরও নতুন টিকা ইপিআই কর্মসূচির আওতায় যুক্ত হবে।
ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, টিকাদান প্রকল্পে বরাদ্দ করা জনবলের প্রায় ৪০ শতাংশ পদ এখনো শূন্য। ৪৫ জেলায় টিকাদান কর্মী নিয়োগ এখনো সম্পন্ন হয়নি। জেলা পর্যায়ের কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ানের ৫৩ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। বাজেট বরাদ্দে দেরি এবং পঞ্চম এইচপিএনেসপি বাতিল এবং তার পরিবর্তে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে যা এখনো অনুমোদিত হয়নি।