শিরোনাম
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:৩৮

ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ ৩ যুবক শ্রীঘরে

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ ৩ যুবক শ্রীঘরে
প্রতীকী ছবি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ইয়াবা দিয়ে সাহাব উদ্দিন (৫২) নামে সিএনজি অটোরিক্সা চালককে ফাঁসাতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ ৩ যুবককে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে পুলিশ। 

দুপুরে আটককৃতদেরকে আদালতে পাঠানোর পর তিন যুবক পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সাহাব উদ্দিনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, শাহজাদপুর গ্রামের নুর মিয়া চৌধুরী বাড়ীর নুরুজ্জামানের ছেলে ওমান প্রবাসী রাসেদ (২৮), তার বন্ধু সরকারী মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি বসুরহাট পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের ছেলে ইমাম হোসেন সুজন (২৫) ও তার অপর সহযোগি একই এলাকার মোশারেফ হোসেন বেলালের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন জুয়েল(২৭)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাতে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের রাজ্জাকের চা দোকানের সম্মুখে সিএনজি অটোরিক্সা চালক সাহাব উদ্দিনকে ৫টি ইয়াবা দিয়ে রাসেদ, সুজন ও জুয়েল পুলিশে সোপর্দ করে। সিএনজি চালক সাহাব উদ্দিনকে মিথ্যা মাদক মামলায় আদালতে পাঠানোর পূর্বে থানার হাজত খানায় সে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলে থানার ওসি তদন্ত মোস্তাফিজুর রহমানের নজরে আসে। তিনি সাহাব উদ্দিন এবং তার বৃদ্ধা মা ও স্ত্রীর কাছ থেকে বিশদ বিবরণ জানার পর ঘটনার দৃশ্যপট পাল্টে যায়। 

এ সময় ওসি তদন্ত মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার মূল রহস্য তদন্ত করতে গিয়ে এর মূল নায়ক রাসেদ, তার বন্ধু ইমাম হোসেন সুজন ও তার অপর সহযোগি মোজাম্মেল হোসেন জুয়েলকে গ্রেফতার করে। 

আটককৃদের আদালতে পাঠানোর পর তিন যুবক সিএনজি অটোরিক্সা চালক সাহাব উদ্দিনের সাথে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এবং পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। 

সাজানো ইয়াবা ঘটনার স্বীকার সিএনজি অটোরিক্সা চালক সাহাব উদ্দিন উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুর গ্রামের নুর মিয়া চৌধুরী বাড়ীর মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে। 

এ বিষয়ে ওসি (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায় ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো আটক সিএনজি অটোরিক্সা চালক সাহাব উদ্দিনের সাথে কথিত ইয়াবার মূল ঘটনার নায়ক রাসেদের পরিবারের সাথে জায়গা-জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। এনিয়ে মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে। সোমবার (১১ নভেম্বর) জায়গা-জমি সংক্রান্ত ওই বিরোধটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। ঠিক এমনি মূহুর্তে শনিবার রাতে সাহাব উদ্দিনের একই বাড়ীর নুরুজ্জামানের ছেলে ওমান প্রবাসী রাসেদ তার বন্ধুদেরকে দিয়ে ৫টি ইয়াবাসহ সাহাব উদ্দিনকে গ্রেফতার করায়।

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার


আপনার মন্তব্য