শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি, ২০২০ ১৭:২১

ভাঙন রোধের অজুহাতে প্রবাহমান খালে বাঁধ, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:

ভাঙন রোধের অজুহাতে প্রবাহমান খালে বাঁধ, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভাড়ানি খালের সুন্দরকাঠি বাজারসংলগ্ন এলাকায় খালের মধ্যে বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্রোতের কারণে খালের দুই পাশ ভেঙে যাওয়ার অযুহাতে স্থানীয় প্রভাবশালী জহির মোল্লা ও তার সহযোগীরা খালে অনেকটা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে গত একমাস ধরে ভোগান্তিতে পড়েছেন পাশ্ববর্তী নলুয়া, ফরিদপুর ও দুধল ইউনিয়নের ব্যবসায়ীরা। কলসকাঠী, কালীগঞ্জ, বোয়ালিয়াসহ কয়েকটি হাট ও বাজারে যেতে স্থানীয়রা দির্ঘদিন ধরে ভাড়ানি খাল ব্যবহার করে আসছিলেন। 

গত একমাস ধরে খালে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করায় প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরত্ব ঘুরে বিকল্প পথে ওইসব বাজারে যেতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এতে তাদের দ্বিগুন সময় এবং অর্থ খরচ হচ্ছে। এর প্রভাব পরছে খুঁচরা বাজারের ক্রেতাদের ওপর।

ওই খালের সুবিধাভোগি ফরিদপুর ইউনিয়নের ব্যবসায়ীরা বলেন, দীর্ঘদিনের সরকারী এই খালের মধ্যে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি কিভাবে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে পুরো খাল বন্ধ করে দিয়েছেন তা তারা বুঝতে পারছেন না। 

দুধল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোর্শেদ খান জানান, ওই খাল দিয়ে সহজে তার ইউনিয়ন পরিষদে মালামাল আনা নেয়া করতেন। এখন বিকল্প পথ দিয়ে মালামাল আনতে হয়। তাতে খরচ ও ঝামেলা দুটি বেড়েছে। সরকারী খালে স্থায়ী বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন বলে জানান। 

অভিযুক্ত জহির মোল্লা বলেন, ভাঙনের হাত থেকে গ্রামবাসীকে রক্ষা করতেই ওই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকাবাসী না চাইলে বাঁধটি অপসারণ করা হবে। 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রবহমান কোনো খালে বাঁধ দেয়া যাবে না। গত কয়েকদিন আগে খালে বাঁধ দেয়ার খবর তিনিও শুনছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে খালের প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বাঁধ অপসারণ করা হবে। 

বিভাগীয় পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মো. আবদুল হালিম বলেন, প্রবাহমান খাল বা নদীতে বাঁধ দেয়া আইননত দণ্ডনীয়। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেন তিনি। 

জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, খালে স্থায়ী বাঁধ দেয়া সম্পূর্ণ বেআইনী। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য