শিরোনাম
প্রকাশ : ৫ এপ্রিল, ২০২০ ২১:১৬

গভীর রাতে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিলেন ইউএনও

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

গভীর রাতে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিলেন ইউএনও

‘হ্যালো আপনি কি শিখা রাণী বলছেন? আমি ইউএনও বলছি, আপনি বাড়িতে থাকেন আমরা আসছি।’ প্রান্তিক জনপদে বিধবা শিখা রাণীকে ফোন দিয়ে বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী দিলেন ইউএনও মো. হুমায়ুন কবির। শিখা রাণীর পরিচিত সমাজসেবক রফিকুল ইসলাম কাকনের কাছে জেনে শনিবার রাত ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের তালুক চরদুয়ানী গ্রামের বাড়িতে গিয়ে এ খাদ্যসামগ্রী দেন ইউএনও।

মহামারি করোনার প্রার্দুভাবে উপকূলীয় উপজেলা পাথরঘাটা বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মহীন ও দুস্থ অনেকের মতো ৪ সদস্যের এ পরিবার নিয়ে তিনিও আছেন বিপাকে। ঘরে খাবার নেই। স¦ামী মারা গেছে ১০ বছর আগে। বিধবা ভাতাও পাচ্ছেন না, নেই ভিজিএফর তালিকাও  নাম। এমন পরিস্থিতিতে তারই এক শুভাকাঙ্খি রফিকুল ইসলাম কাকনের ফোন পেয়ে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. হুমায়ুন কবির শিখার বাড়িতে রাত ১১টায় ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু ও ২ কেজি ঢাল দেন। 

ইউএনওর আকস্মিক আগমনে অবাক হয়েছেন অনেক হতদরিদ্র মানুষ। এমন কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন সবাই। শিখা রাণী বলেন, ১০ বছর আগে ক্যান্সার রোগে মারা যান স¦ামী। একটি মাত্র মেয়েকে নিয়ে বাবার সংসারেই থাকি। রাস্তা আর বাড়িতে কাজ করেই সংসার চলে। ঘরে থাকা সামান্য মজুত ফুরিয়ে গেছে। এ অবস্থায় অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। হঠাৎ খাবার নিয়ে বাড়িতে ইউএনও আসায় আমার মনটা ভরে গেল। পায়ে হাত দিয়ে সালাম করেছি। আমি মন ভরে ইউএনও ও সরকারের জন্য দোয়া করছি।

শুভাকাঙ্খী রফিকুল ইসলাম কাকন বলেন, আমি শিখা রাণীর অসহায়ত্ব দেখি মন মানাতে পারিনি। তাই ইউএনও স্যারকে ফোন দিলে তিনি এসে খাদ্য সামগ্রী দেন। আমি ধন্য যে, আমার ফোনে ইউএনও স্যার বাড়িতে গিয়ে ত্রাণ দিয়েছেন। 

ইউএনও মো. হুমায়ুন কবির বলেন, প্রান্তিক জনপদে অনেকেই তালিকায় আসেনা। যারা ত্রাণ পাওয়া যোগ্যত রাখে কিন্তু পায়নি তাদের খুজে খুজে সরকারের বরাদ্দের অনুকুলে আমরা খাদ্য সামগ্রী দিচ্ছি। 

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন


আপনার মন্তব্য