শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২০:০১
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২০:২২
প্রিন্ট করুন printer

হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি
সন্তান হারিয়ে মায়ের আহাজারি

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড থেকে ২৩ দিন বয়সের এক নবজাতক ছেলে শিশু চুরি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালের ৪ তলা ভবনের স্ক্যানু ইউনিট থকে এ চুরির ঘটনা ঘটে। শিশুটির নাম মাহিম। তার বাবার নাম চয়ন ইসলাম। বাড়ি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার দুর্গানগর ইউনিয়নের ভাদালিয়াকান্দি গ্রামে। দিনে-দুপুরে হাসপাতাল থেকে শিশু চুরির ঘটনায় হাসপাতালে অন্য শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

শিশুটির মা মুঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, জ্বর ও ঠান্ডাজনিত কারণে ৬ দিন আগে শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই। অবস্থা খারাপ হওয়ায় শিশুটিকে স্ক্যানু ইউনিটের ওয়ারম্যান মেশিনে রেখে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছিল। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে স্ক্যানু ওয়ার্ডে একজন বোরকা পড়া মহিলা অযাচিতভাবে আমার কাছে এসে নানা কথা বলতে থাকেন।

এক পর্যায়ে তার শিশু কান্নাকাটি করলে সে ওয়ারম্যান মেশিন থেকে বাচ্চাকে কোলে নিয়ে আমাকে সাহায্য করে। পরিচয় জানতে চাইলে বলেন, আমার বাচ্চা পাশেরটা। আমার বাচ্চাকে আমার বোন দেখাশুনা করছে। তার সরল কথায় বিশ্বাস করে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাচ্চাকে ওই মহিলার কাছে রেখে ভাত খেতে পাশের রুমে যাই। দশ মিনিট পর স্কানু ইউনিটে গিয়ে ওয়ারম্যান মেশিনে বাচ্চাকে দেখতে পাইনা। তখন ওই মহিলা এবং যাকে বোন বলে পরিচয় দিয়েছে তাকেও দেখতে পাই না।

এদিকে, দিনে-দুপুরে নবজাতক বাচ্চা চুরির ঘটনায় হাসপাতালে নবজাতকদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা বলছেন, হাসপাতালে কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। যখন-তখন শিশু ওয়ার্ডসহ স্ক্যানু ইউনিটে অবাধে লোকজন চলাফেরা করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি শিশু ওয়ার্ডে প্রবেশের সময় নাম এন্ট্রি বা সিসি ক্যামেরা ব্যবস্থা গ্রহন করত তাহলে অন্তত শিশু সন্তানদের নিয়ে কিছুটা নিরাপত্তা পেতাম। 

শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স নাজমা খাতুন জানান, স্ক্যানু ইউনিট মেরামত করার কারণে জেনারেল ওয়ার্ড ও স্ক্যানু ইউনিট এক জায়গায় করা হয়েছে। এতে রোগীর স্বজনদের আসা-যাওয়া বেড়ে গেছে। কে, কখন স্ক্যানু ইউনিটে ঢুকছে বা বের হচ্ছে তা বোঝার উপর নেই।

তিনি বলেন, আমরা নিষেধ করি কিন্তু কেউ কোন কথা শোনে না। কিছু বললে আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। যে মহিলা দুজন বাচ্চা চুরি করেছে তারা বোরকা পরা ছিল। কার পরিচয়ে স্ক্যানু ইউনিটে ঢুকেছে সেটা বোঝার উপায় ছিল না। 

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাইফুল ইসলাম জানান, চুরির বিষয়টি জানার পরই সদর থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। 
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, চুরির সংবাদ পাবার পরই পুলিশের টিম হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। হাসপাতালের ভিতরের ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে দুজন বোরকা পরা মহিলা দেখা গেছে। এরমধ্যে একজনের কোলে শিশুটি ছিল। তবে ফুটেজটি বেশি ক্লিয়ার না। যে কারণে শনাক্ত করতে কষ্ট হচ্ছে। তারপরেও  বিভিন্ন থানায় সঙ্গে সঙ্গে মেসেজ পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে গাড়িতে গাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এছাড়াও শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দিতে বলা হয়েছে। 

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর