শিরোনাম
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:১৬
আপডেট : ১৩ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:২০
প্রিন্ট করুন printer

সালথায় তাণ্ডব

জড়িতদের সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে : পুলিশ সুপার

ফরিদপুর প্রতিনিধি

জড়িতদের সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে : পুলিশ সুপার

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান জানান, গত ৫ এপ্রিল লকডাউনকে কেন্দ্র করে যে তাণ্ডবের ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তাতে মোট পাঁচটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আটক করা হয়েছে ৮০ জনকে। এদের মধ্যে দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলায় যারা আসামি হয়েছেন, তাদের আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, যারাই এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকুক না কেন তাদের সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, আমরা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করেই লোকজনকে আটক করছি। যারা ঘটনার সাথে জড়িত নয়, তাদের কোনো ভয় নেই। আর যারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকবে তাদের কোনো ছাড় নেই।

এদিকে, উপজেলা পরিষদে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক নেতাকে আসামি করায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের আসামি করার বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে মামলা থেকে নেতাদের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, উপজেলা পরিষদে হামলার ঘটনায় বিএনপি-জায়ামাত ও হেফাজতের নেতাকর্মীরা জড়িত। কিন্তু একটি পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. ইমারত হোসেন পিকুল, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল হোসেন, যুবলীগ নেতা মামুনুর রশিদ, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমানসহ বেশকিছু নেতার নাম জড়িয়েছে।

তারা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী এই ন্যাক্কারজনক হামলার সাথে জড়িত নয়। সালথা উপজেলার এসিল্যান্ড ও ইউএনও’র সাথে বিগত দিনের একটি ঘটনার কারণেই তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগ, শুধু পিকুল ও বাদলই নয়, মামলায় আসামি করতে আওয়ামী লীগের অনেককেই বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মামলার আসামি করা হয়েছে এমন অনেককেই যারা এলাকায় ছিলেন না। একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকেও মামলায় আসামি করায় বিষয়টি নিয়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

তারা বলেন, ইউএনও, এসিল্যান্ড অফিসের কয়েক ব্যক্তির ফোনালাপের রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে। সেখানে ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণেই আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ এপ্রিল ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ফুকরা বাজারে এসিল্যান্ডের সাথে ব্যবসায়ীদের বাদানুবাদের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে জনতা উত্তেজিত হয়ে উপজেলা পরিষদে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বেশকিছু অফিস।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর