শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল, ২০২১ ১৬:০৪
প্রিন্ট করুন printer

জয়পুরহাটের কৃষকরা খুশি

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের কৃষকরা খুশি

আগাম জাতের বোরো ধান কাটতে শুরু করেছেন জয়পুরহাটের বোরো চাষিরা। বাজারে নতুন বোরো ধান উঠতে শুরু করেছে। ধানের ভাল দাম পেয়ে কৃষকরা বেজায় খুশি। চলতি মৌসুমে ধানের ফলনও বেশ ভাল। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগের মুখোমুখি না হলে এবার ধান বিক্রি করে লাভবান হবেন এমনটি আশা করছেন বোরো চাষিরা। 

নতুন ধান বাজারে ৯৫০ টাকা থেকে ধানের প্রকার ভেদে এক হাজার টাকা মন (৪০ কেজি) দরে বিক্রি করছেন কৃষক। তবে ব্যাপক হারে কাটা মাড়াই শুরু হলে হাট বাজারে ধানের আমদানি বেশি হলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কম দামে ধান কেনার সুযোগ নিতে পারে এমন আশঙ্কা কৃষকের। 

জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছু কিছু মাঠে আগাম জাতের বি আর ২৮, জিরাশাল, শুভ লতা এবং কাজল লতা ধান পেকেছে। ওই সব ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে। বাজারে ও ধানের প্রকার ভেদে ৯৫০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা মন দরে বেচা কেনা হচ্ছে।

সদর উপজেলার লেঙ্গাপীর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি তার এক বিঘা জমিতে (৩৩ শতক) জিরাশাল ধান আবাদ করে ছিলেন। ধান কেটে চাল করার জন্য কিছু ধান রেখে বাকি ধান বাজারে ৯৭০ টাকা মন দরে বিক্রি করেছেন। এবার ফলন ভাল। এক বিঘা জমিতে ২২ মন ধান হয়েছে।

জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার আমিড়া গ্রামের কৃষক হাফিজার রহমান বলেন, এবার ধানের ফলনে এবং বর্তমান বাজার দর ভাল থাকায় কৃষক খুশি। আবার পুরা ধান কাটা মাড়াই হয়ে বাজারে ধানের আমদানি বেশি হলে ধান কেনা মহাজনরা কম দামে ধান কেনার সুযোগ নেই। তখন কৃষক দাম পায় না। 

তিনি বলেন, বর্তমানে আক্কেলপুর বাজারসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাট বাজারে বি আর ২৮ ধান ৯৫০ টাকা এবং জিরাশাল এক হাজার টাকা এবং শুভলতা, কাজল লতা ৯৮০ টাকা মন ধরে বিক্রি হচ্ছে। মাঠের অধিকাংশ জমির ধান পেকেছে। 

কৃষক হাফিজার রহমান আরও বলেন, প্রচণ্ড গরম আর খরা চলছে। খরা আর রোদ বোরো ধান কাটার অনুকুল পরিবেশ। ঝর বৃষ্টি হলে ধান কাটতে মজুরী বেশি লাগে এবং বৃষ্টির জন্য ভেজা ধানের দামও কম হয়। খরাতে বোরো ধান কাটা মাড়াই  কৃষকদের জন্য আর্শীবাদ। ধানের প্রকার ভেদে ফলন হচ্ছে বিঘাতে ২২-২৫ মন পর্যন্ত।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক স ম মেফতাহুল বারী বলেন, জেলার চলতি মৌসুমে ৬৯ হাজার ৪২৫ মেট্রিক টন বোরো ধান চাষ হয়েছে। এ পরিমান জমির ধান থেকে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, এবার ধানের ফলন বেশ ভাল। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষক লাভবান হবেন। আলু তোলার পর যে সব জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে সেইসব  জমির ধান কাটা মাড়াই আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ

এই বিভাগের আরও খবর