শিরোনাম
প্রকাশ : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১৭:০৬
আপডেট : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২১:০৫
প্রিন্ট করুন printer

কাদের মির্জা ও তার ছেলের হাত-পা ভাঙার ঘোষণা দিলেন ভাগ্নে মঞ্জু!

নোয়াখালী প্রতিনিধি

কাদের মির্জা ও তার ছেলের হাত-পা ভাঙার ঘোষণা দিলেন ভাগ্নে মঞ্জু!
কাদের মির্জা (বামে) ও তার ভাগ্নে মঞ্জু (ডানে)
Google News

আর একটা কর্মীর গায়ে আঘাত হলে কাদের মির্জা ও তার ছেলের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভাগ্নে মাহবুবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জের গত ৮ মাসের ঘটনায় মানুষ ক্ষুদ্ধ, আতঙ্কিত। এখানে যেন কোনো অভিভাবক নেই। এক অপরাজনীতির হোতার কারণে শান্তির জনপদ কোম্পানীগঞ্জ অশান্ত হয়ে পড়েছে। গতকাল আব্দুল কাদের মির্জা ফেসবুক লাইভে এসে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার, ডিবির কর্মকর্তা, কোম্পানীগঞ্জ থানার সাবেক (ওসি) রনি, পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল হক, বর্তমান ওসি সাহেব, এসিল্যান্ড সাহেবসহ সবাইকে যে ভাবে কথা বলেছেন, আমি এ সকল কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আপনারা এগুলে বসে বসে সহ্য করেন কিভাবে। আপনারা এখানে বিবাদমান দু’গ্রুপে আসামি গ্রেফতারের নামে লেভেল ফিল্ড প্লেয়িং ফিল্ড করেন। ১৮ মামলার আসামি হামিদ ওসি তদন্তের রুমে কেন যায়? এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) কাদের মির্জার পিছনে পিছনে সিপাহীর মত ঘুরে। আপনার স্বার্থ কি? কোম্পানীগঞ্জকে আপনি কোথায় নিয়ে যেতে চান?

 
শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে মঞ্জু এসব কথা বলেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মঞ্জু বলেন, আগামীকাল রবিবার সকাল ১০টায় রংমালা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবদুল্লা আল মামুনকে অপমান করার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা ডেকেছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ। আমরা শুনছি আব্দুল কাদের মির্জা ঘোষণা দিয়েছে সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করলেও নাকি, সে সেখানে যাবে। মাননীয় মন্ত্রী আপনি আজকে ১৬ মাস জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দিয়ে এসেছেন। ১৬ মাসে কমিটিটা দিতে পারেন নাই। এটা আপনার জেলা। আর ক্ষণে ক্ষণে আপনার ভাই কতক্ষণ আপনার পক্ষে বলে, কতক্ষণ দুর্নীতিবাজ বলছে, এগুলো তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কমিটি যদি তার পক্ষে নেওয়া যায়, ওখানে শতশত কোটি টাকা কমিশন বাণিজ্য করতে তার সুবিধা হবে। এখন এটাই তার লক্ষ্য। কোম্পানীগঞ্জের আওয়ামী লীগের একজন কর্মীর বেঁচে থাকতে তার এ অপরাজনীতি এখানে করতে দেওয়া হবে না।

কাদের মির্জাকে উদ্দেশ্য করে মঞ্জু বলেন, মানুষ যে প্লেটে খায় সে প্লেটে একটা দুইটা ছিদ্র করে। এই লোকটা ২০টা ছিদ্র করে। মেট্রিক পাস করছে ৩-৪ বার পরীক্ষা দিয়ে। ডিগ্রি পাস করছে দুইবার পরীক্ষা দিয়ে নকল করে। মন্ত্রী-এমপি কেউ বাদ নেই। সবাইকে অপমান করে যাচ্ছে সমানে। রমজানের ঈদের আগে দেদারচ্ছে অফিসারদের বিরুদ্ধে কথা বলার ভয় দেখিয়ে কত টাকার চাঁদাবাজি করেছেন, সে হিসাব আমাদের কাছে আছে। সময় মত প্রমাণপত্রসহ এগুলো দেওয়া হবে। 

মঞ্জু আরো বলেন, কমিটি নিয়ে যে সকল নাটক সিনেমা শুরু হয়েছে। এ সকল নাটক সিনেমা বন্ধ করুন। না হলে কিন্তু আমরা মুখ খুলতে বাধ্য হব। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে কি হয়, মির্জার কাছে কোনো ডকুমেন্ট নেই ডকুমেন্ট আমাদের কাছে আছে। তবে যদি আর একটা কর্মীর গায়ে আঘাত করা হয়। তাহলে এবার আব্দুল কাদের মির্জা ও তার ছেলে দুইজনেইর হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে। যদি রংমালাতে প্রোগ্রাম করতে যাও তুমি কাদের মির্জা, পার্বতীর এক হাজার মহিলা দিয়ে ঝাড়ু পিটা করে তোমাকে চৌধুরীহাট কলেজ থেকে বাহির করবো। এটা আমার প্রতিজ্ঞা। আমরা অনেক সহ্য করেছি। কোন নেতাকর্মীকে কিছু করবো না। শুধু তোমাকে আর তোমার ছেলেকে। এ নষ্ট ছেলে কোম্পানীগঞ্জের পরিবেশটা পর্যন্ত নষ্ট করে ফেলেছে। তুমিতো নষ্ট করেছই, এখন ছেলে দিয়েও এগুলা করাচ্ছ। বসুরহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। শুধুমাত্র মন্ত্রীর ভাই বলে আর প্রশাসনের ছত্রছায়ার কারণে আজকে সে বেঁচে যাাচ্ছে। না হলে বসুরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলত। 

এসব বিষয়ে জানতে শনিবার দুপুরে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।


বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর