২০ জুন, ২০২২ ১৮:১০

কেমন হতে যাচ্ছে বরিশালের কোরবানির বাজার?

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

কেমন হতে যাচ্ছে বরিশালের কোরবানির বাজার?

ফাইল ছবি

বরিশালে এবার কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা ১ লাখ ৭ হাজার। জেলার ৬ হাজার খামারে প্রায় ১ লাখ পশু আছে বলে দাবি প্রাণী সম্পদ বিভাগের। সে হিসেবে ৭ হাজার পশুর ঘাটতি নিয়ে শুরু হচ্ছে এবারের কোরবানির বাজার।

যদিও প্রাণী সম্পদ বিভাগের হিসেব পশু নেই খামারিদের কাছে। যাচাই ছাড়াই মনগড়া তথ্য দিয়ে কোরবানির বাজারের পশুর হিসেব কষছেন তারা। ব্যক্তি পর্যায়ে পালন করা পশু ছাড়াও কোরবানি উপলক্ষ্যে অন্য এলাকা থেকে আনা পশু দিয়ে এবারের কোরবানির বাজারের চাহিদা পূরণ করার প্রত্যাশা কর্তৃপক্ষের। পশু খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার গত বছরের চেয়ে কোরবানীর পশুর দাম ৫ থেকে ১০ ভাগ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন তারা। রাসায়নিক দিয়ে পশু মোটাতাজাকরণের বিরুদ্ধে কোরবানির ৬ মাস আগে থেকে নজরদারি করার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা। 

তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, গত বছর বরিশালে ১ লাখ ৭ হাজার কোরবানির পশু বিক্রি হয়। বিক্রিত ওই সংখ্যাকে এবারের চাহিদা হিসেবে ধরেছে প্রাণী সম্পদ বিভাগ। বরিশালে প্রতিষ্ঠিত বড় কোম্পানির পশু খামার রয়েছে রহমতপুরে এমইপি এগ্রো, কাশীপুরে কেমিস্ট এগ্রো বায়োটেক এবং সদর উপজেলার কড়াপুরে এ্যাংকর এগ্রো। তাদের হিসেবে এগুলো সহ ব্যক্তি পর্যায়ে জেলার প্রায় ৬ হাজার খামারে কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ। একমাত্র দুম্বার খামারেও রয়েছে অর্ধ শতাধিক দুম্বা। সে হিসেবে জেলায় কোরবানির পশুর ঘাটতি রয়েছে ৭ হাজার। 

তবে প্রকৃত ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। কারণ প্রানী সম্পদ বিভাগের খামারির তালিকায় থাকা অনেকেই এবার পশু পালন করেননি। 

তাদের একজন সদর উপজেলার পশুরকাঠী এলাকার ক্ষুদ্র খামারি জলিল খলিফা। গত বছর কোরবানিতে নিজের পালন করা ২টি ষাড় বিক্রি করেছিলেন তিনি। গরুর বাছুরের দাম বৃদ্ধি, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশু খাদ্যের অপ্রতুলতা এবং অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে এবার তার খামার পশু শূন্য বলে জানান জলিল। 

একই উপজেলার আইচা এলাকার নজরুল ইসলামও গত বছর ৪টি ষাড় কোরবানির বাজারে বিক্রি করেছিলেন। এবারের কোরবানিতে বিক্রি করার জন্য তার তার খামারে কোন পশু নেই। 

নজরুল বলেন, ‘পশু খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং বাজারে সরবরাহের অপ্রতুলতার কারণে এবার তিনি সহ অনেক ক্ষুদ্র খামারি এবার কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত করেননি লোকসানের আশংকায়।’ 

পশুরকাঠী এলাকার আরেক ক্ষুদ্র খামারি আব্দুল হালিম নেগাবান গত ৯ মাস ধরে ২টি ষাড় পালন করছেন কোরবানির বাজারের জন্য। ১ লাখ ৩ হাজার টাকায় কেনা বাঁছুর দুটি পালনে প্রতি মাসে ৪৮ টাকা কেজি দরের গমের ভুসি, ৫৫ টাকা কেজির খৈল, ৫২ টাকা কেজি দরের মিক্স ফিড এবং খরকুটা (নারা) সহ অন্যান্য খাবার খাওয়াতে খরচ হয় ৬ হাজার টাকা। শ্রম দেন নিজেই। আসন্ন কোরবানিতে ১ লাখ ৮৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকায় ষাড় দুটি বিক্রি করে সামান্য লাভের আশা করছেন তিনি। খাদ্য সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার পশুর বাজার চড়া হতে পারে বলে ধারনা করছেন তারা। 

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নুরুল আলম জানান, তালিকাভূক্ত খামারিদের অনেকে এবার কোরবানির বাজারের জন্য পশু পালন করছেন না এটা তিনি জানতেন না। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তারাদের কাছে হালনাগাদ তালিকা চাইবেন। তালিকাভুক্ত খামারি ছাড়াও ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকে পশু পালন করছেন। এসব পশু কোরবানির বাজারে আসবে। এর বাইরেও অন্য এলাকা থেকে বরিশালের কোরবানির বাজারে কিছু পশু আসবে। এতে ঘাটতি মিটে যাবে।

তিনি আরও বলেন, কোরবানির পশুর স্বাস্থ্যের মান নিশ্চিত করার জন্য রাসায়নিক ব্যবহার রোধে গত ৬ মাস আগে থেকে প্রাণী সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে খামারীদের উপর নজরদারী শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে খামারীদের সাথে উঠোন বৈঠক করে রাসায়নিক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কসাইদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। পশু খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার কোরবানির বাজারে পশুর দাম ৫ থেকে ১০ ভাগ বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন জেলা প্রাণী সম্পদ কমকর্তা। 

বিডি প্রতিদিন/নাজমুল

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর