শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৫৩

ইতিহাস

বাহমনী রাজ্য

দিল্লির সালতানাতের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে যেসব স্বাধীন রাজ্য মাথা তুলে দাঁড়ায় তার মধ্যে বাহমনী রাজ্য সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী ছিল। মুহম্মদ বিন তুঘলকের রাজত্বকালে সুলতানের অত্যাচার এবং উত্পীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে দাক্ষিণাত্যের অভিজাত শ্রেণি বিদ্রোহী হয়ে ওঠে ও ইসমাঈল মুখের নেতৃত্বে দৌলতাবাদ দুর্গ অবরোধ করে। ইসমাঈল মুখ হাসানের অনুকূলে নিজের অধিকার ত্যাগ করেন এবং হাসান ‘আবুল মুজাফ্ফর আলাউদ্দীন বাহমন শাহ্’ উপাধি ধারণ করে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তার প্রতিষ্ঠিত বংশের নাম হলো বাহমনী বংশ। হাসান ‘গাঙ্গু’ একজন ব্রাহ্মণ জ্যোতিষীর ভৃত্য ছিলেন এবং তার প্রভু ও পৃষ্ঠপোষকের নামানুসারে তিনি নিজের বংশের নামকরণ করেন বলে যে গল্প প্রচলিত আছে তা পরবর্তী ঐতিহাসিকরা অস্বীকার করেছেন। মুদ্রা ও খোদাইকার্য থেকেও এটি প্রমাণ করা যায় না। হাসান নিজেকে পারস্যের বিখ্যাত বীর বাহ্মন বিন ইসফানদিয়ার বংশধর বলে দাবি করেন। সিংহাসনে আরোহণ করার পর আলাউদ্দীন শাহ্ গুলবরগাতে নিজের রাজধানী স্থাপন করেন। অল্পকালের মধ্যে তিনি এক গৌরবময় বিজয়ের অধিকারী হন। উত্তরে ওয়াঙ্গেনা নদী থেকে দক্ষিণে কৃষ্ণ নদী এবং পশ্চিমে দৌলতাবাদ থেকে পূর্বে ভাঙ্গির (নিজামের রাজ্যভুক্ত) পর্যন্ত বিস্তৃত সাম্রাজ্যকে চারটি দফতর বা প্রদেশে বিভক্ত করে প্রত্যেক প্রদেশে তিনি একজন করে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। ‘বুরহান-ই-মাসিক’-এর রচয়িতা বলেন, ‘আলাউদ্দীন একজন ন্যায়বান রাজা, প্রজাপালক ও ধার্মিক ছিলেন। তার রাজত্বকালে প্রজা ও সৈন্যরা পরিপূর্ণ আনন্দের মধ্যে বসবাস করত এবং ইসলামের বাণী প্রচার করার জন্য তিনি অনেক চেষ্টা করেছিলেন।’

আলাউদ্দীন শাহের মৃত্যুর পর তার প্রথম পুত্র মুহম্মদ শাহ সিংহাসন লাভ করে শাসন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু করে গড়ে তোলেন। কিন্তু বরঙ্গল ও বিজয়নগরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তার রাজত্বকাল কেটে যায়। এসব রাজ্যের রাজারা বাধা প্রদান করে পরাজিত হন এবং মুহম্মদ শাহের কাছে অপমানজনক শর্তে আনুগত্য স্বীকার করতে বাধ্য হন। বাহমনী রাজ্যের সঙ্গে বিজয়নগরের সংঘর্ষ তার উত্তরাধিকারী মুজাহিদের সময়েও চলতে থাকে। কিন্তু বিজয়নগর অধিকার করার প্রচেষ্টা তার ব্যর্থ হয়। পরবর্তী শাসক মুহম্মদ শাহ্ ছিলেন শান্তিপ্রিয়।


আপনার মন্তব্য