Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১৮

আমাদের নবীজি উম্মতের আদর্শ

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

আমাদের নবীজি উম্মতের আদর্শ

মিথ্যা-রাহাজানি আর অন্যায়ে ডুবে ছিল সমাজ। শুধু সমাজ নয়, পুরো পৃথিবী তখন পাপের সাগরে ভাসছিল। যে যেভাবে পারছে বাহুর জোরে, মিথ্যার বলে ঠকিয়ে নিচ্ছিল আরেকজনকে। কারণে অকারণে খুন-রাহাজানিতে মেতে উঠেছিল মানুষ। সমাজের উঁচু স্তর থেকে শুরু করে নিচু স্তরের প্রতিটি মানুষ আপাদমস্তক অন্যায়ে মিশে ছিল। সেই সমাজে বেড়ে উঠেছেন আমাদের পেয়ারা নবী (সা.)। যেন স্রোতের বিপরীতে চলা তাঁর জীবন। প্রতিটি মানুষ যেখানে অন্যায় আর মিথ্যার সঙ্গে আপসরফা করে জীবন পরিচালনা করছে, কারণে-অকারণে মিথ্যা বলছে, বলতে হচ্ছে, সেখানে পুরো জীবনে একটি মিথ্যা না বলেও জীবনসমুদ্র পাড়ি দেওয়া সহজ কথা নয়। সেই কঠিন কাজটি করেই উম্মতের মাঝে, পৃথিবীর মানুষের সামনে উজ্জ্বল আদর্শ হয়ে বেঁচে আছেন মানবতার শ্রেষ্ঠ বন্ধু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (সা.)। একদম ছোট বয়স থেকেই মানুষের মুখে তাঁর নাম ফুটেছে ‘পরম বিশ্বাসী’ ‘আল আমিন’ বলে। সত্য বলার জন্য, সত্য মানার জন্য যে কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি। সত্যকে পাওয়ার জন্য ১৫ বছর হেরা গুহায় ধ্যান-সাধনায় মগ্ন ছিলেন এই মানবতার কা-ারি নবী। একদিনের ঘটনা। তখনো হজরত নবুয়ত পাননি। এক লোকের কাছে কিছু টাকা পাবেন তিনি। পথেই লোকটির সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। লোকটি লজ্জায় কাচুমাচু করতে করতে বলল, আল আমিন! তুমি এখানে দাঁড়াও। আমি এক্ষুনি বাড়ি গিয়ে তোমার টাকাগুলো নিয়ে আসছি। বলেই লোকটি বাড়ির দিকে চলে গেল। নবীজি ওখানেই দাঁড়িয়ে রইলেন। সকাল গড়িয়ে দুপুর। দুপুর গড়িয়ে বিকাল। বিকাল শেষে সন্ধ্যা। তারপর রাত। রাত কেটে ভোর। কিন্তু লোকটির কোনো খবর নেই। নবীজি ওখানেই দাঁড়িয়ে আছেন। এক দিন। দুই দিন। তিন দিন চলে গেল। হঠাৎ লোকটির মনে পড়ল, এই রে! আমি তো মুহাম্মদকে                  রাস্তায় দাঁড় করিয়ে এসেছি। কাজে কাজে তার কথা ভুলে গিয়েছিলাম। তিন দিন হয়ে গেল। অন্য কেউ হলে তো অল্প সময় অপেক্ষা করেই চলে যেত, কিন্তু ইনি তো আল-আমিন। আমাকে বলেছেন অপেক্ষা করবেন। এখনো নিশ্চয় সেখানেই দাঁড়িয়ে আছেন। তাড়াহুড়া করে লোকটি দৌড়ে এলো নবীজির কাছে। যা ভেবেছেন তাই হয়েছে। তিন দিন পরও ওখানেই দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। লোকটিকে দেখেই, নবীজি বললেন, ভাই! তুমি তো আমাকে খুব কষ্ট দিয়ে ফেললে। এতটুকুই। কোনো রাগ নেই। ক্ষোভ নেই। ধমকও দেননি তাকে। এই হলো বিশ্বনবী। এই হলো আমাদের নবী।

হায়! যে নবী সত্যের জন্য মিথ্যার দুনিয়ায় আল-আমিন উপাধি পেয়েছিলেন, আমরা তাঁর উম্মত হয়ে আজ সেই সত্যকে ছেড়ে মিথ্যার পোশাক গায়ে জড়িয়ে নিয়েছি। কথায় কথায়, দরকারে-বিনা দরকারে মিথ্যা বলছি। মানুষ ঠকাচ্ছি। আবার শ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত বলে গর্বে পা মাটিতে ফেলছি না। নবীর উম্মত হওয়ার জন্য গর্ব তো তখনই করতে পারব যখন নবীজির মতো সত্যকে আঁকড়ে জীবন পরিচালনা করতে পারব। মিলাদুন্নবী উৎসব তো তখনই সার্থক হবে যখন নবীজির দুনিয়ায় আগমনের উদ্দেশ্য তথা সত্যকে আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারব। হে আল্লাহ! নবীজির মতো সত্যময় জীবন আমাদের দান করুন। মিথ্যার সঙ্গে আমাদের সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দিন।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে  কোরআন, চেয়ারম্যান : বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি।

      www.selimazadi.com


আপনার মন্তব্য