শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:০৪

মুসলমানের প্রাণ আল কোরআন

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

মুসলমানের প্রাণ আল কোরআন

পৃথিবীর মানুষের জন্য আল্লাহ রব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে সর্বশেষ গাইডবুক বা চলার পথের পাথেয় হলো আল কোরআন। কোরআনের আগেও ১০৩টি আসমানি গ্রন্থ মানুষের হেদায়াতের জন্য নাজিল করা হয়েছে। যতটুকু জানা যায়, পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলো একসঙ্গে নাজিল হয়েছে। এটাও জানা যায়, পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলো অস্থায়ী নির্দেশনার মতো ছিল। সময়ের চাহিদার আলোকে নতুন কিতাব এসেছে। কোরআনই একমাত্র আসমানি গ্রন্থ, যে গ্রন্থ একসঙ্গে নয়, অল্প অল্প করে প্রয়োজনমতো নাজিল হয়েছে। আর এ গ্রন্থ এমন এক গ্রন্থ যা আগের সব গ্রন্থকে একসঙ্গে করে কেয়ামত পর্যন্ত মানুষের হেদায়াতের আলোর মশাল হাতে মানবজাতির মুক্তির দুয়ারে দাঁড়িয়ে থাকবে। পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলোর মতো কোরআন একসঙ্গে নাজিল হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তখনকার অবিশ্বাসীরা নানান প্রশ্ন তুলেছে। কোরআনের ভাষায়, ‘অবিশ্বাসীরা বলে, হে মুহাম্মদ! কেন পুরো কোরআন তোমার ওপর একসঙ্গে নাজিল হয়নি? হে নবী! তাদের বলে দাও, আমি অল্প অল্প করে কোরআন এজন্য নাজিল করেছি, যাতে কোরআনের হেদায়াত তোমাদের মনকে ছুঁতে পারে। আর ওরা যত উদ্ভট প্রশ্ন নিয়েই আসুক না কেন, মুহূর্তেই যেন আমি তোমাকে সুন্দর জবাব ও ব্যাখ্যা জানিয়ে দিতে পারি।’ সূরা ফুরকান, আয়াত ৩৩। যেহেতু কোরআন সর্বশেষ চূড়ান্ত আসমানি কিতাব তাই অন্যান্য কিতাবের চেয়ে এ কিতাবের নাজিল পদ্ধতি একটু ভিন্নরকম হয়েছে। আমরা জানি, প্রতিটি আয়াত নাজিলের পেছনে কিছু না কিছু প্রেক্ষাপট থাকে। যেমন কেউ এসে প্রশ্ন করল, হে নবী! বলুন তো আল্লাহ কজন? তিনি আমাদের থেকে কী চান? তার ছেলেমেয়ে কজন? তখন আল্লাহ সূরা ইখলাস নাজিল করে বললেন, হে নবী! আপনি বলেন দিন, ‘আল্লাহ এক ও একক। তিনি কারও থেকে কিছু চান না। তিনি কাউকে জম্ম  দেননি। তাকেও কেউ জম্ম  দেয়নি। তার মতো কেউ নেই।’ সূরা ইখলাস।

আল্লাহতায়ালা চাইলে কোরআন একসঙ্গে একত্রে নাজিল করতে পারতেন। কারণ, পৃথিবী সৃষ্টিরও কোটি বছর আগে আল্লাহ কোরআন সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘দয়াময় আল্লাহ কোরআন শিখিয়েছেন। মানুষ সৃষ্টি করছেন।’ সূরা আর রাহমান, আয়াত ১-৩। এখান থেকে জানা যাচ্ছে, মানুষ সৃষ্টির আগেই কোরআন শেখানোর পদ্ধতি আল্লাহ করে রেখেছেন। তা ছাড়া পবিত্র কোরআন শবেকদরে একসঙ্গে প্রথম আকাশে নাজিল হয়। তারপর বিভিন্ন প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনের আলোকে দীর্ঘ ২৩ বছরে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অল্প অল্প করে কোরআন নাজিল করা হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে একজন কোরআন পাঠক বিব্রত হতে পারেন। তিনি কোরআনকে আর দশটি সাধারণ গ্রন্থের মতো মনে করে পড়তে বসবেন আর সমস্যায় পড়বেন। কেমন সমস্যা বলছি। আমার এক বন্ধু ফোন করে বললেন, ভাই! ইবরাহিম আর ইসমাইল নবীর কোরবানির ঘটনা তো সূরা ইবরাহিমে নেই। বন্ধুটি ঠিকই বলেছেন। আল কোরআনের ১৪ নম্বর সূরা ইবরাহিমে নবী ইবরাহিম ও ইসমাইলের কোরবানির ঘটনাটি নেই। আছে সূরা সাফফাতে। সূরাটির ক্রমিক নম্বর ৩৭। আমার বন্ধু ভেবেছিলেন, সাধারণ গ্রন্থে যেমন বিষয়সূচি থাকে, আর সেই সূচির আলোকে গ্রন্থে আলোচনা পাওয়া যাবে, তেমনি সূরার নামও মনে হয় বিষয়সূচি। কিন্তু না। সূরার নামগুলো অনেকটা প্রতীকের মতো। শুধু চেনার জন্য সূরার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার আলোকে নাম দেওয়া হয়েছে। যেমন সূরা বাকারাহ। বাকারাহ মানে গাভি। এ সূরায় গাভি নিয়ে অল্প কটি আয়াতে ছোট্ট করে একটি ঘটনা বলা হয়েছে। আর সূরাজুড়ে ধর্মের নানান প্রসঙ্গ বলা হয়েছে। বলছিলাম, কোরআন একসঙ্গে নাজিল হয়নি। এ বিষয়টি বুঝতে পারলে কোরআন পড়া-বোঝা আমাদের জন্য সহজ হবে। তখন এক সূরায় অনেক বিষয় আলোচনা দেখলে আমরা সহজেই বুঝতে পারব, একেক অংশ একেক সময় নাজিল হয়েছে। তাই একটি রুকুর সঙ্গে আরেক রুকুর আলোচনার মিল না-ও থাকতে পারে। মহান আল্লাহ আমাদের কোরআন বোঝার তাওফিক দিন।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাস্সিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। চেয়ারম্যান : বাংলাদেশ মুফাস্সির সোসাইটি।

www.selimazadi.com


আপনার মন্তব্য