শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:০০

রোহিঙ্গা বিড়ম্বনা

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঘুম ভাঙুক

রোহিঙ্গা বিড়ম্বনা

লাখ লাখ রোহিঙ্গার ভারে পর্যটনস্বর্গ কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া বৈশিষ্ট্য হারাতে বসেছে। এ এলাকার মানুষ স্বদেশেই এখন পরবাসী হয়ে পড়েছেন ‘রোহিঙ্গা আগ্রাসনে’। আজ থেকে ১৪ মাস আগে টেকনাফ, উখিয়ার চারদিকে ছিল সবুজ পাহাড়। পাহাড়ে ছিল গহিন অরণ্য। বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য এসব পাহাড়ে এখনো কিছুদূর পরপরই বন বিভাগের সতর্কতামূলক বিলবোর্ড চোখে পড়ে। কিন্তু মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ঠাঁই দিতে গিয়ে ভাঙাগড়ার মুখে পড়েছে টেকনাফ, উখিয়ার সবুজ পাহাড়। সময় গড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার পরিস্থিতিও পাল্টে গেছে। পাহাড় কেটে পাকা রাস্তা, কংক্রিটের ব্রিজ, আরসিসি পিলারের ভবন গড়ে তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে গড়ে উঠেছে হাটবাজার, বিপণিবিতান, স্কুল, মাদ্রাসা ও হাসপাতাল। সকাল-বিকাল শত শত দামি জিপ, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোর চলাচলে মুখরিত থাকে শিবির। কখনো কখনো দীর্ঘ যানজটেও পড়তে হয় পাহাড়ের বুক চিরে গড়ে ওঠা সড়কে। সন্ধ্যা হলেই বৈদ্যুতিক খুঁটির মাথায় জ্বলে ওঠে আলো। তখন এ এলাকাকে মনে হয় ঝলমলে এক জনপদ। আর এভাবে গড়ে উঠেছে নতুন এক নগরী, যা শুধু রোহিঙ্গাদের। উখিয়ার বালুখালী পশ্চিমপাড়া, জুমেরছড়া, থাইংখালীর লন্ডাখালী, ময়নারঘোনা, তাজনিরমারখোলা, কুতুপালংয়ের মধুরছড়া, লম্বাশিয়ার পাহাড়কে কেন্দ্র করে অবাঞ্ছিতভাবে ঘটেছে নতুন নগরী গড়ে ওঠার নানা ঘটনা। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের সময় বা তার কিছু পরে এসব স্থানে হাঁটুকাদা ডিঙিয়ে যেতে হতো। লাখ লাখ মানুষের প্রয়োজনে সে এলাকায় পাকা রাস্তাঘাট গড়ে ওঠায় উধাও হয়েছে সবুজ পরিবেশ। রোহিঙ্গাদের আগমন সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। বেপরোয়া রোহিঙ্গা অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘটিয়ে চলেছে একের পর এক অঘটন। মাদক ব্যবসায় এ জনগোষ্ঠীর বিপুলসংখ্যক লোক জড়িত। অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে রোহিঙ্গাদের একাংশের। বাংলাদেশের জন্য যা বিড়ম্বনা হয়ে দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশ এমনিতেই জনবহুল দেশ। নিজেদের মাথা গোঁজার স্থানের অভাব এ দেশে প্রকট। ১১ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা কক্সবাজারের পরিবেশকে যেমন দূষিয়ে তুলছে, তেমন জননিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে; যার অবসানে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙবেÑ এমনটিই প্রত্যাশিত।


আপনার মন্তব্য