শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:০৫

সড়কে অসুস্থ প্রতিযোগিতা

এ নৈরাজ্যের অবসান কাম্য

সড়কে অসুস্থ প্রতিযোগিতা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাস্তায় ওভারটেকিং নামের অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানোকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধের তাগিদ দিয়েছেন। বলেছেন, নিরাপদ সড়কের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, গাড়িচালক, পথচারী থেকে শুরু করে সব মানুষের। মঙ্গলবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস, ২০১৯’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেছেন, রাস্তা বিবেচনা করে সবাইকে গাড়ি চালাতে হবে। নকশা পরিবর্তন করে গাড়ি বড় করা যাবে না। আরেকটি গাড়ি যাওয়ার সাইড বিবেচনা করতে হবে। অনেকেই সিট বাড়ানোর জন্য পরিবহনের আকার বাড়ায়। এটা বন্ধ করতে হবে। পেছনে কোনো গাড়ি আছে কিনা, রাস্তার সাইড কতটুকু আছে, ভুল পথে গাড়ি চলছে কিনা এমন বিষয় মাথায় রেখে চালকদের গাড়ি চালাতে হবে। চালকদের অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নয় তো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পথচারীদেরও সচেতনভাবে চলতে হবে। শুধু চালকদের দোষ দিলে হবে না। চলাফেরায় সচেতন থাকতে হবে সবাইকে। দুর্ঘটনা ঘটলে দেখতে হবে দোষ আসলে কার। পথচারীদেরও দায়িত্ব আছে। যারা গাড়ি চালান তাদেরও দায়িত্ব আছে। নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তবে স্বীকার করতেই হবে, কথাগুলো পত্রপত্রিকা বা সংবাদমাধ্যমে বিভিন্নভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু যাদের এসব দেখভাল করার দায়িত্ব তারা কুম্ভকর্ণের ঘুমে থাকায় সড়ক নৈরাজ্যের অবসান ঘটছে না। বিশেষত, গাড়ির চালক ও মালিকদের সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের গোপন সমঝোতা না থাকলে ওভারটেকিং করে কারোর পার পাওয়ার কথা নয়। ফিটনেসবিহীন গাড়ির ভাগাড় হিসেবে রাজধানীর নতুন পরিচিতি গড়ে ওঠার যে আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে তা হওয়ার কথা নয়। আমরা আশা করব, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যগুলো যাতে ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন চালকরা মান্য করতে বাধ্য হন তা নিশ্চিত করা হবে। পরিবহন চালক ও মালিকদের দাসত্বের বদলে জনগণের সেবক হওয়ার মানসিকতা তারা যাতে অর্জন করেন তা নিশ্চিত করা জরুরি।


আপনার মন্তব্য